infixnatural.com/

কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চা

কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চা

কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চা যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে এর কার্যকরী ফলাফলের কারণে। অরগানিক রূপচর্চার মাধ্যমে নজরকাড়া দাগহীন, নিখুঁত ত্বক কে না চায়? প্রাকৃতিক রূপচর্চায় কাঁচা হলুদ ব্যবহারে ত্বকের প্রায় সকল সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় তবে এক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখা চাই, তা না হলে হতে পারে হিতে-বিপরীত। 

হলুদকে বলা হয়ে থাকে “গোল্ডেন স্পাইস অফ লাইফ”।

কারণ এটি শুধু রান্নার স্বাদ বৃদ্ধিতে নয় বরং ত্বক এবং চুলের যত্নেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হলুদে রয়েছে অ্যান্টি-সেপটিক, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ত্বককে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ও বিভিন্ন ইনফেকশন হতে রক্ষা করে ব্রণ নির্মূলসহ  ত্বকের অনেক সমস্যা সমাধান করে৷

এছাড়াও কাঁচা হলুদে রয়েছে অ্যান্টি-এজিং উপাদান, যা ত্বক হতে বয়সে ছাপ বা বলিরেখা দূর করতে সহায়তা করে।

ন্যাচারাল স্কিনকেয়ারে কাঁচা হলুদের ব্যবহার নিরাপদ ও কার্যকরী হওয়া এটি “পরীক্ষিত ভেষজ” বা “যাদুকরী ভেষজ” হিসেবে পরিচিত।

কারকিউমিনকে বলা হয় এক ধরনের যাদুকরী উপাদান যেটি কিনা ত্বকের প্রায় সকল সমস্যা সমাধানে কার্যকর, যা শুধুমাত্র হলুদেই উপস্থিত।

অরগানিক স্কিন কেয়ারে কাঁচা হলুদের তুলনা কেবল সে নিজেই।

অর্থাৎ রান্নায় হোক কিংবা কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চা হোক, দু’ক্ষেত্রেই হলুদের জুড়ি মেলা ভার।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ব্রণ, হাইপার-পিগমেন্টেশন কিংবা ক্ষত নিরাময়সহ সকল সমস্যার সমাধানই রয়েছে কাঁচা হলুদে।  

এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে যেসব বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন – 

অরগানিক স্কিনকেয়ারে কাঁচা হলুদ ব্যবহারের নানাবিধ উপকারিতা, 

কাঁচা হলুদ ন্যাচারালি ত্বককে ফর্সা করে কিনা, 

কাঁচা হলুদের সর্বাধিক জনপ্রিয় ৯ টি ফেস প্যাক, 

চুলের যত্নে কাঁচা হলুদের সঠিক ব্যবহার, 

কাঁচা হলুদ দিয়ে তৈরি কয়েকটি বেস্ট স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট, 

যেসব বিষয় না জেনে কখনোই ত্বকে কাঁচা হলুদ ব্যবহার উচিত নয়। 

রুপচর্চায় কাঁচা হলুদ এর কাজ কি? 

প্রাচীনকাল থেকেই অরগানিক স্কিন কেয়ারে কাঁচা হলুদ ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যা মূলত একধরনের জীবাণুনাশক বা অ্যান্টিসেপটিক রূপে কাজ করে ।

কাঁচা হলুদ ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করে, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে, ব্রণ, ছোপছোপ দাগ, কালচে ভাব, ত্বকের পোড়া দাগ দূর করতে কার্যকরী উপাদান হিসেবে কাজ করে।  

কাঁচা হলুদ এর  উপকারিতা :  

হলুদ ত্বকের অ্যান্টি-এজিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে, ফাইন-লাইনস বা বলিরেখা দূর করে।  

ব্রণ কমাতে এবং ব্রনের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। 

ত্বকে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুর সংক্রমণ রোধ করতে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল রূপে কাজ করে ।  

ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে এনে ত্বককে প্রাণবন্ত করে।  

অ্যান্টি-ইনফ্লামেশন ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে ত্বকের বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ উপশমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  

কাঁচা হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্ট্রেচ-মার্ক দূর করতে সাহায্য করে। 

চোখের নিচের কালো দাগ ও ফোলা ভাব দূর করে।  

ন্যাচারাল স্কিন কেয়ারের মাধ্যমে ত্বকের পোড়া ভাব দূর করতে কাঁচা হলুদ অত্যন্ত কার্যকরী।  

র‍্যাশ, এলার্জি বা চর্মরোগসহ ত্বকের বিভিন্ন ধরনের ক্ষত দূর করতেও কাঁচা হলুদের কোনো জুড়ি নেই।  

কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম :

প্রাকৃতিক রূপচর্চার ক্ষেত্রে কাঁচা হলুদের জনপ্রিয়তা তুমুল।

তবে ত্বক বিশেষজ্ঞরা সরাসরি কাঁচা হলুদ মুখে না লাগানোরই পরামর্শ দেন, কাঁচা হলুদের সঙ্গে অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে তা মুখে লাগালে অধিক কার্যকর হবে বলে মত প্রকাশ করেন।

এক্ষেত্রে ত্বকের ধরন এবং সমস্যা অনুযায়ী কাঁচা হলুদের সঙ্গে টক দই, দুধ, লেবুর রস, নিমপাতা, মধু, মুলতানি মাটি ইত্যাদি নির্দিষ্ট পরিমাণে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।  

কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায়?  

এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি কম্পনেন্টস এবং ব্লিচিং প্রপার্টিস, যা ত্বককে ফর্সা করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

কাঁচা হলুদের সঙ্গে টক দই অথবা মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে সপ্তাহে দুইদিন মুখে মাখলে এটি ন্যাচারালি ত্বককে ফর্সা করে।

এছাড়া রোদে পোড়া ভাব ও ছোপছোপ দাগ দূর করে ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। 

ব্রণ দূর করতে কাঁচা হলুদ কিভাবে ব্যবহার করতে হবে?  

কাঁচা হলুদে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান মুখের ব্রণ দূর করে। কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চার মাধ্যমে ব্রণ দূর করতে নিমপাতা এবং হলুদের মিশ্রণ এক্ষেত্রে সব থেকে বেশি কার্যকর।

১০/১২ টি নিমপাতা বেটে নিয়ে তাতে ১/৪ চা-চামচ কাঁচা হলুদ ভালোভাবে মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে তা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে, তারপর মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

এক্ষেত্রে কেউ চাইলে নিমপাতার পাউডার পানি দিয়ে গুলিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।

এছাড়াও দুই টেবিল-চামচ টক দই ও আধা চা-চামচ কাঁচা হলুদ গুঁড়োর মিশ্রণ অথবা এক চা-চামচ মধু এবং আধা-চা চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন, এতে ব্রণ হতে মুক্তি পাওয়া যায়। 

চুলের যত্নে কাঁচা হলুদ : 

কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চা কেবল ত্বকই সীমাবদ্ধ নয়, চুলের যত্নেও এর রয়েছে অনেক গুণাগুণ। হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য খুশকি দূর করতে সহায়তা করে।

এটি মাথার স্ক্যাল্পের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর করে। এছাড়াও কাঁচা হলুদ স্ক্যাল্প ও চুলের ক্ষত নিরাময় করে চুলের বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

হেয়ার এক্সপার্ট এবং ট্রাইকোলজিস্ট টিফানি অ্যান্ডারসন বলেছেন, মাথার ত্বকের সংক্রমণ এবং খুশকি থেকে হওয়া চুল পড়া রোধের ক্ষমতা রয়েছে হলুদের। 

ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্নে-হলুদের ৯টি ফেইস প্যাক : 

১। ব্রণ এবং রিংকেল দূর করতে : 

উপাদান : কাঁচা হলুদ, দুধ, মধু 

তৈরির নিয়ম : ১ চা-চামচ কাঁচা দুধ, ১ চা-চামচ মধু, ১/৪ চা-চামচ হলুদ ভালোভাবে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন।  

ব্যবহার বিধি : প্যাকটি ব্যবহারের আগে ত্বক ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। তারপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে হলুদের প্যাক-টি ত্বকে ব্যবহার করুন।

১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করে শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার প্যাক-টি ব্যবহার করুন। 

২। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে : 

উপাদান : কাঁচা হলুদ, লেবুর রস, মধু 

তৈরির নিয়ম : ১ চা-চামচ মধু, ১/৪ চা-চামচ হলুদের গুঁড়ো এবং ১/২ চা-চামচ লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। 

ব্যবহার বিধি : এই প্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট।

শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চার ক্ষেত্রে এই প্যাকটি অনেক জনপ্রিয়।  

৩। সানবার্ন দূর করতে কাঁচা হলুদ : 

উপাদান : কাঁচা হলুদ, টমেটো পিউরি, টকদই  

তৈরির নিয়ম: ১ টেবিল-চামচ টকদই, ১ টেবিল-চামচ টমেটোর পিউরি ও ১/৪ টেবিল-চামচ কাঁচা হলুদ মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন।  

ব্যবহার বিধি : এটি ত্বকে ব্যবহার করুন। ১০-১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

রোদে পোড়া দাগ দূর করতে এটি বেশ কার্যকর।  

৪। ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে : 

উপাদান : কাঁচা হলুদ, অ্যাভোকাডো, টকদই 

তৈরির নিয়ম : ১ চা-চামচ অ্যাভোকাডার পেস্ট, এক চা*চামচ টকদই এবং ১/৪ চা-চামচ কাঁচা হলুদ একসাথে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিন।  

কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চা

ব্যবহার বিধি : মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

অ্যাভকোডার ভিটামিন-ই, ন্যাচারাল অয়েল এবং ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বককে হাইড্রেট করে এবং এর অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি এবং অ্যান্টি-এজিং উপাদান ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। 

৫। ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরে পেতে : 

উপাদান : বেসন, চন্দন, গোলাপজল, কাঁচা হলুদ  

তৈরির নিয়ম : ২ চা-চামচ বেসন, ১ চা-চামচ চন্দন, ১/৪ চা-চামচ হলুদ এবং পরিমাণ মতো গোলাপজল মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন।  

ব্যবহার বিধি : মুখে এই পেস্টটি ১০-১৫ মিনিটের জন্য রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

এটি ত্বকের মলিনতা কমিয়ে ত্বককে করবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।  

৬। ব্রণ দূর করতে অর্গানিক রূপচর্চা : 

উপাদান : নিমপাতা, কাঁচা হলুদ, চন্দন, মধু  

তৈরির নিয়ম : ১ চা-চামচ নিমপাতা বাটা, ১ চা-চামচ চন্দন, ১ চা-চামচ মধু এবং ১/৪ চা-চামচ কাঁচা হলুদ গুড়ো মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। 

ব্যবহার বিধি: এই প্যাক ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। তারপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে সপ্তাহে দুইদিন ব্যবহার করুন।  

৭। প্রাকৃতিক রূপচর্চায় বলিরেখা নির্মূল : 

উপাদান : কাঁচা হলুদ, মাসকলাই ডাল, টমেটোর রস  

তৈরির নিয়ম : ১ চা-চামচ মাসকলাইয়ের ডাল বাটা, ১ চা-চামচ টমেটোর রস এবং এক চিমটি কাঁচা হলুদ গুঁড়ো ভালোভাবে মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন।  

কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চা

ব্যবহার বিধি : ক্লিনজার দিয়ে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  

৮। চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে : 

উপাদান : কাঁচা হলুদ এবং বাটার-মিল্ক  

তৈরির নিয়ম : ১ চা-চামচ বাটার-মিল্ক এবং ১ চা-চামচ কাঁচা হলুদের গুড়ো মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন।  

ব্যবহার বিধি : এই মিশ্রণটি চোখের নিচে ১৫ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন এরপর একটি কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মিশ্রণটি তুলে ফেলুন সবশেষে পানি দিয়ে চোখের নিচটা ধুয়ে ফেলুন।  

৯। দাগহীণ উজ্জ্বল ত্বক পেতে কাঁচা হলুদ : 

উপাদান : কাঁচা হলুদ, লেবুর রস, ময়দা, কাঁচা দুধ  

তৈরির নিয়ম : ২ চা-চামচ ময়দা, ১ চা-চামচ কাঁচা দুধ, ১ চা-চামচ লেবুর রস, ১/২ চা-চামচ কাঁচা হলুদ মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। 

কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চা

ব্যবহার বিধি : এই প্যাকটি মুখে এবং ঘাড়ে ১০-১৫ মিনিটের জন্য রেখে ধুয়ে ফেলুন ।

প্রাকৃতিক স্কিন কেয়ারের ক্ষেত্রে এই প্যাকটি সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করুন ।  

অরগানিক রূপচর্চায় কাঁচা হলুদের ফেস প্যাক বানানোর ক্ষেত্রে কাস্তরী হলুদ ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো এবং কার্যক।

HIMALAY কোম্পানির Kasturi Turmeric Powder অথবা KHADI BEAUTY ব্র‍্যান্ডের Kasturi Turmeric Powder অধিক জনপ্রিয় দু’টি কাস্তুরী হলুদ পাউডার ।

এছাড়া ইন্ডিয়ান অরগানিক স্কিন কেয়ার ব্র‍্যান্ড “Mamaearth” এর “Aloe Turmeric Gel” স্কিন এবং চুল উভয়ের জন্যই অনেক ভালো কাজ করে।   

ত্বকের যত্নে হলুদ ব্যবহারে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন : 

ত্বকের যত্নে মহাঔষধি হচ্ছে কাঁচা হলুদ। তবে ভুল উপায়ে ব্যবহারে হতে পারে বিপরীত প্রতিক্রিয়া। বায়োকেয়ার বাংলাদেশের সিইও ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক শরিফুল ইসলাম এক সাক্ষাৎকারে কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে বলেছেন – 

২০ মিনিটের বেশি সময় ত্বকে হলুদ রাখা ঠিক নয়, এতে ত্বকে গাঢ় হলুদ দাগ ফুটে উঠতে পারে। 

সপ্তাহে দুই দিনের বেশি মুখে কাঁচা হলুদের প্যাক লাগানো থেকে বিরত থাকুন। 

সম্ভব হলে কাঁচা হলুদ দিনের বেলা মুখে না লাগিয়ে রাতে লাগানোর চেষ্টা করবেন।  

অনেকেই কাঁচা হলুদ বেটে সরাসরি মুখে লাগান, কিন্তু স্কিন বিশেষজ্ঞরা হলুদ সরাসরি না লাগিয়ে ত্বকের ধরন এবং সমস্যা অনুযায়ী অন্যান্য উপাদানের সাথে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে লাগাতে উপদেশ দেন।  

মুখে কাঁচা হলুদ লাগিয়ে কোনভাবেই রোদ কিংবা আগুনের সংস্পর্শে যাবেন না। 

কাঁচা হলুদ ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে জেনে নিবেন আপনার হলুদে এলার্জি আছে কিনা ।  

ত্বক আগে ক্লিনজার দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে কেবল তারপরেই মুখে কাঁচা হলুদের প্যাক লাগাবেন।  

চোখের কালো দাগ দূর করতে অনেক সময় কাঁচা হলুদ তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রে মিশ্রণটি যেন কোনোভাবেই চোখের ভিতরে প্রবেশ না করে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। 

শেষ কথা

সারাবিশ্বের মধ্যে ২য় অবস্থানে থাকা হেলথ ইনফরমেশন সাইট Healthline.com এর তথ্য অনুযায়ী কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চা ত্বকের কোলাজেন বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর এবং এতে থাকা কারকিউমিন ত্বকের সর্বোচ্চ উন্নতি ঘটানোর ক্ষমতা রাখে।

তবে কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চা এর ক্ষেত্রে হলুদের পরিমাণ, অনুপাত এবং সঙ্গে থাকা অন্যান্য উপাদান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনে চলতে হবে।

গবেষণার মাধ্যমে পাওয়া এবং স্কিন স্পেশালিস্টদের দ্বারা স্বীকৃত উপায়ে অর্গানিক রূপচর্চায় কাঁচা হলুদ ব্যবহার করে ত্বকের প্রায় সকল সমস্যা সমাধান পাওয়া যায়।  

FAQ : 

১। কাঁচা হলুদ মাখলে কি হয়? 

কাঁচা হলুদ ত্বককে ফর্সা করে।এছাড়া ত্বকের যেকোনো প্রদাহ নির্মূলে, উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে, ব্রণ-ফুসকুড়ি নির্মূল করতে, মুখের ছোপছোপ দাগ হালকা করতে, চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। 

২। মুখে হলুদ দিলে জ্বলে কেন? 

কারো কাঁচা হলুদে অ্যালার্জি থাকলে তার থেকে কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস (ত্বকের একধরনের প্রদাহ)  হতে পারে, যার ফলে মুখে হলুদ দিলে ত্বকে জ্বালাপোড়া করে।  

৩। ত্বকে হলুদ কি প্রতিদিন ব্যবহার করা যায়? 

না, সপ্তাহে এক বা দু’বার ব্যবহার করতে পারেন। এর বেশি ব্যবহারে ত্বকে বলি রেখা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment

Name

Home Shop Cart Account
Shopping Cart (0)

No products in the cart. No products in the cart.