infixnatural.com/

ত্বকের যত্নে মসুর ডাল-১১ টি ব্যবহার

ত্বকের যত্নে মসুর ডাল

ত্বকের যত্নে মসুর ডাল রয়েছে বেশ কদর। কেবল বাঙালির হেঁশেলেই নয়, বহুকাল আগে থেকে বহুমুখী কার্যকারিতার সাথে রুপটানেও ব্যবহার হয়ে আসছে প্রোটিন সমৃদ্ধ এই ডাল। ত্বকের ধরণ এবং সমস্যা অনুযায়ী মসুর ডালের আছে নানাবিধ ব্যবহার এবং চমকপ্রদ ফলাফল।

মসুর ডালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, কার্বোহাইড্রেট, ডায়াটারি ফাইবার, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ, সি, ই, কে এবং থায়ামিন, যা নানাভাবে স্বাস্থ্য এবং ত্বকের উপকারে লেগে থাকে। সেই সঙ্গে ত্বকের ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিয়ে ত্বককে সুন্দর করে তুলতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ত্বকের যত্নে মসুর ডাল এর এতো ভালো কার্যকারিতার জন্য বহুকাল ধরেই এটি ঘরোয়া রূপচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে।

ফেস ও বডি ট্যান দূর করা থেকে শুরু করে মুখের বাড়তি রোম কমানো বা ত্বক এক্সফোলিয়েট করতে আজও মুসুর ডালের ব্যবহার করা হয়।

মসুর ডালে রয়েছে ভিটামিন সি যা ব্রণের দাগ, ছোপ ছোপ কালো দাগ এবং হাইপার-পিগমেন্টেশন দূর করতে সহায়ক।

এছাড়াও রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা অ্যান্টি-এজিং ফেক্টর হিসেবে কাজ করে ত্বককে রাখে টানটান এবং ত্বকে ফাইন লাইনস বা বলিরেখা পড়া প্রতিরোধ করে।

এছাড়াও ত্বকের যত্নে মসুর ডাল প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করে এই জনিত সকল সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

ত্বক এবং চুলের কোন সমস্যার জন্য মসুর ডাল কোনভাবে ব্যবহার করতে হবে তা নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।

এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে যে সকল বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন –

ত্বকের যত্নে মসুর ডাল কি কি কাজ করে,

অর্গানিক স্কিন কেয়ারে মসুর ডাল ব্যবহারের উপকারিতা,

ঘরোয়া রূপচর্চায় মসুর ডাল ব্যবহারের নিয়ম, 

ত্বক ফর্সা করতে মসুর ডালের ব্যবহার, 

ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্নে মসুর ডালের ৯ টি ফেসপ্যাক,

প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্নে মসুর ডাল, 

স্কিন কেয়ারে মসুর ডাল ব্যবহারে কিছু সর্তকতা।

ত্বকের যত্নে মসুর ডাল কি কি কাজ করে?

মসুর ডাল ত্বকের ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিয়ে ত্বককে সুন্দর করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বেশ কিছু স্টাডি-তে দেখা গেছে নিয়মিত মসুরের ডাল দিয়ে বানানো নানাবিধ ফেইস মাস্ক মুখে লাগালে ত্বকে প্রোটিনের ঘাটতি দূর হয়, যা অ্যান্টি-এজিং এর কাজ করে। এছাড়াও এটি ত্বকের ন্যাচারাল এক্সফলিয়েটর হিসেবে কাজ করে, ত্বককে উজ্জ্বল করে, ত্বকের শুষ্কতা দূর করে, ব্রণের সমস্যা কমায়, ত্বককে ডিপলী ক্লিন করে, মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করে।

অর্গানিক স্কিন কেয়ারে মসুর ডাল ব্যবহারের উপকারিতা :

ন্যাচারাল এক্সফোলিয়েটর : মসুর ডাল ত্বকের মরা চামড়ার স্তর দূর করে ত্বককে ন্যাচারালি এক্সফলিয়েট করতে কাজ করে।

ব্রণ এবং ছোপ ছোপ কালো দাগ দূর : মসুর ডালে উপস্থিত রয়েছে ভিটামিন সি যা ব্রণ থেকে হওয়া দাগ এবং ত্বকের ছোপ ছোপ দাগ দূর করে ত্বককে ইভেন করে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি : মসুর ডাল ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে দারুন কাজ করে। 

বয়সের ছাপ দূর করে : মসুর ডালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বয়সের ছাপ দূর করে। 

ন্যাচারাল ফেসওয়াস হিসেবে : মসুর ডাল দিয়ে ফেস ওয়াশ তৈরি করলে তা ত্বককে পরিষ্কার করার পাশাপাশি রোদে পোড়া ভাবও হালকা করে। 

ত্বককে কোমল এবং মসৃণ করতে : মসুর ডালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। এটি স্কিনের ড্রাইনেস দূর করে ত্বককে করে কোমল এবং মসৃণ। 

চুলের বৃদ্ধিতে : মসুর ডাল কেবল ত্বকই নয় চুলের যত্নেও এর রয়েছে অনেক গুনাগুন। চুলের গ্রোথ বাড়াতে এবং দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতেও এটি সহায়তা করে থাকে। 

হেয়ার কন্ডিশনার হিসেবে : মসুর ডাল চুলের ন্যাচারাল কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে।

ঘরোয়া রূপচর্চায় মসুর ডাল ব্যবহারের নিয়ম

ত্বককে মসুর ডালের কার্যকারিতা আরো বহুল অংশে বাড়িয়ে তুলতে এর সাথে আরও কিছু প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করা যেতে পারে। মসুর ডাল দিয়ে প্যাক তৈরি করার ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখতে হবে আপনার ত্বকের ধরন এবং সমস্যা। ত্বককের ধরন এবং সমস্যা অনুযায়ী মসুর ডালের সাথে চন্দন গুড়ো, মুলতানি মাটি, শসার রস, কমলার খোসা, টক দই, মধু, কাঁচা দুধ ইত্যাদি ব্যবহার করে খুব দ্রুতই ফলাফল পেতে পারেন। 

ত্বক ফর্সা করতে মসুর ডাল :

মসুর ডাল স্কিন ব্রাইটেনিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে, এতে আছে ভিটামিন-সি যা ত্বককে ফর্সা করে। এছাড়াও এতে রয়েছে ব্লিচিং প্রোপারটিস যা স্কিনটোনকে লাইট করে। দুই টেবিল চামচ মসুর ডাল সারারাত ভিজিয়ে সকালে ব্লেন্ড করে নিন। এবার এর সাথে পরিমাণ মতো কাঁচা দুধ যোগ করে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি নিয়মিত মুখে লাগালে ন্যাচারালি স্কিনটোন ব্রাইট হবে। 

ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্নে মসুর ডালের ৭টি ফেসপ্যাক:

১. প্রাকৃতিকভাবে ত্বক উজ্জ্বল করতে মসুর ডালের উপটান:

উপাদান : মসুর ডাল, টক দই, বেসন এবং কাঁচা হলুদ 

তৈরির নিয়ম : এক চা চামচ মসুর ডাল বাটা, এক চা চামচ বেসন এবং এক চা চামচ টক দই ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।এবার এতে এক চিমটি কাঁচা হলুদ যোগ করে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। 

যেভাবে ব্যবহার করবেন : মিশ্রণটি মুখে ১০-১৫ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে হালকা হাতার ম্যাসাজ করে তুলে ফেলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ফেইস এবং বডি ফেয়ারনেস বাড়াতে প্যাকটি সমানভাবে কার্যকর। 

২. হোমমেড স্কিন কেয়ারে ত্বকের ড্রাইনেস কমাতে :

উপাদান : মসুর ডাল ও মধু

তৈরির নিয়ম : এক চা চামচ এবং এক চা চামচ মসুর ডাল বাটা ভালোভাবে মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। 

যেভাবে ব্যবহার করবেন : প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন তারপর হালকা হাতে ম্যাসাজ করে প্যাকটি তুলে ফেলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মসুর ডাল আর মধু স্কিনের মৃতকোষ দূর করে স্কিনে সফটনেস আনতে খুবই এফেক্টিভ।

৩. মসুর ডালের ন্যাচারাল এক্সফলিয়েটর :

উপাদান : মসুর ডাল এবং কাঁচা দুধ 

তৈরির নিয়ম : এক চা চামচ মসুর ডাল বেটে এর সাথে এক চা চামচ কাচা দুধ মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন : পেস্টটি হাতে নিয়ে কোমল হাতে সার্কুলার মোশনে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মুখে মাসাজ করুন ২-৩ মিনিট তারপর মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। খেয়াল রাখবেন মুখে যেন একটুও লেগে না থাকে।

৪. মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে : 

উপাদান : মসুর ডাল বাটা, চালের গুড়ো, বেসন এবং আমন্ড অয়েল

ত্বকের যত্নে মসুর ডাল

তৈরির নিয়ম : এক চা চামচ মসুর ডাল বাটা, এক চা চামচ মিহি করা চালের গুড়া, এক চা চামচ বেসন এবং ২/৩ ফোটা আমন্ড অয়েল এক সাথে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন : প্যাকটি মুখে লাগিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিটের জন্য। শুকিয়ে গেলে ভেজা হাতে মুখে সার্কুলার মোসনে ম্যাসাজ করে তুলে ফেলুন এবং পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। 

৫. প্রাকৃতিক রূপচর্চায় ত্বককে ফর্সা করতে :

উপাদান : মসুর ডাল, কমলার খোসা এবং কাঁচা দুধ 

ত্বকের যত্নে মসুর ডাল

তৈরির নিয়ম : এক টেবিল চামচ মসুর ডাল বাটা এবং এক টেবিল চামচ চা কমলার খোসা বাটা ভালোভাবে মিশিয়ে এরমধ্যে পরিমান মতো দুধ মিশিয়ে একটি ঘন প্যাক তৈরি করে নিন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন : প্যাকটি ১৫ মিনিটের জন্য মুখে লাগিয়ে রাখুন এবং শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন। 

৬. ত্বকের যত্নে মসুর ডালের সানট্যান রিমুভাল প্যাক :

উপাদান : মসুর ডাল এবং কাঁচা দুধ 

তৈরির নিয়ম : ২ টেবিল চামচ মুসুর ডাল বাটা এবং দুই টেবিল চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে নিন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন : এই মিশ্রণটি মুখে, ঘাড়ে এবং রোদে পোড়া জায়গায় লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিটের জন্য। শুকিয়ে গেলে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে তুলে ফেলুন এবং পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। এই প্যাকটি রোদে পোড়া ভাব দূর করতে বেশ উপকারী। 

৭. মুখের কালো ও ছোপ ছোপ দাগ দূর করতে মসুর ডাল :

উপাদান : মসুর ডাল, আমন্ড অয়েল এবং কাঁচা দুধ 

তৈরির নিয়ম : ৫০ গ্রাম মসুর ডাল সারারাত ভিজিয়ে রেখে বেটে নিন। এবার এতে এক টেবিল চামচ কাঁচা দুধ এবং এক টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল যোগ করুন। ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন : মিশ্রনটি মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন তারপর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে দুই দিন প্যাকটি ব্যবহার করুন।

৮. ত্বকের শুষ্কতা ও ব্রণের প্রকোপ কমাতে :

উপাদান : মসুর ডাল এবং গাঁদা ফুল 

তৈরির নিয়ম : সমপরিমাণ মসুর ডালের পেস্ট এবং গাঁদা ফুল মিশিয়ে ভালো করে বেটে নিন। 

যেভাবে ব্যবহার করবেন : এই মিশ্রণটি মুখে কমপক্ষে ১৫ মিনিটের জন্য রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ব্রণের প্রকোপ কমাতে এবং ত্বককে নরম কোমল করতে এই প্যাকটি সাহায্য করে।

৯. ডীপ ক্লিঞ্জিংয়ে মসুর ডাল :

উপাদান : মসুর ডাল, কাঁচা দুধ, কাঁচা হলুদ এবং নারিকেল তেল 

তৈরির নিয়ম : এক টেবিল চামচ মসুর ডাল বাটা, দুই টেবিল চামচ কাঁচা দুধ, ৩ ফোঁটা নারিকেল তেল এবং এক চিমটি কাঁচা হলুদ মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন : মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ত্বককে পরিষ্কার করতে কাজ করে।

আরো জানতে পড়ে নিতে পারেন –

এই সম্পর্কিত কয়েকটি বেস্ট স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট হলো Rongon Herbals মসুর ডাল গুড়া, HerbsLand Pure & Natural Masoor Dal Facewash Powder, Organikaon Lentil Powder। 

চুলের যত্নে মসুর ডাল

রং করা চুলের যত্নে মসুর ডালের রয়েছে বিশেষ ব্যবহার। অনেক সময় চুল রং করার ফলে চুলের গোড়ায় থাকা গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মসুর ডালের তৈরি হেয়ার প্যাক মাথার ত্বককে পরিষ্কার করে গ্রন্থির মুখ খুলে দেয়। এক্ষেত্রে দুই টেবিল চামচ শর্ষেবাটা ও দুই টেবিল চামচ মসুর ডাল সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পাতলা পেস্ট করে নিন। এবার পরিষ্কার মাথার চুলের গোড়ায় এই পেস্টটি ব্যবহার করুন। এতে স্ক্যাল্প পরিষ্কার হবে। 

১. ন্যাচারাল শ্যাম্পু হিসেবে মসুর ডাল : 

মসুরের ডাল মিহি করে বেটে এতে দুই চা–চামচ বেকিং সোডা, একটি পুরো লেবু মিশিয়ে চুল পরিষ্কার করতে পারেন। তৈলাক্ত্ব ত্বকের জন্য এটি একটি ভালো প্রাকৃতিক শ্যাম্পু। 

ত্বকের যত্নে মসুর ডাল

২. মসুর ডাল ব্যবহার করে হেয়ার মাস্ক :

দুই টেবিল চামচ মসুর ডাল সারারাত ভিজিয়ে সকালে ব্লেন্ড করে নেন। এবার এতে এক টেবিল চামচ টক দই ও এক টেবিল চামচ মধু এবং সাথে ৫-৮ ফোটা আমন্ড অয়েল মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার চুলে এই হেয়ার মাস্কটি ৩০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার চুলকে পুষ্টি যোগাবে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখবে। 

ত্বকের যত্নে মসুর ডাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সর্তকতা :

মসুর ডালের ফেইসপ্যাক কখনোই মুখে ওভার ড্রাই করবেন না। 

ফেইসপ্যাক তৈরীর ক্ষেত্রে পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক আছে কিনা তা লক্ষ্য রাখুন। 

মসুর ডাল দিয়ে স্কিন এক্সফলিয়েট করার সময় লক্ষ্য রাখুন ত্বকে যাতে কোনো দানা না লাগে, এতে ওপেন পোরসের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। 

ফেইসপ্যাক রিমুভ করার সময় কখনই ত্বকে অতিরিক্ত ঘষামাজা করবেন না। 

মসুর ডালের ফেইসপ্যাক তৈরির জন্য ত্বকের ধরন এবং সমস্যা অনুযায়ী মুসুর ডালের সাথে অন্যান্য উপাদান নির্বাচন করুন।

প্রচুর পরিমাণে প্রোটিনসহ আরো অন্যান্য পুষ্টি উপাদানে ভরপুর হওয়ায় ত্বকের যত্নে মসুর ডালের রয়েছে অনেক উপকার। মসুর ডাল প্রায় সারা বছরই আমাদের রান্নাঘরে মজুদ থাকে, সহজলভ্য এবং দামেও অনেকটাই কম। কিন্তু সঠিক উপায়ে ব্যবহারে এটি হতে পারে আমাদের ত্বকের জন্য এক জাদুকরী উপকরণ। প্রাকৃতিক রূপচর্চায় মসুর ডাল ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের সর্বোচ্চ উন্নতি ঘটাতে ত্বকের ধরন এবং সমস্যা অনুযায়ী মসুর ডালের সাথে অন্যান্য উপাদান সঠিক অনুপাতে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে ব্যবহার করলে বেশ কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়। এছাড়া সঠিক উপায় জেনে ব্যবহারের মাধ্যমে এটি কেবল ত্বকই নয় বরং চুলের জন্যেও দারুণ কাজ করে।

FAQ :

ক) মসুর ডাল বাটা মুখে দিলে কি হয়? 

মসুর ডালের তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়, ত্বকের জমে থাকা ময়লা দূর হয়, সানট্যান রিমুভ হয়, ত্বকের দাগ-ছোপ দূর হয়, মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর হয়। 

খ) মসুর ডাল কি ত্বক ফর্সা করে? 

হ্যাঁ, মসুর ডালে রয়েছে ব্লিচিং প্রপারটিজ যা আপনার স্কিনটোনকে লাইট করতে সাহায্য করে। 

গ) মসুর ডাল কি ত্বকে প্রতিদিন ব্যবহার করা যায়? 

স্কিন সেনসিটিভ না হলে ন্যাচারাল ফেসওয়াস হিসেবে মসুর ডাল প্রতিদিন ব্যবহার করা যেতে পারে কিন্তু ফেসপ্যাক হিসেবে সপ্তাহে ২-৩ দিনের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment

Name

Home Shop Cart Account
Shopping Cart (0)

No products in the cart. No products in the cart.