infixnatural.com/

নিজেকে স্মার্ট করে তোলার উপায়

নিজেকে স্মার্ট করে তোলার উপায়

নিজেকে স্মার্ট করে তোলার উপায় আমরা অনেকেই জানি না। বর্তমান সময়ে স্মার্ট ব্যক্তিদের কদর সব জায়গায়ই বেশি।

আপনি প্রত্যেকের কাছ থেকে কতোটুকু প্রায়োরিটি পাবেন বা আপনি কতোটা অপরচুনিটি গেইন করতে পারবেন তা নির্ভর করবে আপনার স্মার্টনেস এর উপরে।

আমরা সবাই চাই নিজেকে স্মার্ট করে তুলতে এবং নিজেকে স্মার্ট করে তোলার উপায় ও জানতে চাই। নিজেকে স্মার্ট করতে আমরা কতো কিছুই না করি।

তবুও কেমন যেন কমতি থেকে যায়, মনে হয় নিজেকে যদি আরও একটু স্মার্ট করা যেতো।

আসলে দামি দামি পোশাক আর ভালো ব্রান্ডের প্রসাধনী ব্যবহার করলেই শুধু স্মার্ট হওয়া যায় না।

স্মার্টনেস হলো একটা আর্ট, একটা বিশেষ পদ্ধতি যার মাধ্যমে একজন মানুষ যে কোনো পরিবেশে, যে কারো কাছে নিজেকে গ্রহনযোগ্য করে তোলে।

স্মার্ট হতে চাইলে আমাদের কথা-বার্তা, পোশাক-আশাক , চলাফেরা, রূপচর্চা, আচার ব্যবহার সহ বেশ কিছু দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে এবং যত্নবান হতে হবে। 

এইখানে নিজেকে স্মার্ট করে তোলার উপায় গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: 

পোশাক: 

মানুষ হোক বা অন্য যে কোনো কিছু, দেখতে সুন্দর না হলে তার যতো গুনই থাক না কেন প্রথম দর্শনেই তার প্রতি একটু নেগেটিভ ইমপ্রেশন তৈরি হয়। তাই পোশাক আশাকে নিজেকে সব সময় স্মার্ট রাখার চেষ্টা করুন।

পরিধেয় পোশাকটি কম দামি হোক কিন্তু তা যেন থাকে শরীরের সাথে মানানসই এবং পরিষ্কার। 

পরিবেশ বুঝে পোশাক নির্বাচন করুন। কোন পরিবেশে কোন ধরনের পোশাক মানানসই তা বুঝতে হবে।

অফিস টাইমে যেমন ক্যাজুয়াল লুক বেমানান, তেমনি পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ফর্মাল লুকও বেমানান।

তাই আশেপাশের লোকজন ও পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সঠিক পোশাকটি নির্বাচন করুন ।  

কাপড়ের কোনো অংশ যাতে ছেঁড়া না থাকে, কোনো অংশ যাতে কোঁচকানো না থাকে এদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিন।

বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে, অফিসে, বা বাইরে কোথাও বের হলে অবশ্যই কাপড় আয়রন করে নিবেন।

আপনার পোশাকেই সব থেকে বেশি স্মার্টনেস ফুটে ওঠে, তাই নিজেকে স্মার্ট করে তুলতে সবার আগে পোশাকে গুরুত্ব দিতে হবে। 

জুতা: 

পোশাকের সাথে সাথে জুতার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অনেকেই প্রথম দর্শনে মানুষের পায়ের দিকে খেয়াল করে এবং অন্যের সম্পর্কে বেসিক ধারনা নেয়।

শরীর ও পোশাক পরিপাটি হলেও পায়ের জুতো মানানসই না হলে পুরো লুকটাই শেষ। 

সব সময় ভালো ব্রান্ডের জুতা পড়ার চেষ্টা করবেন। জুতাটি যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং আপনার পায়ের সাথে মানানসই হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখবেন।

পোশাকের সাথে মিল রেখে সঠিক প্যাটার্নের জুতো পড়ুন।

যেমন: শাড়ির সাথে একটু উঁচু সোল এর জুতা, ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সাথে লোফার, ফর্মাল পোশাকের সাতে সু, ক্যাজুয়াল লুকে স্লিপার বা লোফার। 

নিয়মিত জুতা পরিষ্কার করবেন এবং প্রয়োজনে কালি করিয়ে নিবেন, ছেড়া জুতা বা সেলাই করা জুতা পরিহার করা জরুরি। 

মেকআপ লুক: 

মেকআপ নিয়ে কম বেশি তর্ক বিতর্ক চললেও, মেকআপ আপনার নতুন একটি লুক ক্রিয়েট করবে এবং আপনাকে অনেকটা আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

তাই, যে কোনো অকেশন হোক বা অফিস টাইম অথবা ভার্সিটি টাইমে পরিবেশ অনুযায়ী কম বেশি মেকআপ লুক ক্রিয়েট করলে আপনাকে অনেকটা স্মার্ট লাগবে।

তবে পরিবেশ ভেদে মেকআপ লুক যেন বেমানান না হয় সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।

মেক-আপ মানেই যে ভাড়ি ফাউন্ডেশন, গাড় লিপস্টিক, পুরো মুখভর্তি রঙ তা কিন্তু নয়।  মেকআপ লুক আনতে হবে অনেকটা ন্যাচারাল ভাবে।

মুখের স্পট, ডার্ক সার্কেল হাইড করে মুখ যেন একটু বেশি গ্লোয়িং লাগে এটাই মেক আপ এর মূল উদ্যেশ্য।

নিজেকে সবার সামনে স্মার্ট হিসেবে প্রেজেন্ট করতে চাইলে পরিবেশ, পরিস্থিতি মাথায় রেখে পারফেক্ট মেকআপ লুক ক্রিয়েট করাটা গুরুত্বপূর্ণ। 

স্কিন কেয়ার:

ছেলে হোক বা মেয়ে, ত্বকের যত্নে প্রত্যেকেরই হয়ে ওঠা উচিত সমানভাবে সচেতন। আপনি ড্রেস আপ ঠিক রাখলেন, ত্বকের সমস্যা ঢাকতে মেকআপ নিলেন কিন্তু আপনার ত্বক পরিষ্কার সতেজ ও সুন্দর রাখার চেষ্টা করলেন না, তার মানে আপনার পুরো চেষ্টা টাই মোটামুটি ব্যর্থ হলো।

ত্বকের পুষ্টি ধরে রেখে প্রাকৃতিক ভাবে নিজেকে সুন্দর রাখতে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিতে হবে।

ত্বক সুন্দর ও সতেজ রাখাটাও স্মার্টনেস একটা পার্ট।  

ত্বককে জীবাণুমুক্ত রাখতে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করুন। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ফেইস প্যাক ব্যবহার করুন।

চুলের যত্নে প্রতি সপ্তাহে হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল পরিষ্কার করুন।

শরীরের প্রতিটি অংশ সুন্দর রাখতে সপ্তাহে বা মাসে একবার বডি প্যাক ব্যবহার করুন।

এর ফলে হাত, পা সহ পুরো শরীরের মলিনতা দূর হয়ে আলাদা সৌন্দর্য নিয়ে আসবে। স্মার্ট ব্যক্তি সবসময়ই নিজের শরীরের প্রতি যত্নবান হয়।

শরীর চর্চা ও ডায়েট:

শরীরের ফিটনেস ও সুন্দর গঠন স্মার্ট হওয়ার পূর্ব শর্ত। নিজেকে সবার সামনে একটু আলাদা ভাবে প্রেজেন্ট করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সুন্দর ও সুঠাম দেহের অধিকারী হতে হবে।

নিজের শরীরের গঠন ঠিক রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা ও ব্যায়াম করতে হবে।

শরীরে মেদ জমতে দেয়া যাবে না আবার অতিরিক্ত কাঠখোট্টা শরীরও গঠন করা যাবে না। খাবার দাবারে নির্দিষ্ট ডায়েট চার্ট ফলো করতে হবে। 

শরীরের গঠন সুন্দর হলে সব ধরনের বাহ্যিক সাজসজ্জায় আপনাকে স্মার্ট লাগবে।

বডি শেইপ সুন্দর না থাকলে উপর থেকে যতোই মাজা ঘষা করুন না কেন কিছুটা বেমানান লাগবেই।

তাই নিজেকে স্মার্ট করতে চাইলে শরীর গঠনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। 

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা:

নোংরা ও অগোছালো লোকজন কখনোই কোথাও গ্রহনযোগ্যতা পায় না।

সুন্দর পোশাক পরে, ভালো ব্রান্ডের জুতা, অর্নামেন্টস পড়ে নিজেকে স্মার্ট হিসেবে প্রদর্শন করলেন তো ঠিকই কিন্তু ব্যবহারিক আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র এমনকি আপনি নিজেও পরিচ্ছন্ন আছেন তো? আপনার উত্তর যদি হয় “না”- তাহলে আপনার সম্পূর্ণ চেষ্টার ফলাফল হবে “জিরো “।  

পোশাক, শরীরের ত্বক, মাথার চুল, হাত-পায়ের নখ, পায়ের জুতা সবকিছু ১০০% পরিষ্কার রাখতে হবে৷ স্মার্ট ব্যক্তি কখনোই নিজেকে অপরিষ্কার রাখে না এবং অগোছালো হয় না।

কথা বলার স্টাইল:

আপনার বাহ্যিক স্মার্টনেস এর পাশাপাশি কথা বার্তায়ও আপনাকে স্মার্ট হতে হবে।

সুন্দর সাজসজ্জা, সুন্দর বডি ফিটনেস, নজরকড়া সৌন্দর্য নিয়ে সবার সামনে নিজেকে প্রেজেন্ট করলেন, অথচ আপনার মুখের ভাষা মার্জিত নয়।

এমন হলে কেউই আপনাকে স্মার্ট হিসেবে গন্য করবে না। যিনি স্মার্ট তাকে সব দিক থেকে স্মার্ট হতে হবে।

কথা বলার সময় অযাচিত ভাষা ব্যবহার করা যাবে না, কথার মধ্যে দাম্ভিকতা বা অহংকার প্রকাশ করা যাবে না, আস্তে ধীরে ঠান্ডা মাথায় পরিবেশ বুঝে কথা বলতে হবে।

শারীরিক সৌন্দর্যের সাথে মিল রেখে মুখের ভাষায়ও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে পারলে আপনি পারফেক্ট স্মার্ট হিসেবে গন্য হবেন।

আচরণ:

আপনার আচরণই বলে দিতে পারবে আপনি আসলে মানসিক ভাবে কতোটা স্মার্ট। অন্যের সাথে আপনার আচরণ হতে হবে মার্জিত।

সবার সাথে সামাজিকতা রক্ষা, মিশুকে স্বভাব, সব সময় হাসিখুশি থাকা, অন্যকে সম্মান করা, পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি রাখা ইত্যাদি আচরণগত স্মার্টনেস এর বৈশিষ্ট্য। 

স্মার্ট ব্যক্তির গ্রহনযোগ্যতা যেমন বেশি, নিজেকে স্মার্ট করে তোলাও তেমনই সহজসাধ্য নয়।

তাই সব দিক থেকে সব সময় সচেতন থাকুন ও ধীরে ধীরে স্মার্ট হওয়ার ভালো অভ্যাসগুলো নিজের মধ্যে গড়ে তুলুন।

জ্ঞান ও দক্ষতা:

আপনাকে স্মার্ট হতে হলে অবশ্যই দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়িত প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে মোটামুটি জ্ঞান রাখতে হবে।

যে কোনো সিচুয়েশনে তাৎক্ষণিক ভাবে সমস্যা সমাধান করতে পারাটা সবথেকে বড় স্মার্টনেস। এ

ছাড়া দৈনন্দিন জীবনের বেসিক স্কিলগুলো আয়ত্তে রাখাটা বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি যে সেক্টরে কাজ করেন অবশ্যই সেই বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি জ্ঞান আয়ত্তে রাখবেন।

কথা বার্তা, আচার আচরণে অজ্ঞতার প্রকাশ আপনার স্মার্টনেসকে একদমই নষ্ট করে দেবে।


তবে যে বিষয়ে আপনার কোনো ধারণা নেই সে সম্পর্কে শুধু শুধু তর্ক বা আলোচনায় জড়াবেন না।

নয়তো নিজেকে স্মার্ট হিসেবে প্রদর্শন করতে গিয়ে উল্টো বোকা বনে যাবেন।

স্মার্ট লোকজন সব বিষয়েই মোটামুটি সিচুয়েশন মেকআপ করার মতো বেসিক ধারণা রাখে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment

Name

Home Shop Cart Account
Shopping Cart (0)

No products in the cart. No products in the cart.