infixnatural.com/

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবান এর গুনাগুন

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবান

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবান শুধুমাত্র বডি কেয়ারে নয়, স্কিন কেয়ারে ব্যবহারেও উপকারিতা রয়েছে। আমাদের সমাজে একটা প্রচলিত ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে যে, সমস্ত শরীরে সাবান মাখা গেলেও মুখে কখনো সাবান ব্যবহার করা যাবে না।

তবে এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে অর্গানিক সোপগুলো।

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবান স্কিন কেয়ার – এ ব্যবহার করা হলো ত্বকের সম্ভাব্য ক্ষতিকারক টক্সিনের এক্সপোজার কমানোর একটি উপায় ।

এই সাবানগুলো উৎপাদন করতে বেশি সময় লাগে এবং সাধারণত উচ্চ মানের উপাদান ব্যবহার করা হয়, তাই অতিরিক্ত খরচ হয়, তবে সেগুলো ত্বকে সহনীয় হয়ে থাকে।

 প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবান ব্যবহারের একটি সুবিধা হলো, এর উৎপাদন প্রক্রিয়ার অন্যতম উপজাত হল গ্লিসারিন।

গ্লিসারিন হলো ত্বকের ময়েশ্চরাইজার, কারণ এটি  ত্বকে এবং তার চারপাশে আর্দ্রতা ধরে রাখে ও ত্বককে হাইড্রেট করে ।

যেখানে অনেক সাধারণ সাবান ত্বককে ওভার ড্রাই দেয়, সেখানে প্রাকৃতিক সাবান ত্বকের ময়েশ্চারাইজেশন ধরে রাখতে কাজ করে।

এছাড়াও ন্যাচারাল সোপ গুলো একচেটিয়া ভাবে ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে ( কিছু কিছু সময় প্রাণিজ চর্বির ব্যবহার হলেও তা খুবই বিরল) এবং প্রাকৃতিক হওয়ায় ত্বকের জন্য অনেকটা নিরাপদ।

সাধারণ বাণিজ্যিক সাবানে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা কেবল আমাদের ত্বকই নয় পরিবেশের ও ক্ষতি করে থাকে।

কিন্তু প্রাকৃতিক সাবানে এরকম কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। 


ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবানের গুনাগুন –

ত্বক ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা :

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবানে সাধারণ সাবানের মতো ট্রাইক্লোসান, প্যারাবেন, সালফেট ইত্যাদি রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় না।

এই রাসায়নিক  গুলো ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, প্রজনন সিস্টেমকে প্রভাবিত করে এবং হরমনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলে মনে করা হয়। 

এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য :

প্রাকৃতিক সাবানে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিকের বদলে এসেন্সিয়াল অয়েলের মতো ন্যাচারাল এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট ব্যবহার করা হয়, যা ত্বকের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সাথে লড়াই করে। 

ন্যাচারাল সুগন্ধির ব্যবহার :

ন্যাচারাল সাবানে ইউক্যালিপটাস, ল্যাভেন্ডার, পেপারমিন্ট এর মত প্রাকৃতিক নির্যাস ব্যবহার করা হয়।

যা ত্বকের বিভিন্ন উপকারের পাশাপাশি  সুগন্ধি হিসেবেও কাজ করে। 

অ্যারোমাথেরাপি হিসেবে কাজ করে :

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবান – এ ব্যবহৃত এসেন্সিয়াল অয়েল গুলো মস্তিষ্কে নিউরোকেমিক্যাল নিঃসরণ করে এবং স্ট্রেস কমায়, শরীর ও মনের উন্নতি সাধন করে। 

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবান

ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভস মুক্ত :

প্রাকৃতিক বা অর্গানিক পণ্যগুলোর সেল্ফ লাইফ অনেকটাই কম হয়ে থাকে।

এর কারণ এসব পণ্য গুলোতে ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয় না, যেগুলো সাবানকে বছরের পর বছর ভালো রাখবে। 

ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজার গ্লিসারিন :

ন্যাচারাল সাবান গুলোতে গ্লিসারিন ব্যবহার করা হয় থাকে। গ্লিসারিন অ্যালকোহল এবং পানিকে আকর্ষণ করে, তাই এটি দীর্ঘক্ষণ ধরে মানুষের ত্বককে ময়েশ্চারাইজড রাখতে পারে। 

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবান

রোগ নিরাময় এবং ত্বকের গঠনের উন্নতি সাধন :

সাইন্স ডেইলির মতে ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক সাবানে ব্যবহৃত গ্লিসারিন ত্বকের রোগ নিরাময় করতে সাহায্য করে।

নিয়মিত গ্লিসারিনের সংস্পর্শে থাকা ত্বকের গঠন অন্যান্য ত্বকের থেকে অনেকটা উন্নত। 

বিভিন্ন সমস্যার সমাধান :

অর্গানিক সাবান গুলোতে থাকে বৈচিত্র। অর্থাৎ ত্বকের বিভিন্ন রকম সমস্যার কথা মাথায় রেখে অনেক ধরনের ন্যাচারাল সাবান তৈরি করা হয়।

তাই ব্যবহারকারী সহজেই নিজের সমস্যা অনুযায়ী সাবান নির্বাচন করতে পারেন। 

মৃদু পিএইচ মাত্রা :

এই সোপ গুলোর পিএইচ মাত্রা সাধারণত ৯ থেকে ১০ এর মধ্যে হয়ে থাকে। 

ত্বকের প্রাকৃতিক ক্লিঞ্জার :

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবান গুলো ত্বককে পরিষ্কার করার পাশাপাশি ত্বকের সতেজতা এবং সজীবতাও ধরে রাখে। এবং ত্বককে রাখে কোমল এবং মসৃণ। 

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবান

পরিবেশের জন্য নিরাপদ :

বাজারের সাধারণ সাবানের মত প্রাকৃতিক সাবানে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য বা প্রিজারভেটিভস ব্যবহার করা হয় না, তাই প্রাকৃতিক সাবান গুলো ত্বকের পাশাপাশি পরিবেশের জন্যও নিরাপদ ।

শেষ কথা

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবান ব্যবহার ত্বকের জন্য যেমন নিরাপদ তেমনি এই সাবান গুলো ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি আমাদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও বেশ কার্যকর।

কারণ বিভিন্ন ভেশজ এবং প্রাকৃতিক উপাদান (যেমন – কাচা হলুদ, নিম, চন্দন, মুলতানি মাটি  ইত্যাদি) ব্যবহার করে সাবান প্রস্তুত করা হয়।

এই সকল উপাদানেরই নিজস্ব স্কিন বেনেফিটস রয়েছে।

তাই ত্বকের ধরন এবং সমস্যা অনুযায়ী কোন ন্যাচারাল সোপটি আপনার ত্বকের জন্য ভালো হবে তা আগে যাচাই করে, স্কিন কেয়ারে প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল সাবান যোগ করুন।

২০২১ সালে গ্লোবাল অর্গানিক বা ন্যাচারাল সোপ মার্কেট ছিলো USD 1.83  বিলিয়ন এবং ধারণা করা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৮.২% বেড়ে হবে USD 1.98 বিলিয়ন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment

Name

Home Shop Cart Account
Shopping Cart (0)

No products in the cart. No products in the cart.