infixnatural.com/

ত্বক ও চুলের যত্নে গাজর

ত্বক ও চুলের যত্নে গাজর

ত্বক ও চুলের যত্নে গাজর কতটা কার্যকর? উত্তর, অনেক কার্যকর যদি আপনি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানেন। আর এই ব্যবহার পদ্ধতি জানাতেই আমাদের আজকের আয়োজন। 

প্রাকৃতিক রুপচর্চায় গাজর সম্প্রতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

গাজর খেয়ে যেমন ত্বক ও চুলের যত্ন নেয়া যায় তেমনি আপনার ত্বকে সরাসরি নানাভাবে ব্যবহার করেও গাজরের উপকারিতা উপভোগ করতে পারবেন। 

গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ। ভিটামিন এ ত্বক, চোখের স্বাস্থ্য এবং আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

ত্বক ও চুলের যত্নে গাজর তাই অন্যতম প্রাকৃতিক পদ্ধতি বলে স্বীকৃত।

আপনার নিয়মিত ডায়েটে গাজর যোগ করলে এর সুফল দ্রুতই উপভোগ করবেন। 

তবে গাজর থেকে যদি স্বল্প সময়ে ত্বকের লাবণ্য ফিরিয়ে আনতে চান এবং গাজরের ব্যবহারে যদি দ্রুত ফল পেতে চান তাহলে ঘরোয়া কিছু টোটকা অনুসরণ করতে হবে।

হতে পারে স্ক্রাব হিসেবে অথবা ফেসিয়াল মাস্ক বানিয়ে নিতে পারেন। আজ আমরা এমনই ১১টি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবো।

পাশাপাশি গাজরের উপকারিতার বিষয়টিও থাকবে আলোচনায়। 

এই লেখাটি পড়ে যা জানতে পারবেন

  • ত্বক ও চুলের যত্নে গাজরের ব্যবহারের সাধারন বিষয়
  • কিভাবে গাজর ত্বক ও চুলের যত্নে ব্যবহার করবেন
  • ত্বক ও চুলের যত্নে গাজর ও গাজরের তেলের ১১টি পদ্ধতি

ত্বক ও চুলের যত্নে গাজর কতটা কার্যকর?

গাজরে ত্বক ও চুলের জন্য প্রয়োজনীয় দুটো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন রয়েছে–ভিটামিন এ এবং ই। এই দুটো ভিটামিনই চুলকে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেয়।

বিশেষত ভিটামিন এ আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। 

ত্বক ও চুলের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি।

ভিটামিন এ আমাদের ত্বকে মেলানিন উৎপাদনে সাহায্য করে। পাশাপাশি ভিটামিন এ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যায়।

ফলে এই ভিটামিন রক্তের সঙ্গে মিশে সারা শরীরে উৎপাদিত দূষিত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।

অর্থাৎ গাজরের মাধ্যমে চুল ও ত্বকে পরিবেশগত দূষণের প্রভাব ঠেকানো যায়। 

ন্যাচারাল স্কিন কেয়ার হিসেবে সম্প্রতি গাজরের তেলও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। যদিও আমাদের দেশে এখনও এই ধরনের এরোম্যাটিক তেলের জনপ্রিয়তা বাড়েনি।

তবে অনেক বিউটি শপই এই ধরনের পণ্য আমদানি করে। 

অন্য যেকোনো ভেজিটেবল অয়েলের মতো অবশ্য গাজরের তেল নয়।

এই তেল শুধু তেল ও ত্বকে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। সম্প্রতি এই তেলের ওপর গবেষণাও হয়েছে।

গবেষণায় জানা গেছে, শুষ্ক স্ক্যাল্পের সমস্যার ক্ষেত্রে গাজরের তেল কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

ফ্রিজি চুলের সমস্যা রয়েছে যাদের তারাও এই তেল ব্যবহারে উপকার পেয়েছেন। 

চুল ও ত্বকের  যত্ন কিভাবে ব্যবহার করবেন গাজর?

একটু আগেই ত্বক ও চুলের যত্নে গাজরের তেলের ব্যবহারের কথা বলেছি। সমস্যা হলো, গাজরের বীজ থেকে এই তেল বের করার প্রক্রিয়াটি ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।

তাছাড়া আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় রসদ নাও থাকতে পারে। 

সেজন্য আপনাকে অরগানিক ক্যারট সিড অয়েল কিনে নিতে হবে। যেহেতু এই পণ্য এখনও আমাদের দেশে এত জনপ্রিয় হয়নি তাই বাছাই করার প্রক্রিয়াও একটু কঠিন।

সেক্ষেত্রে পরিচিত কিছু ব্র্যান্ডের ওপর আপনি নির্ভর করতেই পারেন। 

গাজরের তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে Now, Ikebana, Cosprof, Biotique, Benton এবং Defeel সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। এদের মধ্যে ইকেবানার জনপ্রিয়তা বেশি।

Biotique এবং Cosprof সচরাচর এসেনশিয়াল অয়েল হিসেবে তাদের পণ্য তৈরি করে।

Now, Ikebana এবং Defeel আপনাকে ১০০ ভাগ প্রাকৃতিক গাজরের তেল দিবে। এসেনশিয়াল অয়েল না হলে ধরে নিতে পারেন এটি মোটামোটি প্রাকৃতিক। 

গাজরের তেল বাদেও আরও নানা পদ্ধতিতে গাজরকে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। 

প্রাকৃতিক রুপচর্চায় গাজর – ১১টি পদ্ধতি

প্রাকৃতিকভাবে রুপচর্চা করতে চাইলে গাজরের তেল বা গাজরকেই সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন। আমরা দুটো পদ্ধতিকেই গুরুত্ব দিয়ে এখানে ১১টি পন্থা উপস্থাপন করেছি। 

চুল রঙ করতে

চুলে যদি কখনো রঙ করতে হয় বা লালচে রঙের প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে গাজর দিয়ে সহজেই করতে পারবেন। 

উপকরণ: 

  • গ্রেট করা একটি গাজর
  • ক্যারিয়ার তেল: নারকেল তেল 

ব্যবহারবিধি: 

রঙ প্রস্তুত করার জন্য গাজরের জ্যুসের সঙ্গে ক্যারিয়ার তেল হিসেবে নারকেল কিংবা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে হবে। দুটো উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে ভালোভাবে লাগান।

চুলে মিশ্রণটি ভালোভাবে দেয়ার পর মাথা ঢেকে রাখুন। এক ঘণ্টা পর মাথা ধুয়ে ফেলুন। 

উপকার

গাজর দিয়ে চুল রঙ করলে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত রঙ স্থায়ী হয়।

আর এ পন্থায় চুলে রঙ করার সুবিধা হলো ক্ষতিকর রাসায়নিকে চুলের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা থাকে না। 

ঘরোয়া পদ্ধতিতে গাজরের তেল তৈরি

হয়তো এশেনসিয়াল অয়েলের মতো অত নিঁখুত পাবেন না। কিন্তু ঘরে চাইলে আপনার নিজস্ব গাজরের তেল বানিয়ে নেয়া যায়।

একেবারে না পাওয়ার চেয়ে কিছুটা পাওয়া ভালো অবশ্যই। 

উপকরণ

  • দুটো তাজা গাজর
  • এক কিংবা দুই কাপ ক্যারিয়ার তেল (নারকেল তেল)

ব্যবহারবিধি

  • গাজরের তেল বানানোর জন্য দুটো তাজা গাজর আর দুই কিংবা এক কাপ ক্যারিয়ার তেল ব্যবহার করতে হবে। ক্যারিয়ার তেল হিসেবে নারকেল তেল ব্যবহারই সবচেয়ে ভালো। 
  • প্রথমে গাঁজর ভালোভাবে কুঁচি করতে হবে। নারকেলের দুধ বের করার জন্য যেভাবে খুড়ে নেয়া হয় তেমন পাতলা করতে হবে যেন গাজরের জ্যুস বের হয়ে আসে। এবার পরিমাণমতো তেল মিশিয়ে নিন গাজরে। গাজর ও তেল নাড়া দিয়ে একটি কাঁচের জারে সংরক্ষণ করুন। 
  • একটি মাঝারি আকারের পাত্রে পানি ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটানো বন্ধ করে এবার কাঁচের জারটি মাঝে রাখুন। জারের মুখ খুলে রাখাই ভাল। নাহলে তাপে ফেটে যেতে পারে। 
  • আবার পানি গরম করুন। ১০-১৫ মিনিট এভাবে তাপ দেয়ার পর চুলোয় আঁচ দেয়া বন্ধ করে পুরোপুরি ঠান্ডা করুন। তেল ঠান্ডা হয়ে গেলে ছাকনিতে তেল ঢেলে গাজর কুচি থেকে আলাদা করুন। প্রয়োজনে চিপে সবটুকু রস বের করে নিন।

উপকার

এভাবেই আপনার ঘরোয়া গাজরের তেল তৈরি হয়ে গেল। এই তেল আপনি নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক স্ক্যাল্প দ্রুত লাবণ্য ফিরে পাবে। বিশেষত শীতের সময় বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই তেল ত্বকের জন্য। 

দ্রুত চুল গজাতে গাজরের হেয়ার মাস্ক

সপ্তাহে নিয়মিত শ্যাম্পু যারা করেন তারা গাজরের তেল দিয়ে হেয়ার মাস্ক করে নিতে পারেন। দ্রুত চুল গজানোর ক্ষেত্রে একটি কার্যকরী হেয়ার মাস্ক অ্যাপল সিডার ভিনেগার আর গাজরের তেল দিয়ে করা যেতে পারে। 

উপকরণ:

  • দুই কাপ পানি
  • গাজরের তেল
  • অ্যাপল সিডার ভিনেগার
ত্বক ও চুলের যত্নে গাজর

ব্যবহারবিধি

দুই কাপ পানিতে প্রায় চার ফোটা গাজরের তেল মেশান। তারপর এই মিশ্রণে যোগ করুন এক চা চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার। মিশ্রণটি আপনার স্ক্যাল্পে ভালোভাবে মালিশ করুন।

সপ্তাহে অন্তত দুবার টানা দুই মাস ব্যবহার করুন।

উপকার

শরতের ভ্যাপসা গরমে যাদের চুলে রুক্ষ্মভাব চলে আসে আর স্ক্যাল্প শুকনো দেখায় তাদের গোসল ও শ্যাম্পুর আগে এই পদ্ধতিটি অনেক কাজে আসবে। 

ঝরে পড়া চুলের  ক্ষেত্রে গাজর

ঝরে পড়া চুলের ক্ষেত্রে গাজরের তেল অন্য কিছু তেলের সঙ্গে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে মালিশ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

আপনি যদি বাজার থেকে কিনে নিতে না পারেন তাহলে সবচেয়ে ভালো হয় যদি বাড়িতে বানিয়ে নিন।

তবে বাড়িতে যে গাজরের তেল বানানো হয় তা কিন্তু শতভাগ উপকারিতা নাও দিতে পারে। 

উপকরণ: 

  • দুটো ছোট আকৃতির গাজর
  • দেড় কাপ জলপাই তেল

ব্যবহারবিধি: 

এমনিতে চুল ঝরে পড়ার সমস্যা রয়েছে যাদের তারা ঘরোয়া পদ্ধতিতে গাজরের তেল বানাতে পারবেন। 

  • দুটি ছোট সাইজের গাজর গ্রেটার দিয়ে কুচি করে কেটে দেড় কাপ জলপাই তেলের সঙ্গে মিশিয়ে এক সপ্তাহ ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গায় রেখে দিন। 
  • কয়েকদিন পর খেয়াল করে দেখুন তেল উজ্জ্বল কমলা রঙের হয়ে গেছে। 
  • তেলটি ভালোভাবে ছেঁকে নিন এবং কোনো ময়লা যেন না থাকে তা নিশ্চিত করুন। এই তেল গোসলের আধঘণ্টা আগে মাথার তালুতে ভালোভাবে মালিশ করুন। 

উপকারিতা

এভাবে যদি গাজরের তেল বানিয়ে নিতে পারেন তাহলে তেলে থাকা ভিটামিন ও খনিজ চুলের গোড়া মজবুত করবে। তাছাড়া ভিটামিন এ এবং ই মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। 

গরমে চুল ও ত্বকের প্রদাহে গাজরের ময়েশ্চারাইজার

গরমে চুলে রুক্ষ্মতা এবং ত্বকের প্রদাহ স্বাভাবিক বিষয়। দুটো ক্ষেত্রেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো।

আর এই ময়েশ্চারাইজার যদি হয় প্রাকৃতিক তাহলে তো কথাই নেই। 

উপকরণ: 

  • গাজরের তেল
  • অ্যালোভেরা জেল

ব্যবহারবিধি

অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে গাজরের তেল মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার ব্যবহার করুন। তাছাড়া এই মিশ্রণ চুলেও ব্যবহার করতে পারেন। 

উপকার

যেমনটি বলেছি, এটি একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চার হিসেবে কাজ করে। শীতের  আগে শরতে আমাদের ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখা জরুরি।

এই প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এই ময়েশ্চারাইজার সবচেয়ে ভালো ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত। 

শুষ্ক ত্বকে গাজর, দুধ ও মধুর ফেস মাস্ক

পরিবেশ, হরমোন ও জিনের কারণে ত্বক শুষ্ক হতে পারে। গাজরে থাকা পটাশিয়াম আমাদের ত্বকের লাবণ্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

গাজর ও মধুর ফেসপ্যাক বানিয়ে নিলে সহজেই শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর করা যায়। 

উপকরণ

  • গাজর
  • মধু
  • দুধ

ব্যবহারবিধি

  • প্রথমে একটি গাজরের অর্ধেক নিয়ে পেস্ট করুন। ব্লেন্ডারে পেস্ট করলে বেশি ভালো হয়। 
  • গাজরের পেস্টের সঙ্গে এক চা চামচ মধু আর এক চা চামচ দুধ মিশিয়ে নিন। অনেকে গুড়ো দুধ পানিতে গুলিয়ে মেশান। এমনটি না করাই ভালো।
  • এই মিশ্রণটি ত্বকে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। অপেক্ষা শেষে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • প্রথমদিনই একটু ফ্রেশ লাগবে। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন নিয়ম করে ব্যবহারের চেষ্টা করুন। 

উপকারিতা

যাদের শুষ্ক ত্বকের সমস্যা রয়েছে তারা এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করলে উপকার পাবেন। প্রথম কয়েকদিনে ত্বক জেল্লা ফিরে পাবে। 

তৈলাক্ত ত্বকে গাজর, বেসন ও লেবুর রসের মাস্ক

গরমে তৈলাক্ত ত্বক একটি বড় উপদ্রব। ভ্যাপসা গরমে তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা দূর করতে এই ফেসপ্যাকটি কাজে আসবে। 

উপকরণ

  • গাজর
  • লেবুর রস
  • বেসন

ব্যবহারবিধি

  • এক কাপ গাজরের রস, এক টেবিল চামচ করে টকদই, বেসন ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। 
  • মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। 
  • ফেসমাস্কটি কুসুম গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন। 
  • সপ্তাহে তিনদিন ব্যবহারে তৈলাক্ত ত্বকের সমাধান পাবেন। 

উপকারিতা

তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যায় যারা ভোগেন তাদের জন্য গাজর দিয়ে একটি চমৎকার ফেসমাস্ক রয়েছে। গাজরে থাকা ভিটামিন এ মিশ্রণে পানির সঙ্গে মিশে যায় এবং ত্বকের ওপর থাকা টক্সিন দূর করে দেয়।

আর এই ফেসমাস্কে গাজরের ভিটামিন এ কার্যকর করার জন্য ঘন ও ত্বক সংবেদনশীল করতে হবে।

অতিবেগুনী রশ্মীর নেতিবাচকতা দূর হোক গাজরের ফেস মিস্ট

অতিবেগুনী রশ্মি আমাদের ত্বকের কোষের ক্ষতি করে। আর এই ক্ষতি শুরুতে বোঝা যায় না। অসময়ে ত্বকে বার্ধক্যের দাগ দেখে এমনটা মনে হতে পারে।

নিয়মিত ছোট বড় গাজর খাওয়া এবং জুস পান করলে ত্বক ভালো থাকে। 

উপকরণ

  • গাজরের রস
  • গ্রিন টি
  • অ্যালোভেরা জেল

ব্যবহারবিধি

  • এক কাপ গাজরের রস, আধকাপ গ্রিন টি, এক চামচ অ্যালোভেরা জেল একসঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে বোতনে রাখুন। 
  • যখন বাইরে বের হবেন মুখে এই ফেস মিস্ট স্প্রে করুন। 
  • তবে খেয়াল রাখবেন, ফেস মিস্ট কখনই সানস্ক্রিনের বিকল্প নয়। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। 

উপকারিতা

গাজরের মিস্ট স্প্রে আপনার ত্বকে মৃত কোষ দূর করার ক্ষেত্রে আর কোষের  ক্ষতি দূর করতে সাহায্য করে। ভিটামিন এ আর ভিটামিন ই ত্বকে ফ্রেশনেস এনে দেয়। 

বয়সের ছোপ অসময়ে তাড়া করবে না গাজরের ফেসমাস্কে

ত্বকে ফ্রি র‍্যাডিকেলের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য টমেটো ও লেবুর রসের ব্যবহার করেন অনেকে।

কিন্তু টমেটো ও লেবুর রস সব ধরনের ত্বকের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল নয়। এক্ষেত্রে গাজর একটি ভালো বিকল্প।

কারণ গাজরেও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। 

উপকরণ

  • গাজরের পেস্ট
  • জলপাই/নারিকেল/আমন্ডের তেল
ত্বক ও চুলের যত্নে গাজর

ব্যবহারবিধি

  • কটা ছোট সাইজের গাজরের পেস্ট আর এক টেবিল চামচ জলপাই বা নারিকেল বা আমন্ডের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। 
  • মাস্কটি ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • এই মাস্ক ব্যবহারের আগে অবশ্যই ত্বক ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। নাহলে কাজ করবে না। 

উপকার

গাজরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে প্রচুর। গাজরে থাকা পুষ্টি উপাদান ত্বকে কোলাজেন উৎপন্ন করতে সহযোগীতা করে।

তাই ফ্রি র‍্যাডিকেল প্রতিহত করে ত্বকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গাজরের ফেসমাস্ক অনেক কার্যকর। 

রোদে পোড়া ত্বকের জন্য গাজর

সারাদিন বাইরে কাজ করতে হয় যাদের তাদের ত্বক রোদে পুড়ে প্রায়ই জেল্লা হারায়। এ ধরনের ত্বকে শুষ্কতা যেমন একটি সমস্যা তেমনি ভিটামিন সি এর অভাবও অনেকটা দায়ি।

তবে ভিটামিন সি খাবারের মাধ্যমে গ্রহন করে পোড়া ত্বকের সমস্যা মেটানো সম্ভব না। এজন্য আপনায় ফেসপ্যাক বানাতে হবে। 

উপকরণ

  • গাজরের পেস্ট
  • মুলতানি মাটি
ত্বক ও চুলের যত্নে গাজর

ব্যবহারবিধি

  • আধা কাপ গাজরের পেস্ট এবং এক চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে এক চামচ দুধ মিশিয়ে নিন।
  • মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • যারা মুলতানি মাটি সংগ্রহ করতে পারেন নি তারা চাইলে শসার খোসা ও গাজরের পেস্ট মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। 

উপকারিতা

আপনার ত্বকে জ্বালাপোড়া বা রোদের কারণে যদি সমস্যা হয় তাহলে এই ফেসপ্যাক ফ্রেশনেস এনে দিতে পারে। একটানা ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই।

যখন ভ্যাপসা গরম পড়বে তখন সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের ফ্রি র‍্যাডিকেল ও জীবাণু দূর করতে পারে এই ফেসপ্যাক। 

ব্রণর সমস্যায় গাজর

ব্রণর সমস্যার ক্ষেত্রে অরগানিক স্কিন কেয়ার শ্রেষ্ঠ সমাধান। আর এক্ষেত্রে  গাজর যে সবচেয়ে ভালো তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

এই সমস্যা থাকলে সপ্তাহে দুইদিন গাজরের এই সহজ ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন। 

উপকরণ

  • গাজর
  • লেবুর রস
  • মধু

ব্যবহারবিধি

  • এক টেবিল চামচ গাজর বাটা, এক চা চামচ লেবুর রস ও এক চা চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। 
  • ১৫ মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। 

উপকার

ব্রণর সমস্যা হলে ত্বকে মূলত জীবাণু বা ফ্রি র‍্যাডিকেল দায়ি।

গাজরে থাকা ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি ত্বকের ক্ষয় সমস্যা দূর করার পাশাপাশি ময়লা দ্রবীভূত করে সরিয়ে দিতে পারে। 

FAQ

গাজরের ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে কি হয়?

গাজরে রয়েছে বেটা-ক্যারোটিন যা ত্বকের কোষ গঠনে ভূমিকা রাখে। ত্বকে ব্রণ বেশি হয় যাদের, তারা নিয়মিত গাজরের প্যাক ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।

এছাড়া গাজরের ফেসপ্যাকে থাকা ভিটামিন এ এবং সি ত্বকের কালচে দাগ দূর করে ও ত্বক উজ্জ্বল করে।

গাজরে থাকা পটাসিয়াম প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ত্বকের যত্ন নেয়। নিয়মিত গাজরের ফেস প্যাক ব্যবহার করলে ত্বকে বলিরেখা পড়ে না সহজে। 

গাজর কিভাবে চুলের যত্ন নিতে সাহায্য করে?

এই গাজরের তেল নিয়মিত ব্যবহারে আপনার চুলে ভিটামিন এ আর ভিটামিন ই এর জোগান নিশ্চিত হয়। ফলে চুলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং চুলের গোড়া শক্ত হয়। 

গাজরের তেল কি ঘরে বানানো সম্ভব?

গাজরের রসের সঙ্গে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে যে মিশ্রণটি পাবেন তা ব্যবহারে ত্বক ও চুলের যত্ন নেয়া যায়। তবে এই তেল একদম নিঁখুত গাজরের তেল নয়।

এই তেল সবসময় অন্য কোনো ক্যারিয়ার তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে হয়। সেজন্য বাজার থেকে কিনে নেয়াই ভালো। 

শেষ কথা

ত্বক ও চুলের যত্নে গাজর যে নানাভাবে ব্যবহৃত হতে পারে তা তো বোঝা গেল। গাজর খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি প্রাকৃতিক রুপচর্চার ক্ষেত্রেও কার্যকর।

গাজর দিয়ে অনেক ধরনের ফেসপ্যাক, হেয়ার সলিউশন এখন অনলাইনে পাওয়া যায়। আমরাও এরকম এগারোটি পন্থা আপনাদের সামনে হাজির করেছি। 

চুল ও ত্বকের ধরন কিংবা সমস্যা অনুযায়ী আমরা এই লেখাটি সাজিয়েছি।

আপনি যে সমস্যা নিয়েই আসুন না কেন, আমরা আপনাদের সহজ সমাধান দিতে পেরেছি বলেই বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment

Name

Home Shop Cart Account
Shopping Cart (0)

No products in the cart. No products in the cart.