চুলের যত্নে শ্যাম্পু খুবই প্রয়োজনীয় এবং উপকারী পণ্য। রূপচর্চার একটি প্রধান অনুসঙ্গ হলো চুল।চুল পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।
চুলের যত্নে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে গিয়ে অনেকেই বুঝতে পারেন না সপ্তাহে কয়বার শ্যাম্পু করবেন! চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, মানুষের মাথায় গড়ে ১০হাজার চুল থাকে।
সঠিক যত্ন নেওয়া হলেও এর থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২৫ টি চুল পড়া স্বাভাবিক। আপনার মাথার ত্বক এবং চুলের প্রকৃতি বুঝে শ্যাম্পু করুন।
ঘন ঘন শ্যাম্পু করলে অনেকের স্ক্যাল্পের ক্ষতি হয়, আবার চুল অপরিচ্ছন্ন রাখলেও মাথায় খুশকি বা চুলকানি হয়।
চুলের যত্নে শ্যাম্পু :
হেয়ার কেয়ার এর জন্য বুঝতে হবে আপনার চুল বা মাথার ত্বকের ধরন এবং কোন শ্যাম্পু কাদের জন্য ভালো।
মুখের ত্বকের যেমন ভিন্নতা থাকে তেমনি চুলের ধরনেও রয়েছে কয়েকটি রকমফের। কোন ধরনের চুলে সপ্তাহে কয়বার শ্যাম্পু করবেন দেখে নিন:
ঘন চুলে শ্যাম্পু :
আপনার চুল একপাশ করলে যদি মাথার তালু সহজে দৃশ্যমান না হয়, তাহলে আপনি ঘন চুলের অধিকারী। কিন্তু ঘন চুলের ভিতরে বাতাস চলাচল কম হয় তাই ঘেমে ময়লা জমে বেশি।

তাই ঘন চুলের যত্নে শ্যাম্পু ১/২ দিন পর পর করতে হবে। চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা জরুরি।
মাথার ত্বকে তেল, ময়লা এবং রাসায়নিক জিনিস দূর করতে শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।
পাতলা চুলে শ্যাম্পু :
চুল যদি পাতলা হয়, একদিন পর পর শ্যাম্পু করা ভাল। গোসলের আধা ঘন্টা আগে মাথায় তেল দিন। তেল অনেকদিন রেখে না দিয়ে গোসলের সময় শ্যাম্পু করে চুল পরিষ্কার করুন।
এতে মাথার ত্বক আর চুল ভাল থাকবে। তৈলাক্ত চুল হলে হার্বাল শ্যাম্পু ব্যবহারে উপকার পাবেন।
শুষ্ক বা রুক্ষ চুলে শ্যাম্পু :
রুক্ষ চুলে ৫ থেকে ৭দিন পর পর শ্যাম্পু করুন। মাথার স্কাল্প শুষ্ক হলে বেশি খুশকি হয়।

কোঁকড়া চুলে বেশি শ্যাম্পু করা উচিত না, এমন শ্যাম্পু নির্বাচন করুন যা চুলের গোড়া পরিষ্কার করে এবং কার্লি ভাব বজায় রাখে।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে চুলের প্রাকৃতিক তেল বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চুল আরও শুষ্ক হয় এবং ভেঙে যায়।
চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান :
প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েও চুলের যত্নে শ্যাম্পু তৈরী করতে পারেন নিম্নোক্ত উপায়ে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ-
- কলা- ১টি
- টক দই- ২ টেবিল চামচ

- মধু- ১ টেবিল চামচ
সবগুলো উপকরণ ভালভাবে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ৩০-৪৫ মিনিট রাখুন। এরপর ভালভাবে পরিষ্কার করে কন্ডিশনার লাগাতে হবে। এই প্যাকটি চুলের ড্যামেজ প্রতিরোধ করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে।
উপকারী টিপস:
- যাদের শরীরচর্চা বা কাজের জন্য অতিরিক্ত ঘাম হয় তাদের প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে হয়।
- রোজ আধা ঘন্টা চুলে তেল মালিশ করা ভালো। এতে মাথায় রক্ত সঞ্চালন ভাল হয় এবং অক্সিজেন সার্কুলেশন বেশি হয় ফলে চুলের গোড়া শক্ত করে ও চুল পড়া কমায়।
- শ্যাম্পু দেওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। চুলে শ্যাম্পুর কেমিক্যাল থেকে গেলে চুল পড়ার হার বাড়তে পারে।
- ন্যাচারাল হেয়ার কেয়ার এর জন্য চুলে ব্যবহার করুন ক্যাস্টর অয়েল।
- চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে নিয়মিত ট্রিমিং বা চুলের আগা কাটা জরুরি।
- চুলের যত্নে শ্যাম্পু করার পর ভাল মানের কন্ডিশনার ব্যবহার করলে ঝলমলে সুন্দর থাকবে চুল।
- চুল সুন্দর রাখতে একটি হেয়ার কেয়ার রুটিন অনুসরণ করুন।
উপসংহার :
চুলের যত্নে শ্যাম্পু ব্যবহার করলে আপনি পাবেন ঝলমলে এবং পরিষ্কার চুল। মাথায় ময়লা জমলে মাথায় বিভিন্ন রকম চুলকানি হয় এবং তা মুখেও ব্রণ সৃষ্টি করে।
তাই সুন্দর চুল পেতে নিয়মিত তেল মালিশ করুন এবং শ্যাম্পু করে পরিষ্কার রাখুন। সুস্থ সুন্দর থাকুন ঝলমলে চুলের সাথে!



