সকালে ঘুম থেকে জেগে ত্বকের যত্নে করণীয় কি? আলসেমি না করে প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙলে এই পাঁচটি কাজ করুন। সকালে ঘুম থেকে জেগে ত্বকের যত্নে করণীয় সম্পর্কে কোনো ধারণা রয়েছে কি? না থাকারই কথা। প্রাকৃতিক রুপচর্চা কিংবা রেগুলার স্কিন কেয়ার; আমরা মনে করি এগুলো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আদপে কিন্তু তা সত্য না।
সমস্যা হলো যাপিত জীবনে আমাদের নিয়ম করে থাকার অভ্যাস নষ্ট হয়ে গেছে। সকালের ঘুম হয় গাঢ়। আলসেমি থেকে উঠতে ইচ্ছে করে না। সকালে মাত্র পাঁচটি কাজ করলে সারাদিন ত্বক সুন্দর থাকবে। মজার বিষয় হলো, এই পাঁচটি কাজ করতে সময়ও লাগবে মোটে পাঁচ মিনিট।
কি? বিশ্বাস হচ্ছে না? ধাপগুলো আগে দেখে নিন। তারপর যাচাই করবেন।
সকালে ঘুম থেকে জেগে ত্বকের যত্নে করণীয়
দ্রুত ত্বকের সতেজ ও প্রাণবন্ত ভাব ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অরগানিক স্কিন কেয়ারের বেশি নির্ভর করা যায় না। আয়ুর্বেদিক রুপচর্চা মূলত ঋতুভেদে ত্বকের চাহিদা অনুসারে বিশেষ সময়ে করতে হয়। আমরা বলছি ডেইলি স্কিনকেয়ার রুটিনের কথা। ডেইলি স্কিনকেয়ার রুটিন আপনার প্রাত্যহিক জীবনে কত ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে তা ভাবতেও পারবেন না। আমরাও ভাবিনি এই গবেষণাপত্র পড়ার আগ পর্যন্ত।
ডেইলি স্কিনকেয়ারের ক্ষেত্রে রেগুলার ব্যবহার করবেন এমন প্রসাধনী নির্বাচন করতে হবে। এটির জন্য ত্বকের ধরন অনুসারে সারাবছর ব্যবহার করতে পারবেন এমন প্রসাধনী বাছাই করুন।
সকালে ঘুম ভাঙার পর তাড়াহুড়ো না করে জোরে কয়েকবার নিঃশ্বাস নিন। তারপর চলে যান ওয়াশরুমে। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেবেন। এই রুটিন অনুসরণের মানসিক প্রস্তুতি প্রতিদিনই তাগাদা দেয়া জরুরি।
আমাদের উল্লিখিত গবেষণাও বলছে, নির্দিষ্ট সময়ে ত্বকের ডেইলি কেয়ার নিতে পারলে ত্বক প্রস্তুত হয়ে যায়। তবে এই কথাটি বৈজ্ঞানিকভাবে পরিক্ষীত নয়। সে না হোক, ফলাফল তো রয়েছে।
ভালোমতো ত্বক পরিষ্কার করুন
সকালে ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমে দাঁত মাজার পর প্রথমেই আপনার ত্বক ফেসওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেয়া জরুরি। চাইলে স্ক্রাবও ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষ দূর করার জন্য স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে।

আবার আপনার যদি রাতে কোনো ফেসপ্যাক ব্যবহারের অভ্যাস থাকে বা কোনো এসেনশিয়াল অয়েল মাসাজ করে সারারাত রাখেন, তাহলে সকালে ফেসওয়াশ দিয়ে তা ধুয়ে নেয়া জরুরি।
বিখ্যাত ম্যাগাজিন ভগের একটি প্রতিবেদন সকালে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার গুরুত্ব ভালোভাবে তুলে ধরেছে। রাতে ঘুমোলেও আপনার শরীরবৃত্তিক কার্যক্রম চালু থাকে। রাতে ত্বকের রোমকূপে ময়লা জমে তাছাড়া ঘুমের সময় ঘাম হতে পারে, তৈলাক্ত ত্বকে ময়লা জমতে পারে। সকালে উঠে তাই ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নেয়া জরুরি।
তবে সকালে ভারি স্কিনকেয়ার বা স্কিন ওয়াশের দিকে না যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। হালকা ধরনের জেল বেজ ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। ন্যাচারাল ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে পারলে ভালো। কয়েকটি সেরা ন্যাচারাল ফেসওয়াশ নিয়ে আমাদের এই লেখাটি চাইলে পড়তে পারেন।
ত্বকের জন্য হাইড্রেটিং সিরাম
ত্বকের জন্য সিরাম উপকারি। সিরাম খুবই ছোট ছোট মলিকিউলস দিয়ে তৈরি। ফলে দ্রুত ত্বকে মিশে যেতে পারে। সিরামের সবচেয়ে বড় উপকার ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করার সক্ষমতা। ত্বকের ধরন অনুসারে সিরাম নির্বাচন করতে হয়।

স্বাভাবিক ত্বকে রেটিনল আর ভিটামিন সি রয়েছে এমন সিরাম ব্যবহার করুন। ড্রাই স্কিনে হায়ালুরোনিক এসিড এবং গ্লিসারিন সম্পন্ন সিরাম কার্যকর। কম্বিনেশন স্কিনে আপনি হায়ালুরোনিক এসিড সম্পন্ন সিরাম কার্যকর। অত জটিলতায় যেতে না চাইলে নিয়াসিনামাইড, আরবুটিন এবং ভিটামিন সি সম্পন্ন সিরাম নেয়াই ভালো।
ত্বকে সিরাম দ্রুত এবং ভালোভাবে মিশে যায়। ফলে রিংকেল কিংবা পোরসের মত সমস্যা থেকে ত্বক নিরাপদ থাকে। সারাদিন বাইরে থাকলে ধূলোবালি, ঘাম, তেল ত্বকে জমে নানা সমস্যা করতে পারে। ত্বক হাইড্রেটেড থাকলে এত সমস্যা হয় না।
চোখের চারপাশের ত্বকের যত্ন নিন
গালের টোল আর কপালেই আপনার যত মনোযোগ। কিন্তু চোখের নিচের দিকের সামান্য একটু ত্বক অতটাও গুরুত্ব পায় না। ফলে অনেক সময় সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ডার্ক সার্কেল বা কালচে ভাব চলে আসে।
সামান্য এই কালচে ভাব অনেক সময় আপনার পুরো লুক নষ্ট করে দেয়। চোখের ত্বক ও চারপাশের জন্য আলাদা সিরাম বা ক্রিম পাওয়া যায়। মুখ ধুয়ে হাইড্রেটিং সিরাম লাগানোর পর আপনার চোখের সিরামটি আলতোভাবে সার্কুলার মোশনে লাগিয়ে নিন।
সারাদিনে ত্বক ময়েশ্চারাইজড রাখুন
ত্বক ময়েশ্চারাইজড রাখাটা জরুরি। অনেককেই অফিসে দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকতে হয়। এসি থেকে বের হওয়ার পর রোদে ত্বকে জমে ঘাম। রাতে গাড়ির দূষণ ত্বকের ওপর ভ্যাপসা বিরক্তি লেপে দেয়।

এই সমস্যা থেকে সহজেই দূরে থাকা যায় ত্বক ময়েশ্চারাইজড রাখলে। সকালে ঘুম ভাঙার পর মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজিংটা করতে হয়। তবে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে অতি আবেগী হবেন না। অনেকে অফিসে বারবার মুখ ধুয়ে ফেলেন বা দিনে একাধিকবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নেন।
এমনটি ঠিক নয়। কারণ অতিরিক্ত ফেসওয়াশ যেমন ক্ষতিকর তেমনি ক্ষতিকর ঠিকভাবে ময়েশ্চারাইজার না তোলা।
আপনি দিনে একাধিকবার মুখ ধুলেও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন সকালে ঘুম ভাঙার পর আর রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে। ত্বকে লাগাতার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠে। এর কারণ জানেন কি? কারণ অতিরিক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে ত্বক সিবাম ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। তাই ত্বক শুষ্ক মনে হয়। আবার অতিরিক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে মুখের ত্বকের উপর বসে যায়। যার ফলে বাইরের ধুলো, ময়লা, ব্যাকটেরিয়া জমে ব্রণ সৃষ্টি করে।
তাই সকালে উঠে ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন। সারাদিন লাগাতার নয়। ত্বকের যত্নে সকালে ময়েশ্চারাইজড ত্বক সারাদিনের জন্য ত্বককে প্রস্তুতি দেয়।
সানস্ক্রিনটা মাস্ট
সকালে আপনার চারটি ধাপ সম্পন্ন হলো। শেষ ধাপ হলো সানস্ক্রিন ব্যবহার করা। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বক সুরক্ষিত থাকে। সানবার্ন, রোদ থেকে হওয়া পিগমেন্টেশন, কম বয়সে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া— অনেকটাই কমিয়ে ফেলা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সানস্ক্রিনের ব্যবহার ত্বকের ক্যানসার যেমন ‘বিসিসি’, ‘মেলানোমা’ এবং ‘এসসিসি’-র হাত থেকেও ত্বককে সুরক্ষিত রাখে।

সানস্ক্রিন কেনার আগে সেটি ইউভি-বি এর পাশাপাশি কত ভালো ইউভি-এ রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারবে তা যাচাই করা জরুরি। সানস্ক্রিন কেনার আগে লেবেলে পিএ+, পিএ++, পিএ + + + এরকম কিছু লেখা আছে কিনা দেখে নিতে হবে যতগুলো প্লাস চিহ্ন থাকবে ত্বক তত সুরক্ষিত থাকবে।
তাছাড়া সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে যদি ঘাম হয় বিশেষত তৈলাক্ত ত্বক যাদের, তারা সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার না করে তার পরিবর্তে ম্যাটিফাইং সানস্ক্রিন, জেল সানস্ক্রিন, কিংবা স্প্রে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারে। এতে ত্বক সহনশীল থাকবে এবং ঘামও কম হবে।
সকালে সানস্ক্রিন রুটিনটা সবার শেষে মাস্ট। এই রুটিনটা অনুসরণ করবেন।
পরিশেষে বলি
সকালে ঘুম থেকে জেগে ত্বকের যত্নে করনীয় পাঁচ ধাপ বুঝেছেন তো? কঠিন কিছু নয়। খুবই সামান্য ও বেসিক কিছু আইডিয়া। কিন্তু এই বেসিক ডেইলি স্কিনকেয়ার সম্পর্কেই আমাদের স্বচ্ছ ধারণা নেই।
ভেবে দেখুন, ত্বকে অ্যালার্জি মানে শারীরিক অসুস্থতাও। তাই ত্বকের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক স্বাস্থ্যও জড়িত।
তাই আজ থেকেই পাঁচ মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত রুটিন ফলো করার চেষ্টা করুন। আফসোস করবেন না এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি।



