গরমেও প্রাণবন্ত থাকবে ত্বক। প্রতিদিনের স্কিনকেয়ার রুটিনে যুক্ত করুন আমাদের পরিক্ষীত এই পরামর্শ। গরমেও প্রাণবন্ত থাকবে ত্বক
হয়তো আপনার মুখে কেমন অদ্ভুত জ্বলুনি অনুভব করছেন। ঘাম মুছতে মুছতে ত্বক লালচে দেখাচ্ছে। আবার অনেকের ত্বক যাচ্ছে কালচে হয়ে। বেশ বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর অবস্থা।
শুধু গ্রীষ্মই নয় বর্ষা ও শরতেও ত্বককে ভ্যাপসা পরিবেশ সহ্য করতে হয়। ভ্যাপসা গরমে র্যাশ, সানট্যান আর সারাদিনের ব্যস্ততার যন্ত্রণা। এসবকিছুর মধ্যে ত্বকের যত্ন নেয়ার সুযোগ কোথায়? প্রাকৃতিক রুপচর্চাই বলুন কিংবা ডেইলি স্কিনকেয়ার–আপনাকে একটা রুটিন গড়তেই হবে।
গরমের শাসনে ত্বকের স্বাভাবিকতা ধরে রাখা সহজ যদি আমাদের পরামর্শ কিছুটা হলেও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করতে শুরু করেন।
আজ আমরা গরমের সঙ্গে ত্বকের লড়াইয়ের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে কার্যকর একটি সাজেশান দিব।
গরমেও প্রাণবন্ত থাকবে ত্বক: মেনে চলুন আমাদের পরামর্শ
যেমনটি বলছিলাম। গরমেও আপনার ত্বকের যত্ন আপনি নিতে পারবেন এবং আপনার দৈনন্দিন জীবনে সময়ের ছন্দপতন হবে না। যারা ভাবেন স্কিনকেয়ার মানে অনেক সময় দেয়া তারা ভুল। আপনাকে সমন্বয়ের পথে যেতে হবে। এই যেমন–
ত্বক পরিষ্কার রাখুন
গরমে ত্বক পরিষ্কার রাখার একটি উপায় ত্বকের সারফেস শীতল রাখা। সেজন্য সকালে উঠে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। আমাদের একটি আলাদা কন্টেন্ট রয়েছে যেখানে আমরা দেখিয়েছি কিভাবে সকালে ঘুম ভাঙলে ত্বকের যত্ন নিতে হবে। চাইলে দেখে আসতে পারেন। এছাড়া সাধারন ও সহজ কিছু সাজেশান হলো।
- মুখ পরিষ্কার প্রতিদিন নিয়ম করে করুন।
- সকালে ব্যবহার করুন ডে ক্রিম। আর রাতে ঘুমোনোর আগে নাইট ক্রিম। যদি সুযোগ হয় ফেসপ্যাক ব্যবহারের তাহলে শুধু সানস্ক্রিনই যথেষ্ট।
- প্রতিদিন ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে হবে।
- ভালো ফেসিয়াল টিস্যু সঙ্গে রাখুন। বাইরে গরমে ত্বক যতটা সম্ভব শীতল রাখার চেষ্টা করুন। এভাবে ত্বকের ধূলো-ময়লা জমতে দেয়াতে বাধাও দেয়া হয়।
ভারি মেকাপ করবেন না
একেবারে বিশেষ উপলক্ষ না থাকলে ভ্যাপসা গরমে, গ্রীষ্মে ভুলেও ভারি মেকাপ ত্বকে ব্যবহার করবেন না। কেন? কারণগুলো সামান্য। এমনকি রেড অ্যাপল লিপস্টিকের এই লেখাটিও দুটো সোজাসাপটা উত্তর দিয়েছে। ভ্যাপসা গরমে ভারি মেকাপ ত্বকের জন্য অস্বস্তিরকর।

আর মুখের ত্বক গরম হলে মাথা ঘুরানো, বমি বমি ভাব, অসুস্থতাসহ অনেক অস্বস্তিকর বিষয় কাজ করে।
তাই গরমে হালকা মেকাপের লুকের ওপর নির্ভর করুন। আজকাল অনেক দারুণভাবে মেকাপ করা যায়। সেগুলোর দিকে মনোযোগ দিতে পারেন।
পর্যাপ্ত পানি পান
গরমে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম নির্গত হয়। পানিশূণ্যতা দূর করতে তো পানি পান করতেই হবে। পাশাপাশি পানি পান করার মাধ্যমে ত্বক ডিটক্স করা সম্ভব। ত্বক ডিটক্স করার প্রসঙ্গ এলেই মেডিক্যাল বিজ্ঞান অনুসারে তা সম্ভব নয়। তবে আপনার শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়ার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে পানি অনেক উপকারি। গরমের সময় ৭-৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। তবে অনেকে সারাদিনে ব্যালেন্স করে পানি পান করেন না। তবে পানি পানের মাধ্যমে ত্বকের ডিটক্সের কিছু যুক্তিসম্মত কারণও রয়েছে:
- অনেকে খাবার সময় একটানা পানি পান করেন যা মোটেও ভালো না। বরং অতিরিক্ত পানি পান করলে আপনার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
- পানিই সরাসরি না খেয়ে চিনিমুক্ত ফলের জ্যুস, ফল, ডাবের পানি, গ্লুকোজ, লেবুর শরবত এবং আঁখের রস পান করতে পারেন। এগুলো খেতে ভালো লাগে। তাছাড়া আপনি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জন্য মাঠা বা টক দইয়ের শরবত খেতে পারেন।
- দেখবেন ভালো লাগবে। পানিশূন্যতাও পূরণ হবে। ত্বকের জন্যও এগুলো ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। কারণ পানি বাদেও আপনার শরীরে মিনারেল, ভিটামিন এ, সি প্রবেশ করছে। শরীর থেকে টক্সিন বের হওয়া মানে ত্বকও ভালো থাকা।
ফেসিয়াল মিস্ট ব্যবহার করুন
গরমে ফেসিয়াল মিস্ট ব্যবহার করলে ত্বক শীতল হয়। ফেসিয়াল মিস্ট নামটি অনেক জটিল মনে হলেও বানানো অনেক সহজ। গোলাপজলের সঙ্গে পানি মিশিয়ে একটি বোতলে রাখুন।

যখন ভয়াবহ গরমে ত্বক জ্বলবে তখন ফেসিয়াল মিস্ট স্প্রে করুন। গোলাপজল ত্বক সতেজ করে।
গরমে অস্বস্তিকর ত্বক সামলাতে
গরমে বাইরে গেলেই আপনার ত্বক তৈলাক্ত হবে। তৈলাক্ত ভাব দূর করতে টমেটো এবং শসা ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করলেই হবে।
উপকরণ: টমেটো ও শসা

কার্যপ্রণালী
- টমেটো এবং শসা আলাদা আলাদা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে ছেঁকে বরফ জমানো পাত্রে বরফের মতো জমিয়ে নিন।
- সপ্তাহে ৪-৫ দিন শসার কিউব এবং টমেটোর কিউব মুখে আলতো করে ঘষে নিন।
টমেটো ন্যাচারাল ব্লিচ যা ত্বক উজ্জ্বল করে এবং ত্বকের বাড়তি তেল শুষে নেয়। এভাবে ব্লাক হেডস এবং ব্রণ দূরে রাখে। আর শসা ত্বক পরিষ্কার ও কোমল রাখবে।’
চোখের নিচের কালচে দাগগুলো ও ফাটা ঠোট দূর করতে
এক্ষেত্রে অনুসরণ করুন তিনটি মূল পরামর্শ:

- ‘গরমে চোখের নিচের কালচে দাগ দূর করতে রোজ রাতে ঘুমানোর আগে আলুর রস তুলায় লাগিয়ে চোখের কালচে অংশে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে নিন।
- শুধু শীতে নয়, এখন গরমেও অনেকের ঠোঁট ফেটে যাচ্ছে পানিশূণ্যতার কারণে। সে ক্ষেত্রে সাধারণ লিপ বামের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।
- অলিভ অয়েলের সঙ্গে নারিকেল তেল এবং সামান্য মধু মিলিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিলে ঠোঁট স্বাভাবিক ও নরম থাকবে।
নিয়মিত ফেসিয়াল করুন
গরমে ত্বকের যত্নে ফেসিয়াল অনেকটা বাধ্যতামূলক। তবে গরমের ফেসিয়াল একটু আলাদা। গরমে ত্বক সতেজ ও সুস্থ রাখতে উপযোগী ফেসিয়াল হচ্ছে নিম, অ্যালোভেরা, গোল্ড, স্পা প্রভৃতি। ফ্রুটস ফেসিয়ালও মন্দ হয় না। সমস্যা হলো, গরমে ফ্রুটস ফেসিয়ালে অনেকের র্যাশ উঠতে দেখা যায়। তাই ফ্রুটস ফেসিয়াল করতে চাইলে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। ত্বকের ধরন বুঝে সামার ফেসিয়াল করা যেতে পারে।
ফেসিয়াল করার ক্ষেত্রে কিছু টিপস
- প্রথম ভালোভাবে মুখ ধুয়ে নিন।
- আঙুলের ডগায় ক্লিনজার লাগিয়ে নিচ থেকে ওপরে এবং বাইরে থেকে ভেতরে সার্কুলার মুভমেন্টে ২-৩ মিনিট ম্যাসাজ করুন।
- ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ মুছে নিন।
- ফেসিয়াল স্ক্রাব চোখ ও ঠোঁট বাদে ত্বকের অন্য অংশে লাগিয়ে ২ মিনিট ম্যাসাজ করুন।
- মুখ ধুয়ে গরম পানির ওপরে মুখ রেখে তোয়ালে দিয়ে ঢেকে ভাপ নিন। ৩-৫ মিনিট পর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
- ত্বকের ধরন অনুযায়ী সামার ফেসিয়াল মাস্ক ব্যবহার করুন। ১০-১৫ মিনিট পর ভেজা তুলায় টোনার নিয়ে চোখের চারপাশের ত্বক ও ঠোঁট বাদে ত্বকের অন্য অংশ টোনিং করে নিন।
- সবশেষে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
শেষ কথা
গরমেও প্রাণবন্ত থাকবে ত্বক যদি আপনি অস্বস্তিতে ঝিম মেরে না দেন। প্রথমেই বলেছি। গরমের স্কিনকেয়ার বা অর্গানিক রুপচর্চা অত জটিল না। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই হবে।



