প্রতিদিনকার দূষণে আর ত্বকের যত্নে অবহেলা রিংকেল সমস্যা ডেকে আনে। তাই আয়ুর্বেদিক উপায়ে রিংকেল সমাধান খুঁজে নেয়াই শ্রেয়।
আয়ুর্বেদিক উপায়ে রিংকেল সমস্যার সমাধান করতে চাইলে খুব বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সহজ কিছু উপকরণেই তা করা সম্ভব। অনেকেই ত্বকে বলিরেখা থেকে মুক্তি পেতে অ্যান্টি-এজিং ক্রিম ব্যবহার শুরু করেন। কিন্তু এসব পণ্য ব্যবহারে তেমন আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। প্রাকৃতিক রুপচর্চার পথ অনুসরণ করলে অবশ্য ভিন্নকথা।
আজ আমরা অরগানিক স্কিন কেয়ারের কিছু টোটকার সঙ্গে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব। পদ্ধতিগুলো সহজ এবং আপনার ত্বকের ওপর বিরূপ কোনো প্রভাবও ফেলবে না।
বলিরেখা হওয়ার কারণ স্বাভাবিক কিছু কারণ
আমাদের বয়স হওয়ার সঙ্গেই ত্বকেরও বয়স বাড়ে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমতে শুরু করে। তবে এখন নানা কারণে অল্প বয়সেই আমাদের ত্বকে বলিরেখা পড়তে পারে –
- মাত্রাতিরিক্ত দূষণ
- অনেকক্ষণ রোদে থাকা
- ঠিকভাবে ত্বকের যত্ন না নেওয়া
- ধূমপান
- ভিটামিন ডি-৩-এর অভাব
- অতিরিক্ত কসমেটিকস পণ্য ব্যবহার করা
- ঘন ঘন বিউটি প্রোডাক্ট বদলানো
- বালিশে মুখ পাশ ফিরে ঘুমানো
আয়ুর্বেদিক উপায়ে রিংকেল সমস্যার সমাধান
রূপচর্চায় প্রাকৃতিক উপাদানের কার্যকারিতা অস্বীকার করার উপায় নেই। যুগ যুগ ধরে সৌন্দর্যচর্চায় ফল, ফুলের পাপড়ি এমনকি প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। আজ আমরাও তেমন কিছু পদ্ধতি আপনাদের দেখিয়ে দিচ্ছি।
নারকেল তেল
লাইফকোর মতো নির্ভরযোগ্য সূত্র জানাচ্ছে, নারকেল তেলে ইতিবাচক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় তা ত্বকে বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। ত্বকে সরাসরি নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন।

উপকরণ
- এক চা চামচ অরগানিক নারকেল তেল
ব্যবহারবিধি
- নারকেল তেল নিয়ে চোখের চারপাশে, গলায়, ঠোঁটের চারপাশে ভাল করে মাসাজ করতে হবে।
- একবার ক্লকওয়াইজ এবং একবার অ্যান্টিক্লকওয়াইজ এভাবে ত্বকে মাসাজ করুন।
- সারা রাত রেখে পরদিন সকালে মাইল্ড কোনও ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
মনে রাখা জরুরি
প্রতিদিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে পাঁচ মিনিট মাসাজ করুন। কিছুদিনের মধ্যেই বলিরেখার অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবেন।
শশা
বলিরেখার অন্যতম কারণ হল ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে ইলাস্টিসিটি নষ্ট হয়ে যাওয়া। যেহেতু শশায় ৯৫%-ই জল, কাজেই ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে শশা দারুণ কাজ করে। এছাড়াও শশার মধ্যে রয়েছে নানা প্রাকৃতিক ভিটামিন ও খনিজ থাকায় বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে।
উপকরণ
- গোটা শশার রস
ব্যবহারবিধি
- শশার খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করতে হবে।
- একটি চামচের সাহায্যে শশার বীজ বের করে শশা থেতলে নিতে হবে।
- যেখানে যেখানে বলিরেখা দেখা দিয়েছে সেখানে শশার রস লাগিয়ে নিন।
- কিছুক্ষন পর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন
মনে রাখা জরুরি
প্রতিদিন শশার রস লাগালে খুব তাড়াতাড়ি বলিরেখা থেকে মুক্তি পাবেন।
ডিমের সাদা অংশ
সাশ্রয়ে ত্বকের বলিরেখা দূর করতে চাইলে ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
উপকরণ
- ডিমের সাদা অংশ

ব্যবহারবিধি
- ডিমের সাদা অংশ ভালো করে ফেটিয়ে নিন যাতে ক্রিম ক্রিমভাব তৈরি হয়।
- ক্রিমটি একটি ব্রাশের সাহায্যে মুখে, গলায় এবং ঘাড়ে লাগিয়ে নিন।
- শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানিতে একটি তোয়ালে ভিজিয়ে মুছে নিন।
মনে রাখা জরুরি
বলিরেখা বেশি হলে সপ্তাহে দু’দিন করে এই ঘরোয়া ফেসমাস্ক ব্যবহার করুন। আর অল্প বলিরেখা থাকলে সপ্তাহে একবার করে করুন।
কলা ও পেঁপে
পেঁপের মধ্যে প্যাপাইন নামে একটি এনজাইম রয়েছে যা ত্বকের ইলাস্টিসিটি বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে কলায় রয়েছে নানা ভিটামিন, যা ত্বকে ভিতর থেকে পুষ্টি যোগায় এবং ত্বকের আর্দ্রতাও বজায় রাখে। এই দুই ফলের সমন্বয়ে একটি ফেসপ্যাক করে নিলে ত্বকের বলিরেখা দূর হয়।

উপকরণ
- অর্ধেক পাকা কলা
- কয়েক টুকরো পাকা পেঁপে
ব্যবহারবিধি
- ব্লেন্ডারে পাকা কলা এবং পাকা পেঁপে ব্লেন্ড পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে।
- ত্বকের যে যে অংশে বলিরেখা দেখা দিয়েছে, সেখানে প্যাকটি লাগিয়ে নিন।
- আধঘন্টা অপেক্ষা করুন।
- এবার হালকা কুসুম গরম পানিতে প্যাক ধুয়ে আলতো করে ত্বক মুছে নিন।
- ত্বকের উপযোগী ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
মনে রাখা জরুরি
এই ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে তিনবার করে লাগান।
শিয়া বাটার
পেট্রোলিয়াম জেলির মতো, শিয়া বাটারও ত্বকে ময়শ্চার লক করতে সাহায্য করে।বিশেষত ত্বকের ইলাস্টিসিটি বাড়াতেও এটির জুড়ি নেই।

উপকরণ
এক চা চামচ শিয়া বাটার
ব্যবহারবিধি
- যেখানে যেখানে বলিরেখা বা রিংকেল রয়েছে সেখানে সার্কুলার মোশনে শিয়া বাটার মাসাজ করুন।
- মিনিট দশেক মাসাজ করে রেখে দিন।
- ব্যবহারের পর মুখ ধোওয়ার দরকার নেই। আপনি স্বাভাবিকভাবেই এটিকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ভাবুন।
মনে রাখা জরুরি
গোসলের পর একবার এবং রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একবার–দিনে এই দুবার প্রতিদিন শিয়া বাটার মাসাজ করলে খুব তাড়াতাড়ি বলিরেখা দূর হয়।
শেষ কিছু কথা
আয়ুর্বেদিক উপায়ে রিংকেল সমস্যার সমাধান করতে চাইলে খুব বেশি পরিশ্রমের প্রয়োজন পড়বে না। আপনাকে শুধু নিয়ম করে ত্বকের যত্ন নিতে হবে। ত্বকের যত্ন না নেয়ার কারণে অধিকাংশ সময় রিংকেল পড়ে। এখন থেকেই তাই সতর্ক হোন।



