পার্লার নয় ঘরে বসেই করুন গোল্ড ফেসিয়াল। স্পেশাল কোনো অকেশনের আগে বা মান্থলি স্কিন কেয়ার করার জন্য সবাই আমরা পার্লারে দৌড়াই। পার্লারে গিয়ে কি করি? সবথেকে ভালো সার্ভিস হিসেবে নেই গোল্ড ফেসিয়াল এবং বেশ বড় একটি বাজেট খরচ করে আসি। এই পার্লারের কাজটা যদি বাড়িতে করা যায় তবে কেমন হয়?
হ্যাঁ, গোল্ড ফেসিয়াল করা সম্ভব বাড়িতে এবং খুবই কম খরচে। পার্লারে গোল্ড ফেসিয়াল করতে গেলে প্রথমত হাতে লম্বা সময় নিয়ে যেতে হয়, তার উপরে হাই বাজেট তো আছেই। এসব সমস্যার একমাত্র সমাধান হতে পারে পার্লারের গোল্ড ফেসিয়ালটি বাড়িতেই সেরে ফেলা। যদিও বাড়িতেও সময় একটু দিতে হবে, তবে এটা নিজের ইচ্ছে মতো যে কোনো সময়েই করে নেয়া যাবে।
তো প্রথমেই জেনে নেয়া দরকার গোল্ড ফেসিয়াল কেন করা উচিত?
১. গোল্ড ফেলসিয়াল করলে মুখের উপরের লেয়ারের ময়লা একেবারে ডিপ ক্লিন হয়ে যায়। ফলে স্কিনের প্রাকৃতিক জেল্লা পুনরায় ফিরে আসে।
২. স্কিনের কালচে ভাব কমিয়ে মুখে আনে এক্সট্রা গ্লো, চেহারা কয়েক শেড পর্যন্ত ফর্সা করে ইনস্ট্যান্টলি। তাইতো কোনো উৎসব অনুষ্ঠানে নিজেকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে গোল্ড ফেসিয়াল সবার পছন্দের স্কিন ট্রিটমেন্ট।
৩. গোল্ড ফেসিয়াল এর সাথে গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হিসেবে থাকে গোল্ড ব্লিচ যা মুখের উপরিভাগ সোনালি আভায় ভরিয়ে দেয়। ফলে স্কিন হয় অনেক বেশি উজ্জ্বল ও গর্জিয়াস।
৪. মাসে একবার বা দুইবার গোল্ড ফেসিয়াল করলে ত্বক ডিপ ক্লিন হয় এবং ত্বকের ড্যামেজ দূর হয়। ডিপ ক্লিনের মাধ্যমে ত্বকের মৃত কোষগুলো ঝড়ে পড়ে, ফলে ত্বক হয়ে ওঠে প্রানবন্ত ও আকর্ষণীয়।
ঘরে বসে গোল্ড ফেসিয়াল করতে কী কী উপকরণ বা প্রোডাক্ট দরকার?
ঘরে বসে ফেসিয়াল করার জন্য প্রথমে আমাদের কিছু ফেসিয়াল প্রোডাক্ট কিনে নিতে হবে। একবার ফেসিয়াল করতে পার্লারে যে টাকা খরচ হবে তা দিয়ে প্রোডাক্ট কিনলে কয়েক মাস ব্যবহার করা যাবে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সব প্রোডাক্ট একসাথে কালেক্ট করতে হবে। তাহলে জেনে নেয়া যাক ঘরে বসে গোল্ড ফেসিয়াল করতে কী কী প্রোডাক্ট লাগবে।
১. ব্লিচ (গোল্ড অথাবা ম্যংগো ব্লিচ- নিজের পছন্দের ব্রান্ডের)
২. যে কোনো দুটো ম্যাসাজ ক্রিম। (তবে চন্দন এবং ম্যাংগো ম্যাসাজ ক্রিম সবথেকে ভালো হবে)
৩. স্ক্রাবার (নিজের পছন্দের যে কোনো ভালো ব্রান্ডের একটি স্ক্রাবার)
৪. ব্রাশ ( ট্রান্সপারেন্ট মেটেরিয়াল এর মাঝারি সাইজের ফেসিয়াল ব্রাশ)
৫. গোল্ড ফেইস প্যাক (পছন্দের যে কোনো ব্রান্ড)
৬. স্কিন টোনার
৭. ফেসিয়াল বেল্ট
৮. ফেসিয়াল টিস্যু
এই প্রোডাক্ট গুলো থাকলে যে কেউ খুব সহযেই গোল্ড ফেসিয়াল করতে পারবে। একসাথে সব প্রোডাক্ট সেট কিনে রাখলে কয়েক মাস ব্যবহার করা যাবে। তবে প্রোডাক্ট পারচেস করার আগে অবশ্যই দেখে নিতে হবে যাতে প্রোডাক্ট এর মেয়াদ কমপক্ষে ১ বছর থাকে। (মানে কেনার পরেও যাতে ১ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়)
গোল্ড ফেসিয়াল পদ্ধতি :
কয়েকটি স্টেপে গোল্ড ফেসিয়াল করতে হবে। নিম্নে বর্ণিত ধাপ গুলো একটা ধারাবাহিকতায় অনুসরণ করতে হবে।
ধাপ ১: ফেইস ক্লিন করে নেয়া
পুরো মুখ সহ গলা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে রেগুলার ব্যবহৃত ফেইস ওয়াশ বা সাবান দিয়ে ফেইস ক্লিন করে নিলেই হবে। ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার টাওয়েল বা টিস্যু দিয়ে মুখমন্ডল, গলা ও ঘাড়ের পানি পুরোপুরি মুছে নিতে হবে।

ধাপ ২: ব্লিচ
গোল্ড ফেসিয়াল এর সবথেকে প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ব্লিচ করা। তবে যাদের অতিরিক্ত এলার্জি ও ব্রনের সমস্যা আছে তারা এই স্টেপ টা স্কিপ করতে পারেন। কেননা ব্লিচ ক্রিমের সাথে যে সল্ট থাকে তা এলার্জির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্লিচ ছাড়াও পরের ধাপ অনুসরণ করে গোল্ড ফেসিয়াল করা সম্ভব।
ব্লিচ ক্রিমের বক্সে তিনটা উপাদান পাওয়া যাবে। একটা আছে প্রি ব্লিচ ক্রিম। প্রি ব্লিচ ক্রিম হাতে নিয়ে পুরো মুখে ও গলায় নরমাল ক্রিমের মতো ম্যাসাজ করে এপ্লাই করতে হবে। তারপর একটি ছোট পাত্রে বক্সের মধ্যে থাকা ব্লিচ ক্রিম ও সল্ট পরিমান মতো মিক্স করে নিতে হবে। একটু পাতলা করতে চাইলে দুই তিন ফোটা পানি দিয়ে নিতে হবে মিশ্রনের সাথে। তারপর ফেসিয়াল ব্রাশের সাহায্যে পুরো মুখে ও গলায় এপ্লাই করতে হবে। ব্লিচ স্কিনের পশম সোনালি করে ফেলবে তাই লক্ষ রাখতে হবে ভ্রু, চোখের পাপড়ি বা চুলে যাতে কোনো ভাবেই ব্লিচ না লেগে যায়। ১৫/ ২০ মিনিট রেখে নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। ব্লিচ এপ্লাই করে কোনো ভাবেই ম্যাসাজ করা যাবে না।
ধাপ ৩: ক্লিনজার এপ্লাই
ব্লিচ ধুয়ে ভালোভাবে টাওয়েল দিয়ে মুছে ক্লিনজার হাতে নিয়ে মুখে ম্যাসাজ করতে হবে। এতে ত্বক ডিপ ক্লিন হবে এবং ব্লিচ ক্রিম কেথাও লেগে থাকলে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। কেননা ব্লিচ ক্রিমের সাথে ফেসিয়াল প্যাক বা ম্যাসাজ ক্রিম মিক্স হয়ে গেলে নানান সমস্যা হতে পারে। ক্লিনজার এপ্লাই করে ৫ মিনিট ধরে মুখে ম্যাসাজ করতে হবে।

ধাপ ৪: ম্যাসাজ ক্রিম এপ্লাই
এ পর্যায়ে দুটো ম্যাসাজ ক্রিম থেকে যে কোনো একটা এপ্লাই করে ম্যাসাজ করতে হবে। প্রথমে চন্দন ম্যাসাজ ক্রিমটা এপ্লাই করলেই বেটার হবে। ম্যাসাজ ক্রিম এপ্লাই করে ১০ মিনিট ধরে দুই হাতের সাহায্যে অনবরত ম্যাসাজ করতে হবে। প্রয়োজনে অন্যাের সাহায্য নিলে বেশি ভালো হয়। ম্যাসাজ করার সময় ফেইস এর নিচের দিক থেকে উপরের দিকে পুশ করতে হবে। ১০ মিনিট ম্যাসাজ করার পর ফেসিয়াল টিস্যু সামান্য ভিজিয়ে মুখ ও গলা ক্লিন করে নিতে হবে।
ধাপ ৫: স্ক্রাবিং
এ পর্যায়ে নিজের পছন্দের স্ক্রাবার মুখে এপ্লাই করে আলতো হাতে স্ক্রাবিং করতে হবে। স্ক্রাবিং এর ক্ষেত্রে স্কিন এর উপর খুব বেশি প্রেশার ক্রিয়েট করা যাবে না। পুরো মুখমণ্ডল সহ গলায় ম্যাসাজ করতে হবে নিচ থেকে উপরের দিকে। ১০ মিনিট ধরে স্ক্রাবিং করতে হবে। এরপর আবার ফেসিয়াল টিস্যু দিয়ে ফেইস ক্লিন করে নিতে হবে।

ধাপ ৫: পুনরায় ম্যাসাজ ক্রিম এপ্লাই
স্ক্রাবিং এর পরে যে ম্যাসাজ ক্রিম টা এপ্লাই করা বাকি আছে সেটা এপ্লাই করে আবার ম্যাসাজ করতে হবে। ম্যাসাজ এর কাজরা খুব ধৈর্য সহকারে সময় নিয়ে করতে হবে। মূলত ম্যাসাজ এর কারনেই ফেইস ক্লিন হয়ে প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরে আসবে৷ এ পর্যায়ে ও ১০ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করতে হবে। ক্লিজার থেকে শুরু করে দ্বিতীয় ম্যাসাজ পর্যন্ত মোট ৩৫ মিনিট সময় ম্যাসাজ করতে হবে। এরপর আবার টিস্যু দিয়ে ফেইস পরিষ্কার করে নিতে হবে।
ধাপ ৬: ফেইস প্যাক এপ্লাই
গোল্ড ফেসিয়াল এর সর্বশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ফেইস প্যাক এপ্লাই করা। একটি পাত্রে প্রয়োজন মতে গোল্ড ফেইস প্যাক নিয়ে তার সাথে দুই চামচ স্কিন টোনার মিক্স করতে হবে। প্রয়োজনে আরেকটু পানি মিক্স করে ফেইস প্যাক এর কনসিসটেনসি ঠিক করে নিতে হবে।

এবার একটি ব্রাশের সাহায্যে পুরো মুখে ও গলায় এপ্লাই করে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফেইস প্যাক শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার নরমাল পানি দিয়ে আস্তে আস্তে স্ক্রাব করে উঠিয়ে ফেলতে হবে।
বি. দ্র:
ফেসিয়াল শুরু করার প্রথমেই ফেসিয়াল বেল্ট মাথায় লাগিয়ে নিতে হবে।
ফেসিয়াল শেষে অবশ্যই স্কিনে ময়েশ্চারাইজার এপ্লাই করতে হবে।
এলার্জির সমস্যা থাকলে ব্লিচ বাদ দিয়ে অন্য স্টেপ গুলে ফলো করতে হবে।



