infixnatural.com/

ঘরোয়া উপাদান এ নিজেকে করে তুলুন আরও বেশি সুন্দর

ঘরোয়া উপাদান

ঘরোয়া উপাদান এ নিজেকে করে তুলুন আরও বেশি সুন্দর সবাই চেষ্টা করে । নিজেকে একটু বেশি সুন্দর লাগুক, আরও একটু বেশি ফর্সা লাগুক এটা সবাই মনে মনে কামনা করে।

মুখে কেউ বলুক বা না বলুক, মন থেকে সবাই চায় নিজেকে সুন্দর করে তুলতে। নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করে গেলে নিজেকে সুন্দর করে তোলা খুব কঠিন বিষয় নয়।

বিভিন্ন ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে নিজেকে করে তোলা যায় সুন্দর ও আকর্ষণীয়। 

হাতের কাছে থাকা ঘরোয়া উপাদান গুলোর সঠিক ব্যবহার জানলে রূপচর্চা নিয়ে টেনশনের কোনো কারণ থাকে না।

ঘরোয়া উপাদানে ত্বকের যত্ন করলে সাইড ইফেক্ট-এরও কোনো চান্স থাকে না।

তাইতো বর্তমান ফ্যাশন এক্সপার্টরা ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে ত্বকের যত্ন নিতে উৎসাহিত করেন।

১. বেসন

ত্বকের জেল্লা ধরে রাখতে ও সান ট্যান দূর করতে বেসনের কার্যকারিতা অনেক বেশি। বেসন খুব ভালো ক্লিনজিং এর কাজ করে।

তাই বাইরে থেকে এসে বেসনের ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর হবে এবং ত্বক হয়ে উঠবে আরও প্রানবন্ত।

রূপচর্চায় বেসনের ব্যবহার হয়ে আসছে সেই প্রাচীন কাল থেকেই। বর্তমান সুপার স্টার তারকারাও তাদের নিয়মিত রূপচর্চায় বেসনের ব্যবহার করে থাকেন।

বেসন মুখের অতিরিক্ত অয়েল দূর করে ত্বককে ব্রনের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। 

বেসন ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং ঝুলে পড়া রোধ করে ত্বককে টানটান করে তুলে।

৩ টেবিল চামচ হলুদ এবং ৩ টেবিল চামচ টক দই নিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করে মুখে, হাতে ও ঘাড়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে নিতে হবে।

এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা খুব সহজেই সবার নজর কাড়বে।

২. অ্যালোভেরা 

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি উদ্ভিদ যা আমাদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে ত্বককে করে তোলে উজ্জ্বল ও সুস্থ।

অ্যালোভেরায় আছে ভিটামিন বি, সি ও এ- যা ত্বকের পুষ্টি যোগায়। অ্যালোভেরায় থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের রোগ জীবানুর বিরুদ্ধে লড়াই করে, ফলে ব্রনের সমস্যা দূর হয়।

অ্যালোভেরায় থাকা হিলিং উপাদান ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে রোদে পোড়া ভাব ও ত্বকের জ্বালাপোড়া দূর হয়।

ঘরোয়া উপাদান

রোদ থেকে এসে অ্যালোভেরা মাস্ক ব্যবহার ত্বকের জন্য খুব উপকারী। 

অ্যালোভেরা পাতা নিয়ে খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের জেল বের করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

দুই চামচ অ্যালোভেরা জেল এর সাথে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্রণ ও ব্রণ থেকে তৈরি হওয়া দাগ ছোপ দূর হবে।

৩. দুধ

রূপচর্চায় দুধের ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক আগে থেকেই। কাঁচা দুধে আছে ভিটামিন, বায়োটিন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ল্যাকটিক অ্যাসিড, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম ও প্রোটিন।

এসকল পুষ্টি উপাদান ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে সারিয়ে তোলে। দুধের সর ড্রাই স্কিনের সবথেকে ভালো ময়েশ্চারাইজার।

দুধে থাকা ভিটামিন ডি ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের পুরোনো জেল্লা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে এবং ভিটামিন সি ত্বকের দাগ কমাতে সাহায্য করে।

কাঁচা দুধ ত্বকের ক্লিনজিং এর কাজ করে, এটি মেক-আপ রিমুভ করতেও ব্যবহার করা হয়। 

একটি পাত্রে কিছুটা কাঁচা দুধ নিয়ে তার সাথে সামান্য হলুদ গুড়ো ও গোলাপ জল মিশিয়ে তুলোর সাহায্যে পুরো মুখে ও গলায় লাগিয়ে নিতে হবে।

পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেললেই দেখা যাবে ত্বকের অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে।

নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হবে ধীরে ধীরে ফর্সা ও দাগমুক্ত। 

৪. ঘরোয়া উপাদান শসা 

শসা আমাদের ত্বকের জন্য কতোটা উপকারী তা কমবেশি সবাই জানি।

শসার প্রায় ৯০ শতাংশই পানি৷ এতে আছে ভিটামিন সি ও ভিটামিন কে যা আমাদের ত্বকের দাগ ছোপ দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে মসৃন রাখে।

ত্বকের বলিরেখা দূর করতে এবং চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে শসার কার্যকারিতা সবথেকে বেশি।

ঘরোয়া উপাদান

শসার রস আমাদের ত্বকের টোনার হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত শসা দিয়ে রূপচর্চা করলে মুখের ত্বক ও শরীরের রং ফর্সা হয়। তবে জানতে হবে শসা ব্যবহারের সঠিক নিয়ম।

শসা গোল করে কেটে চোখের উপরে দিয়ে রাখলে চোখের নিচের কালো দাগ কমবে।

শসার রস তুলো দিয়ে মুখে এপ্লাই করলে ত্বকের রোদে পোড়া দাগ দূর হবে এবং বলিরেখা দূর হবে।

ত্বকের রং ফর্সা করতে চাইলে শসার রস ও লেবুর রস মিক্স করে ত্বকে এপ্লাই করে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলতে হবে।

৫. মসুর ডাল 

তৈলাক্ত ত্বক থেকে শুরু করে ড্রাই স্কিন -সব ধরনের ত্বকের জন্যই মসুর ডাল গুরুত্বপূর্ণ স্কিন কেয়ার উপাদান হিসেবে কাজ করে।

প্রতিদিনের ব্যবহৃত ফেসপ্যাকে মসুর ডাল রাখলে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ও ত্বককে আরও বেশি ফর্সা করতে অনেক বেশি কাজে আসবে।

মসুর ডাল কমবেশি সবার বাড়িতেই থাকে তাই নিয়মিত ব্যবহার করা যেতে পারে।

মসুর ডাল ধুয়ে ভিজিয়ে ব্লেন্ড করে অথবা শিল পাটায় বেটে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে।

তার সাথে লেবুর রস ও এজটু হলুদ গুড়ো মিক্স করে থকথকে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে।

মুখে এপ্লাই করে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত রেখে ধোয়ার সময় হালকা পানি দিয়ে ম্যাসাজ করে উঠিয়ে ফেলতে হবে।

এই ফেসপ্যাকটি প্রতিদিন গোসলের আগে নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক ফর্সা হতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

৬. ঘরোয়া উপাদান মধু

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে মধুর ব্যবহারের কথা পাওয়া যায় একদম প্রাচীন যুগ থেকেই।

প্রাকৃতিক উপাদান গুলোর মধ্যে মধু সবথেকে কার্যকরী ও সাইড ইফেক্ট মুক্ত একটি রূপচর্চার উপাদান।

ড্রাই স্কিন থেকে শুরু করে তৈলাক্ত ও ব্রন যুক্ত ত্বক- সব ধরনের স্কিনের জন্যই মধু গুরুত্বপূর্ণ।তবে স্কিন অনুসারে মধুর ব্যবহার হবে ভিন্ন ভিন্ন। 

ঘরোয়া উপাদান

ব্রন যুক্ত তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মধুর সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে তুলসি পাতার রস।

তুলসি পাতার রস ও মধু মিক্স করে মুখে লাগিয়ে বিশ মিনিট রাখতে হবে। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

এই প্যাকটি সপ্তাহে ২/৩ দিন নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রনের সমস্যা সমাধান হবে এবং ত্বকের অয়েল কনট্রোল হবে।

ড্রাই স্কিনের জন্য চন্দন গুঁড়োর সাথে মধু মিশিয়ে নিয়মিত ব্যবহারের ফলে এটি ত্বকের ময়েশ্চার লক করবে এবং ত্বককে করে তুলবে ভেতর থেকে উজ্জ্বল।

এক চামচ চন্দন গুঁড়ো, এক চামচ মধু ও এক চামচ গোলাপজল মিশিয়ে প্রতিদিন ফেসপ্যাক হিসেবে মুখে ব্যবহার করতে হবে। 

৭. ঘরোয়া উপাদান চালের গুঁড়ো

ত্বকের যত্নে নিয়মিত চালের গুঁড়ো বা চালের আটা ব্যবহারে মুখের রং হয় কয়েক শেড পর্যন্ত ফর্সা এবং সেই সাথে ত্বকের সব ধরনের দাগ কমতে থাকে।

চালের গুঁড়ো ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং ত্বকের ঝুলে পড়া রোধ করে।

রোদে পোড়া ত্বক ঠিক করে ও ক্ষতিগ্রস্থ ত্বককে ঠিক করতে চালের আটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  

চালের আটার সাথে মুলতানি মাটি, মধু ও লেবুর রস মিক্স করে ফেসপ্যাক হিসেবে প্রতিদিন ব্যবহার করলে ত্বক হবে অনেক বেশি উজ্জ্বল ও কমবে ব্রনের সমস্যা। 

যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে:

ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের ফলে কোনো সাইড ইফেক্ট হয় না এবং এর ফলেই এই সব উপাদান আমাদের ত্বকে খুব ধীরে ধীরে কাজ করে।

তাই যে কোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করা শুরু করলে অবশ্যই নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।

নিয়মিত বেশ কিছুদিন ব্যবহার করলে বেশ ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে এবং ত্বকের কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই ত্বক হয়ে উঠবে সুন্দর, সুস্থ ও সতেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment

Name

Home Shop Cart Account
Shopping Cart (0)

No products in the cart. No products in the cart.