নিস্প্রান চুল ও আগা ফাটা সমস্যার জন্য দিন দিন চুলের সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছেন? তাহলে জেনে নিন এর সঠিক কারণ ও নিষ্প্রাণ চুলের সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে বিস্তারিত।
নিস্প্রান চুল ও আগা ফাটা সমস্যার কারনে চুল লম্বা হতে পারে না এবং চুলের সৌন্দর্য হারায়। চুলের সঠিক পুষ্টিগুন বজায় না থাকলে চুল ধীরে ধীরে নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে, ফলে যে কোনো হেয়ারস্টাইলই হয়ে ওঠে বেমানান। চুল হারায় তার নিজস্ব জৌলুস।
একটি জর্নালে চুল রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ার মূল কারণ হিসেবে অস্বাভাবিক ঠান্ডা বা গরম আবহাওয়া, স্ট্রেইটনিং, কার্লিংয় ও রাসায়নিক পণ্যের ব্যবহারকে দায়ী করেছে।
চুলকে লম্বা, ঝলমলে ও সিল্কি করে তুলতে চাইলে নিয়মিত হেয়ার কেয়ার এর দিকে মনযোগী হওয়ার বিকল্প নেই। ন্যচারাল হেয়ার কেয়ার রুটিন অনুসরণ করে আপনার নিষ্প্রাণ চুলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি চুলের আগা ফাটা রোধ করতে পারেন।
নিষ্প্রাণ চুল ও আগা ফাটার কারন:
নিষ্প্রাণ চুল ও আগা ফাটা সমস্যার জন্য বেশ কয়েকটি কারনকে দায়ী করা যায়। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস, সঠিক চুলের যত্ন ও সচেতনতার অভাবে চুল রুক্ষ ও ড্রাই হবে যায় আর অবশেষে চুলের আগা ফেটে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়।
চলুন জেনে নেয়া যাক নিস্প্রান চুল ও আগা ফাটার প্রধান কারনগুলা কি কি-
১. বিরূপ আবহাওয়া
সাধারণ আবহাওয়ার থেকে যদি চারপাশের তাপমাত্রা খুব বেড়ে যায় বা একেবারে কমে যায় তখন পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে চুল নিজেকে খাপ খায়িয়ে নিতে পারে না। যার ফলে চুল অতিরিক্ত ড্রাই হয়ে যায়।
২. ধুলোবালি ও দূষণ
রাস্তাঘাটের অতিরিক্ত ধুলো ময়লা ও দূষণ চুলের সাথে মিশে চুলকে প্রাণহীন করে দেয় ফলে চুল তার সৌন্দর্য হারায়।
৩. সূর্যের আলো
একটানা অনেকক্ষণ সূর্যের আলোর নিচে চুল খোলা অবস্থায় থাকলে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি চুলের আদ্রতা শোষণ করে চুলকে পুষ্টিহীন ও নিষ্প্রাণ করে তোলে।
৪. পুষ্টিহীনতা
চুলের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় ক্যারোটিন, প্রোটিন, ভিটামিন ই, ভিটামিন সি, স্নেহ পদার্থ সহ আরও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত খাদ্য তালিকায় এসকল পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির ফলে নিস্প্রান চুল ও আগা ফাটা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. সঠিক যত্নের অভাব
নিয়মিত সঠিক উপায়ে চুলের যত্ন না নিলে চুল ধীরে ধীরে প্রানহীন হয়ে পড়ে এবং রুক্ষতা দেখা দেয়, চুল ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
৬. স্ট্রেইটনিং ও কার্লিং
স্ট্রেইটনিং বা কার্লিংয়ের সময় চুলকে হাই হিট দিয়ে একটা নির্দিষ্ট শেইপে আনার চেষ্টা করা হয়।

অতিরিক্ত হিট দেয়ার কারনে চুলের আদ্রতা হারিয়ে যায় এবং চুল ফাটতে শুরু করে।
৭. রাসায়নিক উপাদান যুক্ত প্রোডাক্ট
যে কোনো রাসায়নিক উপাদান মিশ্রিত হেয়ার প্রোডাক্ট চুলের মারাত্মক ক্ষতি করে চুলকে পুষ্টিহীন করে তোলে। ফলে চুল ধীরে ধীরে প্রান হীন হয়ে পড়ে।
প্রাকৃতিক সমাধান :
ন্যচারাল হেয়ার কেয়ার পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নিয়ে নিস্প্রান চুল ও আগা ফাটা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে চুলের যত্ন সবকিছুতেই একটু বিশেষ খেয়াল রাখলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই পুষ্টিহীন নিষ্প্রাণ চুলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
চলুন জেনে নেই নিস্প্রান চুল ও আগা ফাটা সমস্যা সমাধানের সঠিক উপায় সম্পর্কে –
১. খাদ্যতালিকায় সঠিক খাদ্য উপাদান
প্রোটিন, ক্যারোটিনও ভিটামিনের অভাবে চুল নিষ্প্রাণ হয়ে পরে তাই দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় প্রোটিন, ক্যারোটিন ও ভিটামিন এ ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত রাখতে হবে।
যেমন: দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, গাজর, পালংশাক, রঙিন ফলমূল।
সেই সাথে প্রতিদিন এক চামচ মধু খেতে পারেন যা চুল সহ পুরো শরীরের ময়েশ্চার ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সাহায্য করবে।
২. হট অয়েল ম্যাসাজ
সপ্তাহে ২/৩ দিন অর্গানিক হট অয়েল ম্যাসাজ করলে চুলের রুক্ষতা দূর হয় ও ভঙ্গুর চুল পুষ্টি পায়। এটা হতে পারে কোকোনাট অয়েল, আমন্ড অয়েল বা অলিভ অয়েল।

তেল হালকা গরম করে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালোভাবে ম্যাসাজ করতে হবে।
৩. কোকোনাট মিল্ক মাস্ক
নারকেলের দুধ নিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে ১ ঘন্টা সাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে ধুয়ে ফলতে হবে।

৪. কলার হেয়ার প্যাক
কলাকে বলা হয় প্রাকৃতিক কন্ডিশনার। একটি কলা ও ২/৩ চামচ মধু ম্যাস করে পুরো চুলে লাগিয়ে নিতে হবে। ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফলেতে হবে।
নিস্প্রান চুল ও আগা ফাটা সমস্যা সমাধানের বেশ কয়েকটি উপায় ইতোমধ্যেই পেয়ে গেছেন বলে আশা করা যায়।
উপরোক্ত উপায়গুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে খুব সহযেই চুলের হারানো জেল্লা ফিরিয়ে আনতে পারবেন এবং আগা ফাটা দূর হয়ে চুল হবে আরও লম্বা ও মসৃণ।

সেই সাথে যে সকল কারণে চুল নিষ্প্রাণ হয়ে পরে সেসব বিষয়ের প্রতি সতর্ক থাকতে হবে।



