infixnatural.com/

অ্যারাবিক ব্যায়াম এর গুরুত্ব

অ্যারাবিক ব্যায়াম এর সাথে আমরা কম বেশি পরিচিত আছি। নিজেদের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার মহা ঔষধ হিসেবে কাজ করে ব্যায়াম। এই লেখাটিতে অ্যারাবিক ব্যায়াম এর গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

অ্যারোবিক ব্যায়াম বা সবাত ব্যায়াম ও কার্ডিও ব্যায়াম, যে নামেই চিনেন না কেনো এর কার্যকারিতা গুলো আমাদের শরীর, শ্বাস – প্রশ্বাস বা হৃদস্পন্দন এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন এর মাত্রা বৃদ্ধি বা হৃদপিণ্ডের পেশিকে শক্তিশালী ও ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করতে এই ব্যায়াম অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।

অ্যারোবিক ব্যায়াম কি?

এই অ্যারোবিক শব্দের অৰ্থ হলো “অক্সিজেন সহ” বা অক্সিজেন সরবরাহ। অর্থাৎ অ্যারোবিক ব্যায়াম এর মাধ্যমে শরীরের ফুসফুস সহ বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গে যেভাবে অক্সিজেন বৃদ্ধি পাই সেটাই এর মূল বৈশিষ্ট। 

মূলত অ্যারোবিক ব্যায়াম হল এক ধরনের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ যা আপনার হৃদয় এবং ফুসফুসকে শক্তিশালী করবে এবং আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

এই ব্যায়াম গুলো সাধারণত অনেক ধরণের হয়ে থাকে যেমন, স্পিনিং, জগিং, এবং নাচ। অ্যারোবিক জিমগুলিতে প্রায়ই ট্রেডমিল, স্টেপ প্লেয়ার, এবং ইলিপটিক্যাল মেশিন থাকে। নিচে আমরা দেখবো কিভাবে এই ব্যায়াম এর মাধ্যমে আপনি একটি সু-স্বাস্থ গঠন করতে পারেন।

অ্যারোবিক ব্যায়াম গুলো কি কি

বর্তমান সময়ে অনেকগুলো অ্যারাবিক ব্যায়াম প্রচলিত রয়েছে। তবে তার মধ্য থেকে সেরা কিছু অ্যারাবিক ব্যায়াম হলঃ

  • হাটা
  • জগিং করা
  • রানিং করা
  • হাইকিং করা
  • সাঁতার কাটা
  • দড়িলাফ
  • খেলাধুলা করা
  • রোলারব্লেডিং করা, ইত্যাদি।

অ্যারাবিক ব্যায়াম এর সুবিধা সমূহ

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অ্যারাবিক ব্যায়াম এই গুরুত্ব অনেক। এই ব্যায়ামের ফলে আমাদের শরীর ও মন সুস্থ থাকে এবং আমরা মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তি অনুভব করি। চলুন জেনে নেই অ্যারাবিক ব্যায়াম এর সুবিধা সমূহ সম্পর্কে।

১.হৃদয় এবং ফুসফুসকে শক্তিশালী করে

অ্যারোবিক ব্যায়াম আপনার হৃদয় এবং ফুসফুসের পেশীগুলিকে শক্তিশালী করবে, যা আপনার রক্তে আরও বেশি অক্সিজেন গ্রহণ করতে এবং কার্বোহাইড্রেট পোড়াতে সক্ষম হবে। হার্টকে আরও দক্ষতার সাথে কাজ করতে এবং ফুসফুসে আরও বেশি অক্সিজেন গ্রহণ করতে সহায়তা করবে।

২.ওজন কমাতে সাহায্য করে

এই ব্যায়াম আপনাকে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করবে, যা ওজন হ্রাস করতে সহায়ক। আপনি যদি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাহলে আপনি আপনার ওজন কমাতে বা বজায় রাখতে পারবেন।

৩.শক্তি এবং সহনশীলতা বাড়ায়

এই ব্যায়াম আপনার পেশীগুলিকে শক্তিশালী করবে এবং আপনার শরীরকে ক্লান্ত না হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে সক্ষম করবে। এটি আপনাকে দৈনন্দিন কাজে আরও বেশি শক্তিশালী এবং সহনশীল করে তুলবে।

৪.স্ট্রেস কমায়

এই ব্যায়াম আপনার দেহে হরমোনগুলির নিঃসরণ বাড়ায়, যা স্ট্রেস হ্রাস করতে এবং আপনার মেজাজ কমাতে সাহায্য করবে। এটি আপনাকে আরও শান্ত এবং ভারসাম্যপূর্ণ বোধ করাবে।

৫.ঘুমের মান উন্নত করে

ব্যায়াম আপনার শরীরকে ক্লান্ত করে, যা আপনাকে ঘুমাতে সহায়তা করে। এটি আপনাকে আরও ভাল ঘুম পেতে সাহায্য করবে। অ্যারাবিক ব্যায়াম করার ফলে শরীর থেকে বিভিন্ন ধরনের অর্গান নির্গত হয়, এর ফলে আমাদের ঘুমের মান উন্নত হয়।

৬.ডায়াবেটিক্স নিয়ন্ত্রণে রাখে

এই ব্যায়াম ডায়াবেটিক্স এর জন্য একটি ভালো প্রতিরোধ হিসাবে কাজ করে। শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়, যা ডায়াবেটিক্স নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হিসাবে কাজ করবে।

অ্যারাবিক ব্যায়াম

এটি আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখবে এবং ডায়াবেটিক্সের জটিলতাগুলি হ্রাস করতে সাহায্য করবে।

৭.ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

প্রতিদিন এই ব্যায়াম করলে কিছু ধরণের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমতে পারে। এটি আপনার শরীরের কোষগুলিকে ক্ষতিকারক প্রদাহ থেকে রক্ষা করবে এবং আপনার ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

৮.মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে

অ্যারোবিক ব্যায়াম আপনার মস্তিষ্কের রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়ায় এবং নতুন নিউরন বৃদ্ধি করে। এটি আপনার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করবে এবং আপনার স্মৃতি, মনোযোগ এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

অ্যারাবিক ব্যায়াম

এই ব্যায়াম করার সঠিক উপায়?

একটি ব্যায়াম এর উপকারিতা অনেক গুলো থাকতে পারে কিন্তু সেই ব্যায়াম কিভাবে করতে হবে সেটা যদি সঠিক ভাবে জানা না থাকে তাহলে সমস্যা হতে পারে। তাই চলুন জেনে নেই কিভাবে আমরা এই ব্যায়ামটা করতে পারি।

সবচেয়ে কার্যকর হবে যখন আপনি এটি নিয়মিত করবেন। আপনি যদি সপ্তাহে ৩-৫ দিন এই ব্যায়াম করেন, তাহলে আপনি সর্বোত্তম ফলাফল পাবেন। এই ব্যায়াম কতটা তীব্র হবে তা আপনার ফিটনেস স্তর এবং লক্ষ্যগুলির উপর নির্ভর করবে। যদি আপনি নতুন ব্যায়াম শুরু করেন, তাহলে শুরুতে কম তীব্রতায় ব্যায়াম করুন (২০-৩০) মিনিট এবং ধীরে ধীরে তীব্রতা বাড়ান।

ব্যায়ামটি আরও কার্যকর হবে যদি আপনি এটি একটি সময়সূচী অনুসরণ করেন। যেহেতু এইটার মাধ্যমে আপনি আপনার সু-স্বাস্থ ধরে রাখতে চান তাই এই ব্যায়াম প্রতিদিন করতে হবে। আপনার পছন্দ মতো একটি ব্যায়াম বেছে নিতে হবে।

আপনি একসাথে সকল ব্যায়াম করতে পারবেন না এবং সকল ব্যায়াম আপনার পছন্দ হবে না। তাই আপনার যেইটা পছন্দ সেইটা বেছে নিয়ে প্রতিদিন সেই ব্যায়াম টাই করুন। সঙ্গীর সাথে ব্যায়াম করা আপনাকে আরও অনুপ্রাণিত করতে পারে এবং আপনাকে নিয়মিত ব্যায়াম করতে সহায়তা করতে পারে।

আপনি যদি নতুন ব্যায়াম শুরু করেন, তাহলে ধীরে ধীরে ব্যায়ামের তীব্রতা বাড়ান। প্রথম অবস্থায় প্রতিদিন (২০-৩০) মিনিট ২ বা ৩ ধাপে এবং ধীরে ধীরে (১-২) ঘন্টা করুন। যদি আপনি ব্যায়াম করার সময় ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে থেমে যান এবং বিশ্রাম নিন। জোর করে কখনো এই ব্যায়াম করবেন না, এতে আপনার শরীর এর ক্ষতি হতে পারে।

অ্যারাবিক ব্যায়াম সম্পর্কে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের কিছু পরামর্শ

সু-স্বাস্থ গঠনের জন্য ব্যায়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এই ব্যায়াম সম্পর্কে বিশেষজ্ঞবৃন্দ বা যারা এক্সপার্ট রয়েছেন তারা কি বলেন সেই সম্পর্কে চলুন জেনে নেই।

  • প্রতিদিন সকালে ও বিকালে ব্যায়াম করার চেষ্টা করা। কারণ এই সময়ে আমাদের রক্ত সঞ্চালন ও মস্তিস্ক সব থেকে বেশি সচল থাকে।
  • প্রতিদিন সকালে গরম পানির সাথে লেবুর রস অথবা শুধু এক গ্লাস পরিষ্কার পানি পান করতে হবে। এর মাধ্যমে আমাদের শরীর এর পানির স্বল্পতা ও অতিরিক্ত মেদ দূর হবে।
  • একবারে খুব বেশিক্ষন ব্যায়াম না করা। এক সাথে অনেক্ষন যাবৎ ব্যায়াম করলে সেটা বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এর জন্য একটু থেমে থেমে ধীরে ধীরে ব্যায়াম করতে হবে।
  • ব্যায়াম করার সময় মনে আনন্দ নিয়ে ব্যায়াম করতে হবে। এর মাধ্যমে শরীর এর হরমোন গুলো আরো প্রসারিত হবে এবং সু-স্বাস্থ বজায় থাকবে।

অ্যারোবিক ব্যায়াম কাদের করা উচিত?

একটি সুস্থ দেহ সবাই চাই কিন্তু তার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। ছোট থেকে বড় সকল বয়স এর মানুষদের জন্য ব্যায়াম করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম এর মাধ্যমে যে শুধু শরীর ভালো হয় তাই নয় বরং মন অনেক ভালো থাকে।

টেনশন মুক্ত রাখে এবং মস্তিক এর নিউরোন গুলো আরো বৃদ্ধি করে। একজন কর্মজীবী মানুষ বা বয়স্ক মানুষ অথবা যুবক, শিশু কিংবা নারী, সকলের জীবনে অ্যারাবিক ব্যায়াম এর গুরুত্ব অনেক। সব বয়সের মানুষের জন্য আলাদা আলাদা ব্যায়াম এর নিয়ম রয়েছে যা নিকটস্থ যেকোনো ডাক্তার এর কাছে থেকে পরামর্শ নিয়ে প্রতিদিন চালিয়ে যাওয়া উচিত।

শেষ কথা

এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমি আপনাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি অ্যারাবিক ব্যায়াম এর গুরুত্ব কি? এবং কিভাবে এই ব্যায়াম করবেন এবং কাদের জন্য এই ব্যায়াম গুলো প্রযোজ্য। এখানে আমরা সব কিছু বিভিন্ন রিসার্চ এবং এক্সপেরিমেন্ট এর উপর যাচাই করে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment

Name

Home Shop Cart Account
Shopping Cart (0)

No products in the cart. No products in the cart.