infixnatural.com/

ঘরোয়া উপায়ে রুপচর্চা তে কোন কোন উপাদান ক্ষতিকর

ঘরোয়া উপায়ে রুপচর্চা

ঘরোয়া  উপায়ে রুপচর্চা করার সময় অনেক উপাদান ব্যবহৃত হয়। তার মধ্যে কিছু উপাদান অন্য কিছুর সাথে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়, কিন্তু শুধুমাত্র ঐটি ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি হয়। আজকে এমন কিছু উপকরণ নিয়েই এই প্রতিবেদন। 

ঘরোয়া  উপায়ে রুপচর্চা করতে লাগে না কোনো দামী প্রসাধনী, হাতের নাগালে থাকা সবজি বা ফল দিয়েই চলে রূপচর্চা। শরীরের সবচেয়ে স্পর্শকাতর স্থান হলো মুখের ত্বক।সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বা ত্বকের কমনীয়তা রক্ষা করতে অনেকেই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ন্যাচারাল স্কিন কেয়ার করে। তবে কিছু উপাদান ত্বকে সরাসরি ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। 

ক্ষতিকর উপাদান :

ঘরোয়া  উপায়ে রুপচর্চা কিছু উপাদান সাময়িক উপকার করছে মনে হলেও পরে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়। এমন কিছু উপাদানের সাথে আমরা আজ পরিচিত হব:

১। লেবুর রস :

লেবুতে রয়েছে সাইট্রিক এসিড। প্রাচীন যুগ থেকেই ত্বকের যত্নে লেবু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু লেবু এসিডিক হওয়ায় সরাসরি ব্যবহারে ত্বকের পিএইচ লেভেল নষ্ট হয়। তাছাড়া টোনার হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বক জ্বালা ও শুষ্কভাব দেখা যায়। 

২। বেকিং সোডা:

দ্রুত ত্বকে উজ্জ্বলতা আনতে অনেকে বেকিং সোডা ব্যবহার করেন। কিন্তু ক্ষণিকের উজ্জ্বলতা কদিনেই ম্লান হবে, রয়ে যাবে বেকিং সোডার প্রতিক্রিয়া।

ঘরোয়া  উপায়ে রুপচর্চা

এর প্রভাবে ত্বকে প্রাকৃতিক তেল উৎপাদন ব্যাহত হবে। ত্বক হয়ে যাবে শুষ্ক ও নিস্প্রাণ।

৩। টুথপেষ্ট :

ব্রণের সমস্যায় টুথপেষ্ট ব্যবহার করা আরেকটি ভুল রূপচর্চা। মুখে টুথপেষ্ট ব্যবহারে হতে পারে ব়্যাশ বা জ্বালাপোড়া কারণ এতে নানা রকম ক্যামিকেল ব্যবহৃত হয় দাঁত পরিষ্কার রাখতে। প্রথম কদিন প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও পরে জটিল সমস্যা শুরু হয়।

৪। পেট্রোলিয়াম জেলি:

ব্ল্যাকহেডস ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করায় অনেকে ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেন এটি দূর করতে।

ঘরোয়া  উপায়ে রুপচর্চা

কেউ কেউ  ব্ল্যাকহেডস অপসারণের জন্য মুখে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করে তার উপর গরম তোয়ালে রাখেন।

এতে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণের সৃষ্টি হয়। তাই মুখে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করবেন না। 

৫। লবণ চিনি:

স্ক্রাব হিসেবে অনেকেই লবণ এবং চিনি ব্যবহার করেন। ত্বকের মৃত কোষ দূরীকরণ করে এটি উজ্জলতা বৃদ্ধি করে। কিন্তু লবণ ও চিনির ছোট কণাগুলো ত্বকে ঘর্ষণের ফলে ক্ষত সৃষ্টি হয়। তাই সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি এসব উপাদান প্রয়োগ না করে কোনো ১টা ফেসপ্যাকের সাথে ব্যবহার করুন।

৬। ভেজিটেবল অয়েল বা রান্নার তেল :

আমাদের প্রতিদিনের রান্নায় ভেজিটেবল অয়েল স্বাদ বাড়ালেও ত্বকের যত্নে এর ব্যবহার মোটেও উপকারী নয়। এর ব্যবহারে ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা বাড়তে পারে।

ঘরোয়া  উপায়ে রুপচর্চা

লোমকূপের ছিদ্র গুলো খুলে যায় এবং ব্রেকআউটের সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরা এই সমস্যায় বেশি পড়েন।

৭। নারকেল তেল:

নারকেল তেল অনেকের কাছে রূপচর্চার প্রধান উপকরণ। কিন্তু এতে কোনো রাসায়নিক উপাদান মিশৃত থাকলে ত্বকে ব়্যাশ এবং বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়।

৮। দারুচিনি:

ব্রণের চিকিৎসায় দারুচিনি খুব কার্যকরী ভাবেন অনেকে। কিন্তু এর ব্যবহারে ত্বকে জলুনি হয় এবং ব্যাপকভাবে হাইপার পিগমেন্টেশন হতে পারে।

৯। কাঁচা হলুদ :

স্কিন কেয়ারে কাঁচা হলুদের ব্যবহার বহু প্রাচীন। এটার ব্যবহার ত্বকের জন্য উপকারী। কিন্তু কাঁচা হলুদ ব্যবহারের পর সরাসরি সূর্যালোক লাগলে ত্বকে পোড়াভাব সৃষ্টি হতে পারে। 

১০। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার :

টোনার হিসেবে অনেকে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার বেছে নেন। কিন্তু এর এসিডিক উপাদান ত্বকের জন্য উপকারী নয়।

এটি ত্বকের পিএইচ লেভেল নষ্ট করার পাশাপাশি ত্বক জ্বালা এবং ব়্যাশ সৃষ্টি করে। 

উপকারী টিপস :

  • নতুন কোনো উপাদান ত্বকে ব্যবহার শুরু করলে প্রথমে ত্বকের আবৃত অংশে যেমন কানের পিছনে বা গলায় লাগিয়ে টেস্ট করুন ঐ উপাদান আপনার ত্বকে সহনশীল কি না।
  • এসিডিক উপাদান ত্বকে পোড়া ভাব সৃষ্টি করে।
  • প্রতিদিন ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। 
  • পর্যাপ্ত পানি পান করে ত্বক সজীব রাখুন।
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। 
  • ত্বকে রাসায়নিক উপাদান কম ব্যবহার করে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে রূপচর্চা করুন।
  • ত্বককে লাবন্যময় রাখতে খাবার তালিকায় স্নেহ জাতীয় খাবার অল্প হলেও রাখুন।

সতর্কতা :

  • কোনো ১টা উপাদান ত্বকে জ্বালাপোড়া অনুভূতি সৃষ্টি করলে সাথে সাথে ত্বক পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে বরফ লাগাতে হবে।
  • কোনো ফেসপ্যাক মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া অবস্থায় বেশি কথা না বলাই ভাল। কারণ, এতে ত্বকে ঢিলাভাব আসে।
  • ত্বকের ধরণ বুঝে রূপচর্চা করতে হবে। যেমন- তৈলাক্ত ত্বকে আরও তেল দেওয়া উচিত নয়।
  • ত্বকে জ্বালা বা পোড়াভাব অতিরিক্ত হয়ে গেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। 

উপসংহার :

ঘরোয়া  উপায়ে রুপচর্চা করার উপকরণ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কারণ, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভাল।

সুস্হ, সুন্দর, পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করুন এবং ত্বকের পরিচর্যায় রাখুন প্রতিক্রিয়া বিহীন উপাদান। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment

Name

Home Shop Cart Account
Shopping Cart (0)

No products in the cart. No products in the cart.