infixnatural.com/

এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল

এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল

এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ত্বক এবং চুলের যত্নে এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেলের গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। সেই সঙ্গে এর রয়েছে স্বাস্থ্য উপকারও।

এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল রান্নার কাজ, ত্বকের যত্ন এবং চুলের পরিচর্যা – এসকল কাজেই ব্যবহৃত হয়। ভার্জিন কোকোনাট অয়েল বলতে মূলত অপরিশোধিত নারিকেল তেলকে বুঝায়। অপরিশোধিত হওয়ায় এই তেলের গুণাগুণ থাকে অটুট। আবার এটি কোল্ড প্রেস পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় তাই পুষ্টি গুনাগুন বজায় থাকে। নারিকেল তেলের মুখ্য ফ্যাটি এসিড হলো লরিক এসিড যা চুলে পুষ্টি যোগায়।

এই তেল ব্যবহারে একজিমা এবং ড্যানড্রাফ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় অকালে চুল পড়ে যাওয়ার সাথে এটোপিক ডার্মাটাইটিস এর যোগসূত্র রয়েছে। ভার্জিন নারিকেল তেল এটোপিক ডার্মাটাইটিস এর বিরুদ্ধে লড়ে।এছাড়াও ভার্জিন কোকোনাট অয়েলের রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি এবং স্কিন প্রোটেকটিভ প্রপারটিজ, যা ত্বকের ব্লাড সার্কুলেশনে সহায়তা করা, ত্বকে ব্যাকটেরিয়াল ও ফাঙ্গাল সংক্রমণ প্রতিরোধ করে ত্বকে পুষ্টি যোগায় এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে। অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে খাঁটি নারিকেল তেল খাদ্য-তালিকায় যোগ করার মাধ্যমে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং গুড কোলেস্টেরল হিসেবে কাজ করে।

যদিও এ নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক রয়েছে। তাই অবশ্যই ভার্জিন কোকোনাট অয়েল ব্যবহারের আগে এই বিষয় ভালোভাবে জেনে ব্যবহার করা উচিত।

আর্টিকেলটির মাধ্যমে যে সকল বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন

  • এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল কি
  • কোল্ড প্রেস পদ্ধতি কি
  • আসল ভার্জিন নারিকেল তেল চেনার উপায়
  • চুলের যত্নে ভার্জিন নারিকেল তেল এর উপকারিতা
  • চুলের যত্নে ভার্জিন নারিকেল তেল এর ৭টি সেরা হেয়ার প্যাক
  • ত্বকের যত্নে ভার্জিন নারিকেল তেল এর উপকারিতা
  • ত্বকের যত্নে ভার্জিন নারিকেল তেল ব্যবহার করে ৪টি সেরা ফেস মাস্ক
  • ভার্জিন নারিকেল তেল কিভাবে খেতে হয়
  • ভার্জিন নারিকেল তেল খেলে কি কি উপকার হয়
  • নারিকেল তেল ব্যবহারের সময় যেসকল বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। 

এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল কি

এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল মূলত কোল্ড প্রেসড নারিকেল তেল এবং এটি কম তাপমাত্রায় বের করা হয়। কোল্ড প্রেসড নারিকেল তেল ঝুনো নারিকেলের গা থেকে বের করে আনা হয়। এতে তেলের পরিমাণ বেশি থাকে। কম তাপমাত্রায় বের করে আনা হয় বলে এর পুষ্টিগুণ গুলো ঠিক থাকে।

কোল্ড প্রেস পদ্ধতি কি?

এই পদ্ধতি মূলত বিভিন্ন খাদ্য উপকরণ থেকে উচ্চচাপ ব্যবহার করে জুস বা তেল আহরনের উপায়কে বলা হয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ার মুল বিষয় হলো এখানে উচ্চতাপের ব্যবহার হয় না (উচ্চতাপে অনেক ভিটামিন এবং পুষ্টি গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়) এবং প্রসেসিং এর সময়েও কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার হয় না।

কোল্ড প্রেসিং পদ্ধতিতে নারিকেলকে প্রাকৃতিকভাবে শুকিয়ে তার মধ্যে থেকে তেলটা বের করা হয়, কোন প্রকার তাপ ব্যবহার না করে।

ফলে তেলের প্রোটিন ও মিনারেলসগুলো প্রায় অক্ষুণ্ণ থাকে এবং হেলথ বেনেফিট ও বেশি পাওয়া যায়।কোল্ড প্রেসিং মূলত ভার্জিন নারিকেলের মাধ্যমেই করা হয়। 

আসল ভার্জিন নারিকেল তেল চেনার উপায়?  

ভার্জিন কোকোনাট অয়েল চেনা ৩ টি উপায় হলো –

ভার্জিন নারিকেল তেলের স্বাদ একদম পিওর নারিকেলের মতোই হবে। যদি স্বাদে একটুও এদিক-ওদিক হয় তাহলে বুঝে নিতে হবে তেলটি আসল ভার্জিন নারিকেল তেল নয়। 

তেলের বোতলটি ৩০ মিনিটের জন্য রেফ্রিজারেটরে রাখুন। ৩০ মিনিট পর যদি দেখতে পান তেলটি জমে গেছে তাহলে বুঝে নিতে হবে এটি আসল। 

আসল ভার্জিন নারিকেল তেলের কোনো নিজস্ব রং থাকবে না বা ট্রান্সপারেন্ট হবে। যদি কোন হলুদাভ কালার লক্ষ্য করেন তাহলে বুঝবেন তেলটি খাঁটি নয় বা কেমিক্যালি প্রসেসড।

চুলের যত্নে ভার্জিন নারিকেল তেল এর উপকারিতা

খুশকি প্রতিরোধ করে – ভার্জিন নারিকেল তেলের ভিটামিন ই ও কে সমৃদ্ধ ফ্যাটি এসিড খুশকি প্রতিরোধ করে।

চুলের ঘনত্ব বাড়ায় – ভার্জিন কোকোনাট অয়েল পুষ্টি উপাদানের সমৃদ্ধ। তাই এটি চুলের ঘনত্ব বাড়াতে দারুন কাজ করে। 

চুল ভেঙে যাওয়া এবং আগা ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ করে – ঘরোয়া উপায়ে চুলের যত্ন নিতে নারিকেল তেল ব্যবহার করলে চুল ভেঙ্গে পড়া এবং আগা ফাটা প্রতিরোধ করে। 

অকালে চুল পাকা প্রতিরোধ করে – মানসিক দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত কাজের চাপ , হরমোন, বাহ্যিক ক্ষতি ইত্যাদি কারণে চুল সাদা হতে শুরু করে। এক্ষেত্রে চুলে নারিকেল তেল নিয়মিত ম্যাসেজ করলে উপকার পাওয়া যায়। 

চুলের জট বাধা কমায় : ভার্জিন নারিকেল তেল চুলের জট ছাড়াতে পারে এবং জট পরা প্রতিরোধ করে।

চুল ও স্ক্যাল্পকে ময়েশ্চারাইজ করে : শুষ্ক স্ক্যাল্প এবং চুলকে ময়েশ্চারাইজড রাখতে ভার্জিন কোকোনাট অয়েল দারুন উপকারী।

উকুন কমায় : ভার্জিন নারিকেল তেলের অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের কারণে উকুন বৃদ্ধি লোপ পায়। 

চুলের ত্বকের ফোস্কা ও জ্বালাপোড়া কমায় : রোদ থেকে স্ক্যাল্পে ফোসকা ও জ্বালাপোড়া হতে পারে।

ভার্জিন নারিকেল তেলের অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্য এই জ্বালাপোড়ার পরিমাণ কমায় ও স্ক্যাল্পকে সুরক্ষা দেয়।

চুলের যত্নে ভার্জিন নারিকেল তেল এর সেরা ৭টি হেয়ার প্যাক

. চুলের গ্রোথ বাড়াতে :

ক) উপাদান : নারিকেল তেল, রোজমেরি এসেন্সিয়াল অয়েল এবং অ্যালোভেরা জেল 

খ) তৈরির নিয়ম : এক টেবিল চামচ নারিকেল তেল, এক টেবিল চামচ এলোভেরা জেল এবং ৩-৪ ফোটা রোজমেরী এসেন্সিয়াল অয়েল ভালোভাবে মিক্স করে নিন। 

গ) যেভাবে ব্যবহার করবেন : মিশ্রণটি স্ক্যাল্পে এবং চুলের গোড়ায় ভালোভাবে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন। 

ঘ) উপকারিতা : এটি চুলের গ্রোথ বাড়াতে এবং চুলকে মজবুত করতে সহায়তা করে। 

. চুল পড়া কমাতে হেয়ার প্রোটিন প্যাক :

ক) উপাদান : নারিকেল তেল এবং ডিম 

খ) তৈরির নিয়ম : দুই টেবিল চামচ নারিকেল তেল এবং একটি ডিম ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

গ) যেভাবে ব্যবহার করবেন : একটি স্প্রে বোতল ব্যবহার করে চুলকে হালকা ভিজিয়ে নিন। এবার এই হেয়ার প্যাকটি চুলে এপ্লাই করুন। ৩০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং শ্যাম্পু করে নিন। 

ঘ) উপকারিতা : এই প্যাকটি চুলের প্রোটিনের ঘাটতি দূর করে চুল পড়া কমায় ।

. চুলের ফ্রিজিনেস বা উষ্কখুষ্ক ভাব কমাতে :

ক) উপাদান : নারিকেল তেল, অ্যাভোকাডো এবং পাকা কলা

খ) তৈরির নিয়ম : একটা অ্যাভোকাডো, একটি পাকা কলা এবং ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল ভালোভাবে মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। 

গ) যেভাবে ব্যবহার করবেন : হেয়ার প্যাকটি চুলে ২০-২৫ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন। 

ঘ) উপকারিতা : প্যাকটি চুলের উষ্ক-খুষ্ক ভাব কমায় ও চুলে পুষ্টি যোগায়।

. চুলকে সফট এবং ময়েশ্চারাইজড রাখতে :

ক) উপাদান : ভার্জিন নারিকেল তেল 

খ) তৈরির নিয়ম : চুলোয় একটি পাত্রে পানি ফুটিয়ে নিন। এবার একটি বাটিতে পরিমাণ মতো নারিকেল তেল নিয়ে ফুটন্ত পানিতে বাটি-টি রেখে নারকেল তেলটি হালকা গরম করে নিন। 

গ) যেভাবে ব্যবহার করবেন : হালকা ভেজা চুলে এই তেলটি উষ্ণ অবস্থায় ব্যবহার করুন এবং স্ক্যাল্পেও ব্যবহার করুন।

একটি সাওয়ার ক্যাপ লাগিয়ে ১-২ ঘন্টার জন্য অপেক্ষা করুন। এরপর চুলে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। 

ঘ) উপকারিতা : একটি চুলকে সফট, স্মুথ এবং ময়েশ্চরাইজড রাখবে। 

. অর্গানিক হেয়ার কেয়ার এর মাধ্যমে খুশকি দূর করতে :

ক) উপাদান : নারিকেল তেল, ডিম এবং লেবুর রস 

খ) তৈরির নিয়ম : একটি ডিম, অর্ধেকটা লেবুর রস এবং এক টেবিল চামচ নারিকেল তেল একটি পাত্রে ভালোমতো মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। 

গ) যেভাবে ব্যবহার করবেন : প্যাকটি মাথায় লাগিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন শুকিয়ে গেলে চুল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং শ্যাম্পু করে নিন। 

ঘ) উপকারিতা : এই প্যাকটি খুশকি দূর করতে এবং চুলের ফ্রিজিনেস কমাতে কাজ করে। 

. ড্যামেজড এবং নিষ্প্রাণ চুলের যত্নে :

ক) উপাদান : নারিকেল তেল এবং মধু

খ) তৈরির নিয়ম : ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল এবং ১ টেবিল চামচ মধু ভালোমতো মিশিয়ে নিন।

গ) যেভাবে ব্যবহার করবেন : চুলে এপ্লাই করে ২০-৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। এরপর চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

ঘ) উপকারিতা : চুলের নিষ্প্রাণ ভাব দূর করে চুলকে করবে স্বাস্থ্যজ্জ্বল। 

. ন্যাচারালি চুলকে শাইনী করতে :

ক) উপাদান : নারিকেল তেল এবং অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

খ) তৈরির নিয়ম : ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল এবং ১ টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। 

গ) যেভাবে ব্যবহার করবেন : মিশ্রণটি পুরো চুলে লাগান। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে চুল ভালোমতো পরিষ্কার করে শ্যাম্পু করে নিন।

ঘ) উপকারিতা : এই প্যাকটি চুলকে ন্যাচারালি সাইনী করতে হেল্প করে এবং অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার চুলকে ডিপলি ক্লিন করে। 

ত্বকের যত্নে ভার্জিন নারিকেল তেল এর উপকারিতা

➤ত্বকের শুষ্কতা দূর করে – ভার্জিন কোকোনাট অয়েল ত্বকে ফ্যাটি লিপিড সরবরাহ করে, যা ত্বকে পর্যাপ্ত আদ্রতা বজায় রেখে শুষ্কতা থেকে মুক্তি দেয়। 

➤ব্রণ দূর করে – সমস্যা দূর করতে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল এর বিকল্প নেই। নারিকেল তেলে থাকা লরিক এসিড ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ব্রণ দূর করতে সহায়তা করে। 

➤রিংকেল প্রতিরোধ করে – ত্বকের যত্ন ভার্জিন কোকোনাট অয়েল অ্যান্টি-এজিং এর কাজও করে থাকে। 

➤ত্বকের ক্ষত নিরাময় করে – ভার্জিন কোকোনাট অয়েল ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা ত্বকের ক্ষত সারিয়ে তোলে। 

➤প্রদাহ কমায় – এছাড়াও একটি ত্বকের প্রদাহ সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর উপাদান নষ্ট করে ত্বকের প্রদাহ কমাতে কাজ করে।

ত্বকের যত্নে এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল ব্যবহার করে ৪টি সেরা ফেস মাস্ক –

১. কালো ও ছোপ ছোপ দাগ দূর করতে

ক) উপাদান : নারিকেল তেল এবং কাঁচা হলুদ 

খ) তৈরির নিয়ম : ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল গলিয়ে তাতে এক চিমটি কাঁচা হলুদ মিশিয়ে নিন।

গ) যেভাবে ব্যবহার করবেন : এই মিশ্রণটি মুখে ১৫ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন এবং তারপর ভালোভাবে পরিষ্কার করে দিন। 

ঘ) উপকারিতা : মুখের ছোপ ছোপ কালো দাগ দূর করে স্ক্রিনটোনকে ইভেন করে। 

২. নারিকেল তেলের অ্যান্টি-এজিং ফেসপ্যাক

ক) উপাদান : নারিকেল তেল, অ্যাভোকাডো এবং জায়ফল 

খ) তৈরির নিয়ম : খোসা ছাড়িয়ে একটি অ্যাভোকাডো চামচের সাহায্যে পেস্ট করে নিন। এবার এতে ৪ টেবিল চামচ নারিকেল তেল এবং এক টেবিল চামচ জায়ফল গুড়ো মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন।

গ) যেভাবে ব্যবহার করবেন : প্যাকটি সারা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে ফেলুন। 

ঘ) উপকারিতা : এই প্যাকটি ত্বকের বলিরেখা বা রিংকেল প্রতিরোধ করে অ্যান্টি-এজিংয়ে কাজ করে। 

৩. ব্রণ দূর করতে

ক) উপাদান : নারিকেল তেল, ওটমিল এবং উষ্ণ গরম পানি 

খ) তৈরির নিয়ম : একটি মিক্সিং বোলে ৩ টেবিল চামচ ওটমিল এবং ১/৪ কাপ উষ্ণ গরম পানি ভালোভাবে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। এবারে তো এক টেবিল চামচ নারিকেল তেল যোগ করুন এবং ভালোভাবে মেশান। 

গ) যেভাবে ব্যবহার করবেন : এই মিশ্রণটি মুখে ১৫ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট পর হালকা হাতে মুখে সার্কুলার মোশনে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করে প্যাকটি তুলে ফেলুন এবং পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। 

ঘ) উপকারিতা : প্যাকটি দিয়ে এভাবে ম্যাসাজের ফলে এটি ত্বকের মরা চামড়া দূর করে, পোরসগুলোকে ডিপল ক্লিন করে এবং ব্রণ প্রতিহত করে। 

৪. ত্বককে কোমল এবং গ্লোয়িং রাখতে

ক) উপাদান : নারিকেল তেল, মধু এবং টি ট্রি অয়েল 

খ) তৈরির নিয়ম : ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল, ২ টেবিল চামচ মধু এবং তিন থেকে চার ফোঁটা টি ট্রি ওয়েল ভালো মতো মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। 

গ) যেভাবে ব্যবহার করবেন : এই প্যাকটি মুখে ১৫ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন এবং পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। 

ঘ) উপকারিতা : এই ফেসপ্যাকটি ত্বকে নরম ও কোমল করে, ব্রণের বিরুদ্ধে লড়ে এবং ত্বকের হারানো জেল্লা ফিরিয়ে আনে। 

এ সম্পর্কে আরো জানতে পড়ুন –

এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল কিভাবে খেতে হয়?

এই ধরনের নারিকেল তেল রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি কফি অথবা চায়েও ব্যবহার করা হয়।

যে কোনও খাবারের সঙ্গে বিশেষ করে সকালে উঠে এক্সট্রা ভার্জিন প্রয়োজন নারকেল তেল খেলে শুধু ত্বকের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি পায় না, চুলেরও বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়।

প্রতিদিন খাবারে দুই টেবিল চামচ পরিমাণ নারকেল তেল যুক্ত করলে শরীরে জমা হওয়া অতিরিক্ত ‘অ্যাবডোমিনাল ফ্যাট’ কমিয়ে ফেলে। এতে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

নিয়মিত খাদ্য তালিকায় নারিকেল তেল ব্যবহার করে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক আর ঝলমলে চুলের অধিকারী হতে পারবেন আপনিও।

এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল খেলে কি কি উপকার হয়

জেনে নিন রান্নায় নারিকেল তেল ব্যবহার করলে কি কি উপকারিতা পাবেন – 

ওজন কমায় – ভার্জিন নারিকেল তেলের উপস্থিত উপকারী ফ্যাটি এসিড শরীরের অতিরিক্ত মেদকে ঝড়িয়ে ফেলে এবং মেটাবলিক রেট বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ওজন বাড়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় – এতে থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল লিপিড, ল্যারিক অ্যাসিড, ক্যাপরিক অ্যাসিড এবং ক্যাপরাইলিক অ্যাসিড শরীরে প্রবেশ করে ইমিউনিটিকে শক্তিশালী করে তোলে।

যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। 

হজম ক্ষমতা বাড়ায় – ভার্জিন নারিকেল তেল পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। 

দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় – দাঁতের সুরক্ষায় ক্যালকিউমিন নামক একটি উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শরীরে ক্যালকুলোমেন ঠিক মতো শোষণে ভূমিকা রাখে নারিকেল তেল। 

শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়ায় – নারিকেলে তেলে থাকা মিডিয়াম চেন ট্রাইগ্লিসারাইড এবং ফ্যাটি অ্যাসিড লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ত্বক এবং চুলের উন্নতি সাধন – এছাড়াও এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল ত্বক এবং চুলের সার্বিক উন্নতি সাধনে ভূমিকা রাখে।

এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল বেসড কয়েকটি বেস্ট প্রোডাক্ট হলো Ceylon Naturals Organic Extra Virgin Coconut Oil, Skin Cafe 100% Natural Cold Press Coconut Oil এবং Jergens Hydrating Coconut Oil Infused Moisturizing Body Lotion। 

ভার্জিন নারিকেল তেল ব্যবহারের সময় যে বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখবেন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী নারীদের ক্ষেত্রে দিনে ২০ গ্রাম এবং পুরুষের ক্ষেত্রে দিনে ৩০ গ্রামের বেশি নারিকেল তেল খাওয়া ঠিক নয়। 

অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকে নারিকেল তেল ব্যবহার না করাই ভালো। 

প্রথমবার নারকেল তেল ত্বকে ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট বা পরীক্ষামূলক ব্যবহার করে নিতে হবে।

সাধারণ নারিকেল তেল ব্যবহার না করে এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল ব্যবহার করা সবথেকে ভালো। 

এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল ব্রণ কমাতে সহায়ক তবে এক্ষেত্রে ত্বকে অতিরিক্ত নারিকেল তেল ব্যবহারের মাধ্যমে পোরস বন্ধ হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে। 

চুলে নারিকেল তেল ব্যবহারের পর ফেইশওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিবেন।

নাহলে নারিকেল তেল অনেকক্ষণ ত্বকে লেগে থেকে রোমকূপ বন্ধ হওয়া এবং ব্রণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ত্বক, চুল এবং স্বাস্থ্যের যত্নে এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল অপ্রতিদ্বন্দী। প্রাকৃতিকভাবে কোমল সুন্দর ত্বক ও ঝলমলে চুল পেতে চাইলে এক্ষেত্রে একটি অব্যর্থ এবং কার্যকর উপাদান হলো ভার্জিন নারিকেল তেল।

এজন্য আনরিফাইন্ড নারিকেল তেল বা এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল বেশ ভালো কাজ করে।

এর স্বাস্থ্য গুনাগুনও কিন্তু কম নয়। তাই প্রাকৃতিক উপায়ে চুল, ত্বক এবং স্বাস্থ্য পরিচর্যায় নিয়মিত রাখতে পারেন ভার্জিন কোকোনাট অয়েল।

তবে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সুপারিশকৃত উপায়ে, তা না হলে হতে পারে বিপরীত প্রতিক্রিয়া।

আরো একটি মজার ব্যাপার হলো পরিশোধিত নারিকেল তেলের সেল্ফ লাইফ ১.৫-২.৫ বছর হলেও ভার্জিন নারিকেল তেল এর সেল্ফ লাইফ ৩-৫ বছর হয়ে থাকে।

অর্থাৎ এটি আপনি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে ব্যবহার করতে পারবেন। 

FAQ :

ক) কোন তেল চুলের জন্য ভালো ?

বিশেষজ্ঞদের মতে চুলের জন্য সবথেকে ভালো তেল হলো নারিকেল তেল বা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল। 

খ) নারকেল তেল গরম করে মাথায় দিলে কি হয়?

নারিকেল তেল হালকা গরম করে মাথায় দিলে স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এতে চুল পড়া কমে। 

গ) নারকেল তেল চুলে কতক্ষণ রাখবেন?

হেয়ার এক্সপার্ট-গণ জানিয়েছেন, তেল থেকে চুল ও মাথার ত্বকের পুষ্টি সংগ্রহ করতে সময় প্রয়োজন হয় ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মতো। তাই চুলে তেল দিয়ে ১ ঘন্টা রাখাই যথেষ্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment

Name

Home Shop Cart Account
Shopping Cart (0)

No products in the cart. No products in the cart.