infixnatural.com/

অরগানিক মশলা কি আসলেই ভালো?

অরগানিক মশলা কি আসলেই ভালো

অরগানিক মশলা কি আসলেই ভালো? শুধু স্বাদ বা গন্ধই নয়। অরগানিক মশলার স্বাস্থ্যগুণও আছে।অরগানিক মশলা কি আসলেই ভালো?

২০২৩-২৪ অর্থবছরে মার্কিন বাজারে অরগানিক মশলার বাজার ২৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌছানোর পর তো বিশ্বাস করতেই হয়। 

আমাদের দেশে সম্প্রতি খাবারের বিষয়ে অনেকেই কৌতূহলী হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। তবে বাজারে অরগানিক মশলা, ন্যাচারাল মশলা আর গুড়ো মশলা এই তিনের ফারাক এখনও অনেকে বোঝেন না। 

প্রাকৃতিক মশলা মানে সরাসরি ওই মশলা নয়। কোনো ধরনের প্রসেসিং ছাড়া সরাসরি মশলা পেলেই তা অরগানিক নয়। বরং তাকে বলতে পারেন প্রাকৃতিক। অরগানিকের হিসেব উৎপাদনের সঙ্গে। 

অবশ্যই অরগানিক মশলার দাম তুলনামূলক বেশি। তাছাড়া আরও কয়েকটি বিষয় রয়েছে যা অরগানিক মশলার ক্ষেত্রে জানা জরুরি। রসনাবিলাসরা তাদের ঘরোয়া রান্নায় যেহেতু দাম দিয়ে এসব মশলা আনতেই শুরু করেছেন, তাই আমাদের উচিত এ বিষয়ে আপনাদের নির্ভরযোগ্য ও ভালো কিছু বিষয় তুলে ধরা। 

অরগানিক মশলা কি? 

কৃষি প্রযুক্তির যত অগ্রগতি হয়েছে ততই উৎপাদনের আরও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। আর এ কাজ করতে গিয়ে কৃষি উৎপাদনে রাসায়নিকের ব্যবহার বেড়েছে।

পোকামাকড় দমনের জন্য কীটনাশকের ব্যবহার শুরু হয়েছে। আমরা সরে এসেছি আদিম কৃষিব্যবস্থা থেকে। 

একটি উদাহরণ দেই। থাইল্যান্ডে এক সময় পাম উৎপাদন হতো না। কারণ পাম উৎপাদনের ক্ষেত্রে কীট দিয়ে পরাগায়নের ব্যবহার জানা ছিল না।

আর এই পরাগায়নের জন্য মানুষকে অনেক সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হতো। 

এখন তো আর তেমন কিছুই প্রয়োজন হয় না। অরগানিক মশলা মূলত উৎপাদনের কৃত্রিম ও রাসায়নিক দিকটি বর্জন করে উৎপাদিত মশলা।  

প্রাকৃতিক মশলা বনাম অরগানিক মশলা

প্রাকৃতিক মশলার ক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও প্রসেসিং করার প্রয়োজন পড়ে। গুড়ো মশলা বা আপনার নুডলসে ব্যবহৃত টেস্ট মেকারও এক ধরনের প্রাকৃতিক মশলা। ফারাক হলো, সেটি প্রসেস করা। 

এই অরগানিক মশলা উৎপাদনে রাসায়নিক কোনো উপাদানই ব্যবহার করা হয় না। বরং কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের শ্রমের সমন্বয় করা হয়। আর এর উপকারি অনেক দিকও রয়েছে। 

অরগানিক মশলা কি আসলেই ভালো?

অরগানিক মশলা অবশ্যই ভালো। এই ধরনের মশলা উৎপাদনে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। তাই স্বাদ, ব্যবহার এমনকি এদের বাহ্যিক রূপেও অনেক পার্থক্য রয়েছে। 

এছাড়া অরগানিক মশলার কিছু ভালো দিক ও স্বাস্থ্যের উপকারিতার বিষয়গুলো বললে আপনারা বুঝতে পারবেন সহজেই। 

অরগানিক মশলার ঘ্রাণ

যেকোনো অরগানিক মশলার ঘ্রাণ অনেক বেশি থাকে। অরগানিক দারুচিনি আর প্রাকৃতিক দারুচিনির মধ্যে ঘ্রাণেই প্রথম পার্থক্য। 

মনে করুন, কেউ এলাচ চাষ করেন। তারা প্রাকৃতিক মশলা হিসেবেই বিক্রি করেন। এলাচের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এবং মাটিকে উপযুক্ত করতে প্রায়ই চাষী রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন। আবার এলাচে যেন পোকা না ধরে সেজন্য তাকে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। 

অন্যদিকে অরগানিক এলাচ চাষী জৈব সারই ব্যবহার করবেন। পোকার সমস্যা থাকলে নিজ হাতে তা সমাধানের চেষ্টা করবেন। মাটিতে তাই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণই এলাচ গাছ পায়। 

আর প্রকৃতির খেয়াল বা ঘ্রাণ কৃত্রিমভাবে আমরা কোনোদিনই নকল করতে পারিনি। তার প্রমাণ তো বুনো যেকোনো ফুল বা ফলের সঙ্গে কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত ফুলের সঙ্গে দেখাই যায়। এসব উদাহরণ দেয়ার উদ্দেশ্যই মূলত আপনাকে বোঝানো মূল পার্থক্য। আপনি হাতে ধরলেই বুঝতে পারবেন। 

সংরক্ষণ বেশিদিন করতে না পারলেও অসুবিধা নেই

অরগানিক মশলাতে কোনো প্রিজারভেটিভ দেয়া হয় না। তাই এই মশলা বেশিদিন শেলফে রাখা যায় না। নষ্ট হয়ে যায় বা পোকায় ধরে। 

তবে মশলা সংরক্ষণের ঘরোয়া অনেক পদ্ধতি রয়েছে। সেসব অনুসরণ করলে মশলার গুণগত মান ধরে রেখে মশলার উপকারিতা উপভোগ করতে পারবেন। অন্তত এটুকু নিশ্চয়তা পাচ্ছেন, ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক শরীরে যাচ্ছে না। 

প্রত্যাশা করাই যায় সব প্রয়োজনীয় খনিজ শরীরে পাবেন

মশলার গুণাগুণের কথা আমাদের অনেকেরই জানা। খাবারে হলুদ, রসুন, জিরা, আদার মতো মশলা ব্যবহারে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, প্রদাহ কমানোসহ আরও অনেক স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়া যায়। 

এখন সমস্যা হলো, আমরা বাজারে যে মশলা দোকান থেকে কিনি সেটি বাড়িতে এনে বেটে রাখতেই পারি।

কিন্তু ওইসব মশলা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত। তাই রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছেই।

সংরক্ষণে এমনকি অনেক সময় প্রয়োজনের অনেক আগেই এসব মশলা শুকিয়ে বা পাঁকানো হয়। 

অর্থাৎ, স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্যে এই মশলাগুলো যায়নি। যেহেতু যায়নি, তাই এসব মশলায় সব পুষ্টি উপাদানও সমানভাবে পাবেন না।

আর আমাদের শরীর সব খাবারই অ্যাবসর্ব করতে চায়। যখন রাসায়নিক পদার্থ থাকে তখন সব পুষ্টি উপাদান শরীর শোষণ করতে পারে না। 

অরগানিক মশলার ক্ষেত্রে এই একটি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। 

মেটাবলিজম রোগপ্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়

ওইতো। অরগানিক মশলায় রাসায়নিক কোনো উপাদান না থাকায় আপনার পেটে গোলমালের ব্যাপার নেই।

অরগানিক মশলা কি আসলেই ভালো?

আর সম্পূর্ণ প্রকৃতির পুষ্টি থাকায় আপনার শরীরও অনেক রিফ্রেশড হয়। সেটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 

শেষ কথা

অরগানিক মশলা কি আসলেই ভালো না-কি তার উত্তর ব্যবহারের আগে বুঝবেন না। শুধু ঘ্রাণ আর স্বাদই এই মশলার মূল লাভ না। 

একটা মজার তুলনা দেই। পাস্তুরাইজড দুধে তো পানি মেশানোই হয়। কিন্তু আপনি যদি কোনো খামার থেকে পানি না মেশানো দুধ আনাতে পারেন তাহলে তার স্বাদ, স্বাস্থ্য উপকারিতার পার্থক্য তো ঠিকই টের পান, তাইনা?অরগানিক মশলার ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা অমনই। শুধু স্বচ্ছ একটি ধারনায় আসা, আসলেই কি অরগানিক মশলায় আপনি শিফট করবেন কি-না। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment

Name

Home Shop Cart Account
Shopping Cart (0)

No products in the cart. No products in the cart.