ডেইলি মেকআপ লুক নিয়ে নানা তর্ক বিতর্ক থাকলেও এটা সবাই মনে মনে মেনে নেয় যে, মেকআপ যে কোনো মানুষের আউট ফিট কে একটু বেশিই স্মার্ট করে তোলে।
শুধু বিশেষ কোনো পার্টি প্রোগ্রামেই নয়, নিজের স্মার্ট এন্ড ট্রেন্ডি লুক সব সময় বজায় রাখতে হলে প্রতিদিনই বেসিক মেকআপ করা জরুরি।
অফিস, ইউনিভার্সিটি, শপিং বা হঠাৎ কোথাও বেরোনোর সময় হাতে খুব বেশি সময় থাকে না।
আবার একদম মেকআপ না করে বের হলেও নিজের লুক টা আনস্মার্ট লাগে।
তাই ফ্যাশন সচেতন নারীর ডেইলি মেকআপ লুক সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা থাকা উচিত।
মেকআপ জগতে একদমই যারা বিগিনার তাদের জানতে হবে পারফেক্ট মেকআপ লুক ক্রিয়েট করার জন্য কোন কোন কসমেটিকস ও মেকআপ সামগ্রী প্রয়োজন।
মেকআপ এর সামগ্রী সমূহ
১. প্রাইমার
২. ফাউন্ডেশন (স্কিন টোন অনুসারে)
৩. বিউটি ব্লেন্ডার বা মেকআপ পাফ
৪. কনসিলার
৫. ফেস পাউডার
৬. লুজ পাউডার
৭. আইব্রো কিট (পমেট বা পাউডার)
৮. মেক-আপ ব্রাশ সেট
৯. আই লাইনার
১০. মাসকারা
১১. আইশ্যাডো প্যালেট
১২. কনটোর প্যালেট
১৩. ব্লাসন
১৪. হাইলাইটার
১৫. লিফলাইনার
১৬. লিপস্টিক
১৭. হোয়াইট/ ব্লাক কাজল
এই ইনগ্রিডিয়েন্ট গুলো থাকলে ডেইলি মেকআপ থেকে শুরু করে পার্টি মেকআপ, ব্রাইডাল মেকআপ সহ সব ধরনের মেকআপ লুক ক্রিয়েট করা সম্ভব। তবে জানতে হবে মেকআপ সামগ্রীর সঠিক ব্যবহার ও পদ্ধতি।
আর মেকআপ প্রোডাক্ট কেনার সময় একটু ভালো ব্রান্ডের পণ্য বেছে নেয়ার চেষ্টা করবেন।
নিন্ম মানের মেকআপ প্রোডাক্ট রেগুলার ইউজ করলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি সাধান হয়।
ডেইলি মেকআপ সম্পর্কে কিছু কথা:
ডেইলি মেকআপ মানেই একদম সিম্পল ও ন্যাচারাল একটা লুক ক্রিয়েট করতে হবে। খুব বেশি চাকচিক্য বা জমকালো লুক ডেইলি মেকআপ এর সাথে মানানসই হবে না। ডেইলি মেকআপ সাধারণত কলেজ, ইউনিভার্সির স্টুডেন্ট বা অফিস গোয়িং মেয়েদের জন্য পারফেক্ট।
আর অফিস কিংবা ইউনিভার্সিটিতে কেউ অবশ্যই বিয়ের সাজ সেজে যাবে না এটাই স্বাভাবিক।
ডেইলি মেকআপ এর মূল উদ্যেশ্য হলো ত্বককে একটু ব্রাইট করা এবং চেহারার আর্ট সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা।
তার সাথে সাথে চেহারার খুটিনাটি খুত ঢেকে রাখতে মেকআপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডেইলি মেকআপ লুক হবে একদমই ন্যাচারাল, কোনো ভাবেই আর্টিফিশিয়াল ভাব চলে আসলে তা ডেইলি মেকআপ লুককে নষ্ট করে দিতে পারে।
মেকআপ টিউটোরিয়াল
এখন আমরা সকল রকমের মেকআপ টিউটোরিয়াল সম্পর্কে আলোচনা করবো এবং আশা করি এইখানে থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন ।
১. ত্বকের ক্লিনজিং
মেকআপ করার আগে অবশ্যই নিশ্চিত থাকতে হবে আপনার ত্বক পুরোপুরি পরিষ্কার আছে কিনা। মোকআপ করার আগে অবশ্যই ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। রেগুলার ফেস ওয়াশ বা ফেসিয়াল ম্যাসাজ ক্রিম ব্যবহার করে ত্বকের অয়েল, ময়লা সব ক্লিন করে নিতে হবে। নয়তো ত্বকের ময়লা মেকআপ এর নিচে ঢাকা পড়ে ত্বককে ড্যামেজ করে দিবে আর মেক-আপও ভালোভাবে সেট হবে না।

২. স্কিন প্রোটেকশন
যতো ভালো ব্রান্ডের ফাউন্ডেশনই হোক না কেন, ফাউন্ডেশন খালি ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের কিছুটা ক্ষতি হয়ই।
তাই ত্বকের ড্যামেজ ঠেকাতে প্রাইমার ব্যবহার করা জরুরি। মেকআপ শুরুর প্রথম ধাপ প্রাইমার ব্যবহার করা।
প্রাইমার ত্বক টানটান রাখে এবং ত্বকের লোমকূপ গুলো ঢেকে দেয়, ফলে মেকআপ সেট হয় খুব পারফেক্ট ভাবে।
হাতে সামান্য পরিমান প্রাইমার নিয়ে ভালোভাবে পুরো মুখে ও গলায় এপ্লাই করতে হবে। মুখের কোনো অংশ যেন বাদ না পরে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৩. ফাউন্ডেশন ব্যবহার
মুখে প্রাইমার লাগানোর পর ত্বকের শেড অনুযায়ী ফাউন্ডেশন লাগাতে হবে। ফাউন্ডেশন কেনার সময় অবশ্যই কোন শেড টা আপনার ত্বকের সাথে সেট হবে তা দেখে নিবেন। না বুঝলে দোকানের যিনি কসমেটিকস স্পেশালিষ্ট থাকবেন তার কাছ থেকে সাজেশন নিতে পারেন।

যেহেতু ডেইলি মেকআপ লুক ক্রিয়েট করবেন তাই খুব ভাড়ি করে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা যাবে না।
সামান্য ফাউন্ডেশন মুখের প্রত্যেক পার্টে লাগিয়ে নিতে হবে। এই পর্যায়ে প্রয়োজন পড়বে একটা বিউটি ব্লেন্ডার বা মেকআপ পাফ এর।
বিউটি ব্লেন্ডার দিয়ে ফাউন্ডেশন টা পুরো মুখে ভালোভাবে সেট করে নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, প্রথমবারের ফাউন্ডেশন টা হবে একদমই হালকা।
মাঝখানে কনসিলার ব্যবহার করে আবার হালকা ফাউন্ডেশন এপ্লাই করে ভালোভাবে ত্বাকের সাথে সেট করে নিতে হবে।
ফলে ত্ব লাগবে অনেকটা ব্রাইট কিন্তু একেবারে ন্যাচারাল। ফাউন্ডেশন এর পরে কিছুটা ফেস পাউডার বা লুজ পাউডার এপ্লাই করে নিতে হবে।
৪. কনসিলার ব্যবহার
ত্বকের সে সব জায়গায় ডার্ক স্পট বা ছোট ছোট গর্ত আছে সেসব স্থানে একটু করে কনসিলার লাগিয়ে নিতে হবে। কনসিলার ত্বকের ডার্ক স্পট বা যে কোনো খুত ঢেকে রাখে, ফলে ত্বক একদম স্মুথ ও গ্লোয়িং দেখতে লাগে।

কনসিলার ব্যবহারের পর আবারও কিছুটা ফাউন্ডেশন দিয়ে কনসিলারের সাথে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।
৫. আই মেকআপ
ফাউন্ডেশন ও কনসিলার সেট করা হয়ে গেলে চলে আসতে হবে চোখের পার্টে। প্রথমে ভ্রু শেপ ঠিক করতে হবে। ভ্রুর সঠিক শেইপ দিতে আইব্রো কিট দিয়ে ভ্রু একে নিতে হবে।
আইব্রো কিট এর মধ্যে আছে পমেট ও পাউডার কিট। একদম বিগিনারদের জন্য পাউডার ব্যবহার করাই সুবিধাজনক।
আইব্রো কিট দিয়ে ভ্রু শেইপ করার পরে কনসিলার দিয়ে ভ্রুর আউট লাইন গুলো সুন্দর করে শেইপে আনতে হবে।
ভ্রুর বাড়তি পার্টগুলো কনসিলার দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। একটু হালকা করে মাসকারা দিয়ে চোখের পাপড়িগুলোর মধ্যে আর্ট নিয়ে আসতে হবে। এরপর আসবে আইলাইনার এর পর্ব।আইলাইনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সতর্ক থাকতে হবে, যাতে লাইনিং টা খুব বেশি মোটা না হয়ে যায়। কারন মোটা আইলাইনার ন্যাচারাল লুকটা নষ্ট করে দেয়।
একদম নতুন যারা তাদের জন্য পেনসিল আইলাইনার টা বেস্ট হবে।
লিকুইড আইলাইনারে শেইপ তোলাটা একদমই সহয বিষয় নয়। কালো ছাড়াও ব্লু বা খয়েরি আইলাইনারও ব্যবহার করা যেতে পারে।
যেহেতু একদমই ন্যাচারাল লুক ক্রিয়েট করার চেষ্টা, তাই চোখের উপর রঙচটা কোনো আইশ্যাডো ব্যবহার না করাই ভালো। চাইলে আইশ্যাডো বাদ দেয়াও যেতে পারে। একান্তই ইচ্ছে হলে একটু ডার্ক এবং হালকা শেড এর আইশ্যাডো ব্যবহার করা যেতে পারে। আই লুক পারফেক্ট মানেই মেকআপ এর ম্যাক্সিমাম কাজ শেষ।
৬. লিপস্টিক
বর্তমান ট্রেন্ড নুড কালার লিপস্টিক ব্যবহার এর। যে কোনো নুড শেড এর লিপস্টিক ন্যাচারাল লুক এর সাথে একদম মানানসই। সাথে ব্লাক শেড এর লিপ লাইনার দিয়ে ঠোট টা একটু বর্ডার শেইপ করে দিলে আরও ট্রেন্ডি লাগবে।

অবশ্য লিপস্টিক এর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দকে প্রাধান্য দেয়া যেতে পারে।
৭. কনটোর
নাক যথেষ্ট সরু না হলে নাকের দুই সাইডে কনটোর করে নিতে হবে, ফলে নাকের শেইপ সুন্দর হবে। গাল খুব বেশি স্থুল হলে মাঝখান বরাবর কনটোর ব্যবহার করা যেতে পারে।
এতে একটু রোগা এবং স্মার্ট লাগবে। কপালের দুই সাইডে এবং থুতনির নিচে কনটোর করে নিতে হবে সামান্য।
৮. ব্লাসন ও হাইলাইটার
ব্লাসন ও হাইলাইটার চাইলে ন্যাচারাল মেকআপ লুক-এ বাদ দেয়া যেতে পারে। বেশি মাত্রায় ব্লাসন ও হাইলাইটার আর্টিফিশিয়াল লুক ক্রিয়েট করে। চাইলে হালকা গোলাপি ব্লাসন ব্রাশ দিয়ে হালকা করে গালে এপ্লাই করা যেতে পারে।
নাকের শেইপ সুন্দর করতে সামান্য সাদা শেড এর হাইলাইটার নাকের ওপর এপ্লাই করতে পারেন।
শেষ পার্যায়ে পুরো মুখে ও গলায় সেটিং স্প্রে এপ্লাই করে নিতে হবে যাতে মেকআপ লং লাস্টিং করে।
কেননা দৈনন্দিন জীবনে অনেকটা সময় ধরে বাইরে থাকতে হয়, শেষ মুহুর্তে এসে মেকআপ নষ্ট হয়ে গেলে দেখতে একদমই আনস্মার্ট লাগবে। তাই মেকআপ করার পাশাপাশি মোকআপ সেট করাটাও জরুরি।
এভাবে মেকআপ লুক ক্রিয়েট করতে ২০/২৫ মিনিটের বেশি লাগবে না বললেই চলে।



