ঝলমলে মসৃণ চুল পেতে কে না চায়? সুন্দর কোমল চুল পেতে অবলম্বন করুন কিছু প্রাকৃতিক উপায়। পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস ও পারে চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে।
ঝলমলে মসৃণ চুল হবে এমন স্বপ্ন থাকে সবার। আমাদের চুল তৈরী হয় কেরাটিন নামক এক ধরনের প্রোটিন দিয়ে যার ৯৭ ভাগ প্রোটিন এবং ৩ভাগ পানি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বাভাবিকভাবে একটি চুল দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত বড় হতে থাকে। এরপর বৃদ্ধি কমে যায়। গ্রীষ্মকালে চুল দ্রুত বড় হয় কিন্তু শীতকালে কম বড় হয়।
সঠিক পরিচর্যা এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসই পারে আপনার চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে।
সুন্দর চুল পাওয়ার জন্য নিয়মিত কার্যক্রম :
ঝলমলে মসৃণ চুল পেতে নিয়মিত চুলের যত্ন নিতে হবে। কেমিক্যাল পণ্যের পরিবর্তে যদি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করেন চুলে আসবে অন্য রকম উজ্জ্বলতা।
১। হেয়ার কেয়ার রুটিন :
চুল সুন্দর মসৃণ রাখতে সঠিক যত্নের প্রয়োজন। সপ্তাহে অন্তত ২/৩ বার তেল মালিশ করা, চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু-কন্ডিশনার ব্যবহার করা এবং দিনে ২/৩ বার চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়ানো দরকার, এতে মাথায় রক্ত সঞ্চালন ঠিকমত হয় এবং চুল লম্বা হয়। এগুলা হলো নূন্যতম ন্যাচারাল হেয়ার কেয়ার।
এছাড়াও মাঝে মাঝে হেয়ার কেয়ার প্যাকের ব্যবহারে চুল হয়ে উঠে নরম, ঝলমলে ও মসৃণ।
২। তেল :
চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে তেলের কোনো বিকল্প নেই। সপ্তাহে অন্তত দুইবার চুলে তেল মালিশ করতে হবে।
সুন্দর মসৃণ চুলের জন্য বেছে নিন অরগানিক নারকেল তেল। এটি ম্যাসাজ করার ফলে আপনার চুলের ফলিকলগুলো উদ্দীপিত হয়ে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া অলিভ অয়েল ও চুলের জন্য উপকারী।
প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন ই থাকার কারণে অলিভ অয়েলের ব্যবহারে রুক্ষ চুল প্রাণ ফিরে পায়।
৩। শ্যাম্পু:
চুলের ময়লা, তেল, স্কাল্পের মৃত কোষ দূরীকরণের জন্য সপ্তাহে অন্তত ২/৩ বার শ্যাম্পু করা ভালো। শ্যাম্পু নির্বাচন করতে হবে চুলের ধরনের উপর ভিত্তি করে।
কারণ অপরিচ্ছন্ন চুলে বিভিন্ন প্রকার চুলকানি ও খুশকি হয়। যার কারণে চুল উজ্জ্বলতা হারায়।
তাছাড়া চুল পরিষ্কার না রাখলে উকুন ও হতে পারে। শ্যাম্পু ব্যবহারের পর পর্যাপ্ত পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।
৪। কন্ডিশনার:
চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর না হওয়ার জন্য শ্যাম্পু ব্যবহারের পর ডিপ কন্ডিশনিং প্রয়োজন। বাজারে প্রচুর কন্ডিশনার পাওয়া যায়।
শ্যাম্পু চুলের গোড়ায় লাগাতে হয়, আর কন্ডিশনার দিতে হয় চুলের আগায়। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
ক্যামিকেল কন্ডিশনার ব্যবহার না করতে চাইলে অ্যাপল সাইডেড ভিনেগার / নারকেল দুধ / অথবা অ্যালোভেরা জেল-লেবুর রস কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে চুলের পরিচর্যা :
প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে চুলের পরিচর্যা নিরাপদ এবং সহজলভ্য। এতে কোনো প্বার্শপ্রতিক্রিয়ার ভয় থাকে না।নিচে এমন কিছু উপাদানের ব্যবহার উল্লেখ করা হলো
ডিম :
চুলের পরিচর্যার জন্য সবচেয়ে সহজলভ্য উপাদান হলো ডিম। এটি প্রোটিনের খুব ভাল উৎস, যা চুলের বৃদ্ধির জন্য খুব প্রয়োজন।

একটি ডিম, ১টেবিল চামচ মধু এবং এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে চুলে লাগান।
কিছুক্ষণ রেখে চুল শ্যাম্পু করে পরিষ্কার করুন। মসৃণ চুল পেতে সপ্তাহে ২বার এই প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।
মেথি :
ঘন কালো মসৃণ চুলের পেতে মেথি খুব উপকারী উপাদান। এতে রয়েছে আয়রন,পটাসিয়াম, প্রচুর প্রোটিন, লেসিথিন এবং ভিটামিন-সি।

সারারাত ভিজিয়ে রাখা মেথি পেস্ট করে সকালে চুলে লাগান।১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন এবং শ্যাম্পু করুন।
অ্যালোভেরা জেল :
অ্যালোভেরা জেল চুলের যত্নে অনন্য ভূমিকা রাখে। এতে রয়েছে ভিটামিন, এনজাইম এবং অ্যামাইনো এসিড যা চুলকে উজ্জ্বল এবং মজবুত করে। একটি অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল সংগ্রহ করে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে বোতলে নিয়ে চুলে ভালভাবে স্প্রে করুন। চুল পরিষ্কার থাকলে ভাল ফলাফল পাবেন।

দই ও আমলকী :
দই ও আমলকি দুটি উপাদানই চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। দইয়ে রয়েছে ভিটামিন বি৫ যা চুলের পিএইচ লেভেল রক্ষা করে এবং খুশকী দূর করে। আবার আমলকী ভিটামিন-সি এর অভাব পূরণ করে চুলের বৃদ্ধি করে।

এছাড়া দই এবং আমলকী পাউডার মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মাথায় লাগান। ২০মিনিট রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন এবং শ্যাম্পু করুন।
উপকারী টিপস:
- শুধু বাইরে থেকে চুলের পরিচর্যা করলেই হবে না,শরীরের ভিতর থেকে পুষ্টি সরবরাহ করার জন্য সুষম খাবার খান।
- পর্যাপ্ত পানি করুন।
- বেশি টাইট করে চুল বেধে ঘুমানো থেকে বিরত থাকুন।
- প্রয়োজনের বেশী শ্যাম্পু বা হেয়ার স্পা করা থেকে বিরত থাকুন।
- কেমিক্যাল প্রোডাক্ট বা স্ট্রেইটনার ব্যবহার কম করায় উত্তম।
- চুল শুষ্ক বা ভঙ্গুর হতে শুরু করলে ব্যবহার প্রোটিন সমৃদ্ধ হেয়ার সিরাম, গ্লিসারিন এবং ভেষজ তেল।
- ভিজা চুল ঝাড়া বা আঁচড়ানো উচিত নয়,এতে চুল ভেঙে যায়।
- সরাসরি সূর্যালোক থেকে চুলকে রক্ষা করতে মাথায় স্কার্ফ ব্যবহার করুন। এতে চুল মসৃণতা হারাবে না সহজে।
উপসংহার :
ঝলমলে মসৃণ চুল পেতে হলে দৈনন্দিন জীবনের কাজের ফাঁকে চুলকে একটু সময় দিতে হবে। প্রতিদিন চুল আঁচড়ানো বা বাইরে গেলে মাথা ঢেকে রাখা যেমন জরুরী তেমনি সঠিকভাবে চুল বাঁধা, পরিষ্কার বালিশ কভার বা সম্ভব হলে সিল্ক কভার ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করুন এবং ঝলমলে চুলের অধিকারী হোন।



