infixnatural.com/

রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড

রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড

রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সম্পূর্ণ ভাবে ন্যাচারাল একটি মৌলিক উপাদান। প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ার কারণে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

রিসার্চ গেটের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী গত এক দশকে এই চন্দনের চাষ প্রায় দিগুণ হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের জনপ্রিয় বেশিরভাগ রুপচর্চার ক্রিম এবং ফেইস প্যাকের মৌলিক উপাদান এটি

চন্দন বা স্যান্ডেলউড একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা এক জাতীয় গাছের কাঠ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এই চন্দন বা স্যান্ডেলউড মূলত ত্বকের যত্ন এবং রুপচর্চার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

প্রাচীন কাল থেকে রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রাকৃতিক রূপ চর্চা হিসেবে চন্দন বা স্যান্ডেলউড ইতিহাসের পাতায় সুপরিচিত। 

ত্বকের যত্ন এবং রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড অত্যন্ত কার্যকারী একটি উপাদান। চন্দন একটি  প্রাকৃতিক উপাদান, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

চন্দনের ব্যবহার ত্বককে সান ড্যামেজ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে এবং তার প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।

চন্দন দেশি বিদেশি নামই দামি বেশিরভাগ রূপ রুপচর্চার ক্রিমে বা ফেইস প্যাকের মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

আর্টিকেলটির মাধ্যমে যে সকল বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন –

  • রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড
  • আসল চন্দন চেনার উপায়।
  • চন্দন ব্যবহারের নিয়ম।
  • সাদা ও লাল চন্দনের মধ্যে পার্থক্য। কোনটি বেশি উপকারী?
  • ব্রনের সমস্যা সমাধানে চন্দন কি উপকারী?
  • চন্দন ভিত্তিক ১১টি কার্যকরী ফেসপ্যাক
  • চন্দন ব্যবহারের সতর্কতা।
  • উপসংহার।

রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড কি কাজে লাগে?

  • চন্দন বা স্যান্ডেলউড ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, যা ত্বককে আরও বেশি স্বাস্থ্যকর ও রূপবতী করে তোলে। তাছাড়া কেমিক্যাল মেশানো কোন ক্রিমের পরিবর্তে যারা অরগানিক রূপ চর্চা করতে চান, তাদের জন্য চন্দনই সেরা।
  •  কেমিক্যাল বা রাসায়নিক যুক্ত ক্রিম বা ফেইস প্যাক ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে, সে ক্ষেত্রে ন্যাচারাল স্কিন কেয়ার হিসেবে চন্দন ব্যবহার বেশ কার্যকারী ভূমিকা রাখতে পারে।
  • চেহারায় স্ট্রেস মার্ক বা ডার্ক সার্কেলের প্রভাব কমিয়ে ত্বকের পুনরুত্থান ঘটানোর জন্য এবং লাবণ্য ফিরে পেতে চন্দন খুব উপযোগী একটি বস্তু।
  • রোদে পুড়ে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে, সে ক্ষেত্রে চন্দনের ব্যবহার সান ড্যামেজ থেকে ত্বককে বাঁচাতে পারে এবং ত্বকের উপর সূর্যের প্রভাবকে কমাতে পারে।
  •  তাছাড়াও চন্দন একটি সুগন্ধি যুক্ত উৎপাদন, যা দিয়ে সুগন্ধি বানানো হয়। চন্দনের সুগন্ধ মানুষিক সুস্থতা প্রদান করতে সাহায্য করতে পারে।

আসল চন্দন চেনার উপায়

বাজারে সব কিছুতেই ভেজাল, তাই আসল চন্দন চেনা খুব কঠিন। অবিজ্ঞ লোকের কাছেও মাঝে মাঝে, আসল আর নকল চন্দনের মাঝে পার্থক্য বের করা বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। আসল চন্দন চেনার কিছু উপায় হলো;

  • চন্দন কাঠের গায়ে ছুরি বা ব্লেড দিয়ে আঁচড় দিয়ে দেখুন। আসল চন্দনের গায়ে কোনো কিছু দিয়ে আঁচড় দিলে, সেই স্তর নরম হয়ে যায়। এবং সেই স্তর খুব সহজভাবে চিহ্নিত করা যায়।
  • চন্দন কাঠের ঘ্রাণ বেশ করা, একবার হাতে নিলে সমস্ত হাত ঘ্রাণে ভরে যাবে। এমনকি আপনার চারপাশ তখন এই চন্দনের সুগন্ধি দিয়ে ভরে যাবে। তাই আসল চন্দন চেনার সেরা উপায় হলো তার ঘ্রাণ চেক করা।
  • প্রকৃত চন্দন কাঠ বেশ ভারী এবং হালকা খসখসে জাতীয় হয়। 
  • এছাড়াও প্রকৃত চন্দনের গায়ে লাইসেন্স লাগানো থাকে, যা দেখে তার কোয়ালিটি এবং দাম বোঝা যায়। 

চন্দন ব্যবহারের নিয়ম

চন্দন ঠিকভাবে ব্যবহার ও সংরক্ষণের কিছু নিয়ম আছে, যা সঠিকভাবে না করলে, আপনি সম্পূর্ণভাবে চন্দনের উপকারিতা উপভোগ করতে পারবেন না।

  • চন্দন ব্যবহারের আগে, যে স্থানে বা শরীরের  যে অংশে সেটি ব্যবহার করবেন তা ভালো ভাবে পরিষ্কার করুন। সাধারণত হাত-পা, মাথা, গলা, দেহ, ইত্যাদি স্থানে, চন্দন লাগানো হয়।
  • সাধারণত রুপচর্চার কাজে ব্যবহৃত চন্দন দুই প্রকারের হয়ে থাকে একটি হচ্ছে পাউডার চন্দন এবং অন্যটি তরল চন্দন। চুলে দাওয়ার জন্য তরল পদের চন্দন ব্যবহার হয়, গলায় বা মুখে মাখার জন্য পাউডার চন্দনের ব্যবহার হয়। তাই যে অংশে ব্যবহার করবেন, সেটা বুঝেই চন্দনের পদ বিবেচনা করুন।
  • চেহারায় চন্দন পাউডার ব্যবহার করার সময় অবশ্যই চোখ বন্ধ রাখবেন, তা না হলে চোখের ভেতরে চন্দনের পাউডার প্রবেশ করলে চোখে জেলা পড়া হতে পারে।
  • চন্দন প্রয়োগের কাজ শেষ হলে, সেটি ভালোভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময় সেটি আবারও ব্যবহার করা যায়। পাউডার চন্দন হলে, সেটিকে কোন শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করতে পারেন এবং তরল চন্দন হলে, সেটিকে ঠান্ডা স্থানে রাখতে হবে।

সাদা ও লাল চন্দনের মধ্যে পার্থক্য?

সারা বিশ্বে নানা জাতের চন্দন রয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে সাদা চন্দন এবং লাল চন্দনের জনপ্রিয়তা সব থেকে বেশি। ব্যবহার ভেদে এদের গুরুত্বও বেশি।

রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মৌলিক উপাদান, তবে চন্দন শুধু রূপ চর্চার কাজে নয়, আরও অনেক কাজে এটি ব্যবহার হয়।

সাদা চন্দন:

  • সাদা চন্দনের কাঠগুলি ওজনে ভারী, হলুদ রঙের, সূক্ষ্ম দানাদার। কিন্তু এই কাঠ অন্যান্য অনেক সুগন্ধযুক্ত কাঠের মতো নয়, সাদা চন্দন বছরের পর বছর জুড়ে তার সুবাস ধরে রাখতে পারে। 
রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড
  • রূপ চর্চা, ঠান্ডা নিরাময় সহ সুগন্ধি, সাবান সহ নানা জাতের ঔষধ বানাতে সাদা চন্দনের ব্যবহার হয়। অরগানিক স্কিন কেয়ার সামগ্রী বানাতে এর বিশেষ চাহিদা রয়েছে।

লাল চন্দন বা রক্ত চন্দন:

  • লাল চন্দনের কাঠ অত্যন্ত শক্ত হয়, এই গাছের প্রচুর সূর্যালোক এবং উষ্ণ জলবায়ু প্রয়োজন হয়। ঠান্ডা বা হিমশীতল জায়গায় বাঁচতে পারে না।
রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড
  •  এই গাছের ছাল গাঢ় ধূসর রঙের এবং এই ধরনের গাছে কোন সুগন্ধি থাকে না। তবে সাদা চন্দনের মতো লাল চন্দনের মধ্যে রয়েছে ঔষধই গুনা বলি।
  •  লাল চন্দন জীবাণু ধ্বংস করে ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে, তাছাড়া চুলকানির ক্ষেত্রে এটি দারুণ কার্যকরী।

সাদা চন্দন এবং লাল চন্দন উভয়ই নিজ নিজ কাজে বেশ উপকারী, তবে গুণের দিক থেকে লাল চন্দনের ভূমিকা বেশি, তাই এর জনপ্রিয়তা ও দাম ও বেশি।

ব্রনের সমস্যা সমাধানে চন্দন কী উপকারী?

ব্রণ সমস্যার সমাধানে চন্দন কিছুটা সাহায্য করতে পারে, তবে এটি কোন মৌলিক চিকিৎসা নয়। চন্দন ত্বকের তেলতেলে ভাব কমিয়ে ব্রণ ও র‍্যাশ কমাতে সাহায্য করে।

তবে চন্দন সম্পূর্ণ ভাবে ব্রণ সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম নয়।

চন্দন ভিত্তিক ১১টি কার্যকরী ফেসপ্যাক

উজ্জ্বলতার জন্য হলুদ-চন্দনের ফেইস প্যাক;

ক) উপাদান: চন্দন, হলুদ এবং তরল দই।

খ) তৈরির নিয়ম: এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে সামান্য পরিমাণে চন্দন এবং হলুদ, তরল দইয়ের সাথে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে ফেলুন।

গ) ব্যবহার: এইবার আপনার বানানো পেস্টটি আপনার মুখে লাগিয়ে নিন এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, ফেইস প্যাকটি সম্পূর্ণ ভাবে শুকিয়ে গেলে, পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্রণের সমস্যার জন্য নিম আর চন্দনের ফেইস প্যাক

ক) উপাদান: নিম পাউডার, চন্দন পাউডার এবং পানি।

খ) তৈরির নিয়ম: এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে সমপরিমাণে নিম পাউডারের সঙ্গে চন্দন পাউডার মিশিয়ে তাতে পানি মিশান, এবং পেস্ট বানিয়ে ফেলুন।

গ) ব্যবহার: ব্যবহারের সময় ধীরে ধীরে এই ফেইস প্যাকটি মুখে মেখে নিন এবং সম্পূর্ণ ভাবে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

একবার ফেইস প্যাকটি শুকিয়ে গেলে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

দুধ আর চন্দনের ফেইস প্যাক

ক) উপাদান: তরল দুধ আর চন্দন পাউডার।

খ) তৈরির নিয়ম: এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে দুধের সঙ্গে সামান্য পরিমাণে চন্দন পাউডার মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন।

গ) ব্যবহার: ব্যবহার করার সময় সেই পেস্ট ধীরে ধীরে আপনার মুখে লাগান। মুখে মেখে, যতক্ষণ না পেস্টটি একেবারে শুকিয়ে যাচ্ছে ততক্ষণ রেখে দিন।

একবার শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।এই প্যাকটি ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

চন্দন আর গোলাপ জলের ফেইস প্যাক

ক) উপাদান: চন্দন পাউডার এবং গোলাপ জল।

খ) তৈরির নিয়ম: এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে সামান্য পরিমাণে চন্দন পাউডারের সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে ফেলুন।

রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড

গ) ব্যবহার: এইবার ব্যবহারের সময়, পেস্টটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন এবং পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

বেসন আর চন্দনের ফেইস প্যাক

ক) উপাদান:চন্দনের পাউডার, বেসন আর তরল দুধ।

খ) তৈরির নিয়ম: এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে সমপরিমাণে বেসন আর চন্দন পাউডার নিয়ে নিন, এবং এক সঙ্গে মিলিয়ে পানি অথবা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলুন।

গ) ব্যবহার: ব্যবহার করার জন্য আপনার বানানো পেস্টটি মুখে লাগান এবং মাখার পরে ২০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। পেস্টটি শুকিয়ে গেলে, পানি দিয়ে ভালো ভাবে ধুয়ে ফেলুন।

আপনার যদি মুখ থেকে চামড়া উঠে থাকে, তাহলে এই প্যাকটি আপনার জন্য।

চন্দন ও অ্যালোভেরার ফেইস প্যাক

ক) উপাদান: চন্দনের পাউডার আর অ্যালোভেরা জেল।

খ) তৈরির নিয়ম: এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে ১ চামচ চন্দন পাউডারের সঙ্গে সামান্য অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন এই পেস্টটি।

গ) ব্যবহার: ব্যবহার করার জন্য এই প্যাকটি লাগিয়ে ফেলুন মুখে, এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে, পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এই প্যাকটি মুখের দাগ এবং পোড়াভাব কমাতে সাহায্য করে।

চন্দন, নারকেল তেল ও আমন্ড তেলের ফেইস প্যাক

ক) উপাদান: চন্দন, নারকেল তেল এবং আমন্ড তেল।

খ) তৈরির নিয়ম: এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে ১ চা চামচ চন্দনের গুঁড়ো, ১/৪ চা চামচ নারকেল তেল, ১/৪ চা চামচ আমন্ড অয়েল ও সামান্য পরিমাণ গোলাপ জল মিশিয়ে একটি প্যাক বানিয়ে নিন।

রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড

গ) ব্যবহার: ব্যবহার করার সময় সেই প্যাকটি গলায়-মুখে মেখে নিয়ে  ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ২০ মিনিট পর আপনার মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা দূর করে ময়েশ্চার ফিরিয়ে আনে এই প্যাক।

চন্দন, টমেটো রস ও মুলতানি মাটির ফেইস প্যাক

ক) উপাদান: চন্দন, টমেটোর রস, মুলতানি মাটি আর গোলাপ জল।

খ) তৈরির নিয়ম:এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে ১/২ চা চামচ চন্দনের গুঁড়ো, ১/২ চা চামচ টমেটো রস, ১/২ চা চামচ মুলতানি মাটি ও সামান্য পরিমাণে গোলাপ জল মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। 

গ) ব্যবহার: ব্যবহার করার জন্য পেস্টটি মুখে-গলায় লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। পেস্টটি শুকিয়ে যাওয়ার পর বরফ পানিতে তুলো ভিজিয়ে নিয়ে মুখ ও গলা পরিষ্কার করুন।

মুখের অতিরিক্ত তেল ও ময়লা পরিষ্কার করতে এই প্যাক খুবই কার্যকরী।

চন্দন ও কমলার ছালের ফেইস প্যাক

ক) উপাদান: চন্দনের পাউডার, কমলার ছাল আর গোলাপ জল। 

খ) তৈরির নিয়ম: এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে ১ চা চামচ চন্দনের গুঁড়ো, ১ চা চামচ কমলার ছালের পেস্ট ও ১/২ চা চামচ গোলাপ জল একসঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট  বানিয়ে ফেলুন।

গ) ব্যবহার: ব্যবহার করার জন্য, পেস্টটি মুখে-গলায় মেখে ২০ মিনিট রেখে দিন। ২০ মিনিট পরে, পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।স্কিনের গ্লো বাড়াতে এই প্যাকটি সাহায্য করে।

চন্দন ও মধুর ফেইস প্যাক

ক) উপাদান: চন্দনের পাউডার আর মধু।

খ) তৈরির নিয়ম: এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে ১ চা চামচ চন্দনের গুঁড়ো নিন এবং তাতে আপনার প্রয়োজন মতো মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।

গ) ব্যবহার: ব্যবহার করার জন্য এই পেস্টটি আপনার মুখে, গলায় এবং ঘাড়ে লাগিয়ে নিন এবং হালকা হাতে আপনার ত্বকে ম্যাসাজ করুন।

তারপর ১৫-২০ মিনিট এভাবেই রেখে দিন। ১৫-২০ মিনিট পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।ত্বক উজ্জ্বল করার জন্য এই প্যাকটি বেশ উপকারী। 

চন্দন এবং ডাবের পানির ফেইস প্যাক

ক) উপাদান: চন্দনের পাউডার ও একটি ডাব।

খ) তৈরির নিয়ম: এই ফেসপ্যাকটি তৈরি করতে ১ চামচ চন্দনের পাউডার নিন এবং তাতে সামান্য পরিমাণে ডাবের পানি মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। 

গ) ব্যবহার: ব্যবহার করার জন্য, পেস্টটি আপনার  ত্বকের ওপর লাগিয়ে নিন এবং ১৫-২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। ২০ মিনিট পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আপার যদি ঘরে ফেইস প্যাক বানানোটা ভেজাল বা কষ্ঠকর মনে হয় সে ক্ষেত্রে আপনি বাড়িতে বসে রেডিমেড প্যাক কিনতে পারবেন।

যেমন: রিবানার চন্দনের ফেইস প্যাক, আড়ংয়ের চন্দনের ফেইস প্যাক অথবা আয়ুরের চন্দন ফেইস প্যাক। ত্বক উজ্জ্বল করার জন্য এই প্যাকটি বেশ উপকারী।

রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড ব্যবহারে সতর্কতা

  • অজানা কোনো সূত্র থেকে চন্দন না এনে কোন পরিচিত সূত্র থেকে চন্দন ক্রয় করুন। 
  • ব্যবহারের সময় চোখ ও মুখ বন্ধ রাখুন।
  • চন্দনের ব্যবহারের পর আপনি যদি কোনও রকমের অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া অথবা কোনও অসুস্থতা অনুভব করেন, তখন দেরি না করেই চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
  • সঠিক তথ্য জেনে, চন্দনের ফেইস প্যাক ব্যবহার করুন।
  • অতিরিক্ত মাত্রায় চন্দন মুখে বা গলায় লাগাবেন না।

উপসংহার

রুপচর্চায় চন্দন বা স্যান্ডেলউড একটি কার্যকারী সমাধান। চন্দন একটি বহু উপকারী বস্তু যা রূপচর্চা থেকে শুরু করে, সাবান, সুগন্ধি সহ আরও নানা কাজে এর ব্যবহার হয়ে থাকে।

তাই বাণিজ্যিক এবং রুপচর্চার কাজে চন্দন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বস্তু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment

Name

Home Shop Cart Account
Shopping Cart (0)

No products in the cart. No products in the cart.