আয়ুর্বেদিক উপায়ে ব্রণের সমস্যার সমাধান একাধিক। কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই নিস্তার পান ব্রণ থেকে। আয়ুর্বেদিক উপায়ে ব্রনের সমস্যার সমাধান যেমন হয় তেমনি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কোনো ভয় থাকে না। ব্রণ হবার একটি অন্যতম কারণ হল অপরিষ্কার ত্বক।
তাই ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিত স্ক্রাবিং ত্বককে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। প্রসাধনী সামগ্রীর ব্যবহারে খরচের বাহার থাকে অনেক। তবে প্রাকৃতিক রুপচর্চার ওপর নির্ভর করলে এত সমস্যা হয় না। আজ আমরা আপনাদের ঘরোয়া উপায়ে ব্রণ সমস্যা সমাধানের কিছু সহজ পদ্ধতি দেখিয়ে দেব।
আয়ুর্বেদিক উপায়ে ব্রণ সমস্যার সমাধানের উপায়
সামান্য কিছু উপকরণ ব্যবহারেই প্রাথমিকভাবে ব্রণ সমস্যার সমাধান করা উচিত। নানা ফেসপ্যাক বানাতে গেলে অনেক সমস্যা। তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধানে এই কটি সমাধানের ওপর নির্ভর করুন।
পাকা পেঁপের ব্যবহার
পাঁকা পেপেতে যেহেতু প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে তাই ত্বকের ময়লা দূর করে ত্বককে প্রাণবন্ত করতে সাহায্য করে।

ব্যবহারবিধি
- পাঁকা পেপে কেটে ভালোভাবে চটকে নিন (এক কাপ সমপরিমাণ)।
- চটকে নেয়া পেঁপের সঙ্গে এক চামচ পাতিলেবুর রস এবং প্রয়োজন মতো চালের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন।
- মিশ্রণটি মুখ-সহ গোটা শরীরে লাগান।
- ২০-২৫ মিনিট মাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।
- টানা তিনদিন ব্যবহার করে দেখুন।
পুদিনা পাতার আইস কিউব
পুদিনা পাতার ব্যবহারে বহুদিন ধরেই ব্রণর সমস্যার সমাধান হয়। বিশেষত জ্বালাপোড়াও দূর করে।
ব্যবহারবিধি
- পুদিনা পাতা ভালমতো ধুয়ে রস করে নিন।
- এই রস দিয়ে আইস কিউব তৈরি করুন।
- ফুসকুড়ি ও ব্রণের ওপর এই আইস কিউব সার্কুলার মোশনে ঘষুন অন্তত ১০-১৫ মিনিট।
- ফুসকুড়ি ও ব্রণের সংক্রমণ ছড়ানো কমে যাবে। আর সঙ্গে ত্বকের জ্বালাপোড়া ভাব থাকলেও দূর হবে।
লবঙ্গের তেল ও ফেসপ্যাক
লবঙ্গেও রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা আপনার ত্বকের ব্রণ দূর করে এবং প্রতিহত করে।

ব্যবহারবিধি
- লবঙ্গের তেল দিয়ে ত্বক মাসাজ করলে প্রাথমিক পর্যায়ে ব্রণর সমস্যা দূর হয়।
- কিন্তু ত্বকে ব্রণের সংক্রমণ বেড়ে গেলে লবঙ্গ গুঁড়ো করুন এবং তাতে গোলাপ জল মেশান।
- ব্রণের জায়গাগুলোতে মিশ্রণের মোটা প্রলেপ দিন।
- ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
- টানা এক সপ্তাহ ব্যবহার করুন
কাঁচা কদবেলের রস
ব্রণর সমস্যা উঁকি দিতে শুরু করেছে যাদের তাদের জন্য এই পদ্ধতি।

ব্যবহারবিধি
- কাঁচা কদবেলের রস তুলাতে ভিজিয়ে ব্রণ আক্রান্ত জায়গাগুলোতে লাগান।
- ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
- প্রথম প্রথম ব্রণর সমস্যা দেখা দিলে এই পদ্ধতি কার্যকর সমাধান দেবে।
পাতিলেবুর রস
লেবু অনেকের ত্বকের জন্য সংবেদনশীল হলেও সঠিক ব্যবহারে ঠিকই উপকার মিলে।
ব্যবহারবিধি
- ব্রণর সমস্যা অনেক বেশি হলে পাতিলেবুর রস দিনে দু’তিনবার ব্রণর জায়গাগুলোতে লাগান।
- ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ভুলেও ১০ মিনিটের বেশি রাখবেন না। তাহলে র্যাশ হবে।
- ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- সপ্তাহে তিনদিন ব্যবহার করুন।
জীবাণুনাশক নিমপাতা
ব্রণর সমস্যা সমাধানে নিমের এই দুটি পদ্ধতি কাজে আসবে।

প্রথম পদ্ধতি
নিমপাতা বেটে সঙ্গে চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট করুন।
এই মিশ্রণ ত্বকে সার্কুলার মোশনে মাসাজ করে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করলেই হবে।
দ্বিতীয় পদ্ধতি
- ১ লিটার পানিতে ২৫০ গ্রাম টাটকা নিমপাতা দিন।
- পানি শুকিয়ে অর্ধেক না হওয়া পর্যন্ত জ্বাল দিতে থাকুন।
- এই পানিছেঁকে ঠান্ডা করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
- প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই পানি পান করলে ব্রণ হবার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যাবে।
গোলাপ জলের মিশ্র
- দারুচিনি গুঁড়োর সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন।
- এই মিশ্রণ ব্রণের ওপর লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
- সপ্তাহে দুদিন চেষ্টা করে দেখুন।
ব্রণর সমস্যা থেকে দূরে থাকতে
আসছে শীত। এই সময় ব্রণর সমস্যা থেকে দূরে থাকতে চাইলে এই কটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন:
মধুর ফেসওয়াশ
মধুর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বককে ব্রণ মুক্ত করে। তাছাড়া মধু ত্বকের আদ্রর্তা ধরে রাখে এবং ত্বককে অতিরিক্ত তেল থেকে মুক্ত করে।
ব্যবহারবিধি
- প্রথমে হাত ভিজিয়ে নিন।
- এবার হাতের তালুতে আধা চা চামচ মধু নিতে হবে।
- হাতের তালু ঘষে মধু গরম করে নিন।
- এরপর পুরো মুখে মধু ম্যাসাজ করুন ২ মিনিট ধরে।
- ঠান্ডা পানি দিয়ে পুরো মুখ ধুয়ে নিন কয়েকবার করে।
জলপাই তেল ম্যাসাজ
আপনার ত্বক তৈলাক্ত কিংবা শুষ্ক যাই হোক না কেনো প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে জলপাই তেল দিয়ে ত্বক মাসাজ করলে ব্রণর উপদ্রব কমে।
ব্যবহারবিধি
- প্রথমে হাতের তালুতে জলপাই তেল নিয়ে দুই হাতে ঘষে তেল কিছুটা গরম করে নিন।
- পুরো মুখে তেল ভালো করে ম্যাসাজ করে নিন নিচের থেকে উপরের দিকে।
- এভাবে প্রায় ২ মিনিট ধরে মুখ ম্যাসাজ করুন। এবং খেয়াল করুন ময়লা উঠে আসছে।
- কুসুম গরম পানিতে টাওয়েল ভিজিয়ে মুখের অতিরিক্ত তেল মুছে নিন ভালো করে।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
তৈলাক্ত ত্বকেই যেহেতু ব্রণ বেশি জ্বালায় তাই এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
ব্যবহারবিধি
- শসা প্রথমে রস করে নিতে হবে। ছাল-বাকল রাখবেন না। ব্লেন্ড করুন।
- মধু, লেবুর রস শসার রসের সঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন।
- তুলার প্যাড দিয়ে মুখে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন ৩০ মিনিট।
- এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
- এই প্যাক নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বক উজ্জল হবে এবং দাগ কমে আসবে।
আমাদের কথা
আয়ুর্বেদিক উপায়ে ব্রনের সমস্যার সমাধান কম নয়। শুধু আপনাকে বাছাই করতে হবে আপনি নিয়মিত সতর্কতা অবলম্বন করে করতে পারবেন কি-না। আমরা আপনায় অনেকগুলো পদ্ধতি দেখিয়েছি। আশা করি কাজে আসবে।



