আমাদের প্রত্যেকের জীবনের একটি কমন সমস্যা বেলিফ্যাট কমানো। কম খাচ্ছেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করছেন তবুও পেটের চর্বি বেড়েই চলেছে এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়।
পেটের অতিরিক্ত ফ্যাটের কারনে যে কোনো সাজসজ্জায় আমাদের আউট ফিট পারফেক্ট হয় না।
নিজের স্মার্টনেস ধরে রাখার জন্য আমাদের স্কিন টোন সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি শারিরীক গঠন সুন্দর করাটাও অত্যন্ত জরুরি।
তাইতো পেটে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি যাতে সহযেই দূর করা যায় সে বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে আমাদের আশেপাশে বেশ কিছু সহজলভ্য উপাদান আছে যা নিয়মিত খেলে অতিরিক্ত বেলিফ্যাট কমবে এবং হওয়া যাবে জিরো ফিগারের অধিকারী।
চলুন জেনে নেই ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে খুব সহযেই বেলিফ্যাট কমানো যায়।
পেটের চর্বি কমানোর প্রথম শর্ত হলো আমাদের লাইফস্টাইলের পরিবর্তন। বেলিফ্যাট কমানোর জন্য খাদ্যতালিকার দিকে দিতে হবে বিশেষ নজর।
অতিরিক্ত তেল-চর্বি যুক্ত খাবার পেটে চর্বি জমার প্রধান কারণ। তেল-চর্বি যুক্ত খাবারের বদলে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে হেলদি ফুড।
বিশেষজ্ঞরা বেলিফ্যাট কমানোর জন্য খাদ্য তালিকায় যে সকল খাবার রাখতে বলে তা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
১. লেবু
আমাদের শরীরের চর্বি দূর করতে লেবু একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সবার বাড়িতেই কম বেশি লেবু থাকে সবসময়।
নিয়মিত লেবু ব্যবহারে পেটের চর্বি দূর হবে সেই সাথে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
লেবুতে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল উপাদান হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
নিয়মিত লেবুর রস সেবনের ফলে এটি শরীরের টক্সিন বের করে শরীর ফ্রেশ করে।
মেটাবলিজম ও হজমশক্তি বৃদ্ধি করে ফলে পেটের চর্বি আস্তে আস্তে কাটতে থাকে।

লেবুর রস পান করার সঠিক সময় ভোরে। সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সাথে একটি লেবুর রস ও এক চামচ মধু মিশিয়ে নিয়মিত পান করতে হবে।
এই পদ্ধতি নিয়মিত অনুসরণ করলে পেটের জমে থাকা পুরোনো চর্বি কমিয়ে হওয়া যাবে জিরো ফিগারের অধিকারী। তাছাড়া দুপুরে ও রাতে খাওয়ার পরে শুধু লেবুর রস খেলও উপকার পাওয়া যাবে।
২. শসা
শসা একটি জিরো ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার। শসায় আছে অ্যান্টি-ডায়াবেটিক এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা আমাদের পেটের সব ধরনের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে এবং পেট পরিষ্কার করে।
পেটের চর্বি দূর করার পূর্বশর্ত হলো পেট পরিষ্কার রাখা এবং পেটের হজম শক্তি বৃদ্ধি করা। ডায়েট চার্টে শসা একটি আদর্শ খাবার।
বার বার ক্ষুধা পেলে খাদ্যতালিকায় শসা রাখা যেতে পারে, কেননা শসা কাওয়ার ফলে ক্ষুধা নিবারন হবে কিন্তু কোনো ক্যালরি শরীরের জমা হবে না।
বরং শসায় থাকা ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরকে সুস্থ রাখবে এবং ওজন হ্রাস করবে।
শসা খাওয়ার সময় এর খোসা ফেলে না দিয়ে খোসা সহ শসা খাওয়া যেতে পারে। শসার থেকেও শসার খোসায় পুষ্টিগুণ বেশি থাকে।
শসার সালাদ বানিয়ে সকালে ও দুপুরের খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে। খোসা সহ শসা কেটে তার সাথে অলিভ বা জলপাই, সামান্য বিট লবন ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে সালাদ তৈরি করে দুপুরে ও রাতে খেলে পেটের চর্বি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তাছাড়া শসার স্যুপ বানিয়েও খাওয়া যেতে পারে। শসার সাথে টক দই সামান্য চিনি, লবন, লেবুর রস ও তাজা মেথির পাতা দিয়ে একসাথে ব্লেন্ড করে ঠান্ডা বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করা যেতে পারে।
এতে শরীর ফ্রেশও থাকবে তার সাথে সাথে পেটের চর্বিও কাটবে। শুধু শসা কেটে টক দই এর সাথে মিক্স করে খেলেও উপকার পাওয়া যাবে।
৩. টক দই
বেলিফ্যাট কমাতে টক দই একটি আদর্শ খাবার। টক দই কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ সারাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের পেট সব সময়ই কিছুটা ফোলা থাকে এবং সহযেই পেটে চর্বি জমতে থাকে। নিয়মিত টক দই খেলে পেট পরিষ্কার থাকে এবং পেটের চর্বি কাটে।
প্রতিদিন খাবারের পরে টক দই খাওয়া স্বাস্থের জন্য উপকারী। তাছাড়া টক দই ও ফল দিয়ে সালাদ তৈরি করে খাওয়া যেতে পারে।
ফল প্রয়োজন মতো টুকরো করে কেটে টক দই ও লেবুর রস মিশিয়ে নিয়মিত খেলে পেটের চর্বি কমবে।
দই দিয়ে শরবত তৈরি করে খাওয়া যেতে পারে। টক দৈ এর শরবত আমাদের হজমে সহায়তা করে এবং শরীর ঠান্ডা রাখে।
টক দই, লবন ও সামান্য চিনি ব্যবহার করে শরবত তৈরি করা যেতে পারে। তবে চিনি ছাড়া শুধু লবন দিয়ে খেতে পারলে সবথেকে বেশি ভালো।
৪. মেথি
শরীরের ওজন কমাতে মেথি খুব দ্রুত কাজ করে। মেথিতে আছে ক্যারোটিনয়েড যা আমাদের শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে ওজন হ্রাস করে।

নিয়মিত মেথি খেলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে না, ফলে স্বাভাবিক ভাবেই শরীরের ওজন কমতে থাকে। বিভিন্ন পদ্ধতিতে মেথি খাওয়া যায়।
চায়ের সাথে নিয়মিত মেথি খাওয়া যেতে পারে। সাধারণভাবে রং চা বানিয়ে তার সাথে মেথি পাউডার মিক্স করে নিয়মিত খেলে পেটের চর্বি আস্তে আস্তে কাটতে থাকে। সকালে খালি পেটে খেলে খুব ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
মেথি সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে মেথি ভেজানো পানি খেলেও উপকার পাওয়া যায়। একটি পাত্রে মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে পানি ছেঁকে খালি পেটে পান করলে তা পেট পরিষ্কার করে এবং পেটের ফ্যাট কমিয়ে ফেলে।
এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সাথে দুই চামচ মেথি পাউডার, ১ চামচ মধু ও ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যায়।
৫. কালোজিরা
ভেষজ গুণাবলি সম্পন্ন কালোজিরা স্থুলতা সহ বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। এতে আছে উচ্চমাত্রায় ফাইবার যা পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
ফলে বেলিফ্যাট কমানোর কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কালোজিরায় বিদ্যমান নাইজেলন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের চর্বি কমাতে সহায়তা করে।
যারা অতিরিক্ত মেদ সমস্যায় ভুগছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাদের কালোজিরার তেল খাওয়ার পরামর্শ দেন।
তাছাড়া কালোজিরা ও লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। কালোজিরা ভর্তা খেলেও উপকার পাওয়া যায়।
নিয়মিত কালোজিরা খেলে ১ মাসের মধ্যেই চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন দেখা যাবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে একদিনে ৫/৬ টার বেশি কালোজিরা খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত কালোজিরা খেলে মানবদেহে পিত্তের আকৃতি বড় হয়ে যেতে পারে।
তবে নিয়মিত ও পরিমানমতো কালোজিরা খেলে বেলিফ্যাট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
৬. জিরা
শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে জিরা খুব কার্যকরী। জিরায় আছে উচ্চমাত্রায় ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং বিপাক ক্রিয়া সচল রাখে। শরীরের প্রদাহ কমিয়ে শরীরকে রাখে সতেজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে সকালে খালি পেটে জিরা পানি পান করলে পেট পরিষ্কার হয় ও অতিরিক্ত চর্বি কমে। রাতে এককাপ পানিতে কিছু জিরা ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি জ্বাল করে কুসুম গরম থাকতেই পান করতে হবে।
তবে অতিরিক্ত গরমের সময় জিরা পানি পান করা উচিত নয়।
বেলিফ্যাট কমাতে যে পদ্ধতি-ই অবলম্বন করা হোক না কেন, তা নিয়মিত করতে হবে। নিয়মিত লেগে থাকলে অবশ্যই ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
বেলিফ্যাট কমাতে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে পানি পান করার প্রতি।
যাদের অতিরিক্ত বেলিফ্যাট তাদের প্রতিদিন তিন থেকে চার লিটার পানি করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।



