নিজেকে স্মার্ট রাখার পূর্ব শর্ত নিজের ত্বকের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং রেগুলার স্কিন কেয়ার করা। শুধু সুন্দর সুন্দর পোষাক আর ভালো ব্রান্ডের মেকআপ করলেই স্মার্ট হওয়া যায় না।
ত্বকের সুস্থতা ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে প্রতিদিন নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিতে হবে।
ফলে চেহারার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অব্যাহত থাকবে এবং নিজেকে আরও বেশি সুন্দর ও প্রানবন্ত লাগবে।যাচ্ছেতাই প্রোডাক্ট মুখে ঘসাঘসি করলেই কিন্তু ত্বকের যত্ন নেয়া হয় না।
স্কিন কেয়ার এর জন্য রেগুলার একটা রুটিন থাকা চাই এবং সেই সাথে স্কিন কেয়ার সম্পর্কে যথাযথ ধারণা থাকা চাই।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ত্বকের যত্নে কি কি করা উচিত তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. মর্নিং স্কিন কেয়ার রুটিন
আমরা অনেকেই তারাহুরোয় সকালের স্কিন কেয়ারের প্রতি খুব বেশি গুরুত্ব দেই না। কিন্তু সকাল থেকে ত্বকের যথাযথ পরিচর্যা না করতে পারলে সারাদিন আমাদের ত্বক নির্জীব ও রুক্ষ লাগতে পারে।
তাই সকাল থেকেই ত্বকের যত্নে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে। সেজন্য চাই একটা নির্দিষ্ট মর্নিং স্কিন কেয়ার রুটিন।
সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম কাজ হবে ত্বক পরিষ্কার করা। রাতের স্কিন কেয়ার ক্রিম বা অন্যান্য প্রডাক্ট সারারাত মুখে এপ্লাই করা থাকে, ফলে স্কিন এর উপরে একটা আলাদা স্তর থেকে যায়। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো ব্রান্ডের ফেসওয়াশ দিয়ে পুরো মুখ একদম ক্লিন করে নিতে হবে।
সকালে একদম মাইল্ড একটা ফেসওয়াশ ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।
কেননা হার্ড ফেসওয়াশ সকাল সকালই ত্বকের ন্যাচারাল অয়েল দূর করে ত্বককে খুব বেশি রুক্ষ করে দিতে পারে।
তাই এমন ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উচিত যা ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চার শুষে না নেয়।
ত্বকের ক্লিনজিং এর পরে ড্রাই স্কিন এর জন্য ময়েশ্চার লক সিরাম বা টোনার এবং ওয়েলি স্কিন এর জন্য অয়েল কনট্রোল সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।
এটা অপশনাল, করতে পারলে ভালো না করতে পারলে স্কিপ করা যেতে পারে।
এরপর চলে আসতে হবে মেইন স্টেপে। ত্বক ড্রাই হোক বা অয়েলি ক্লিনজিং এর পর মুখে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করতেই হবে।
ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ত্বকের প্রটেকশন হিসেবে কাজ করে। ফলে পলিউশন, ডাস্ট সরাসরি ত্বকে এসে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে না।
সকাল সকাল বাইরে যাওয়ার হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন।
২. বাইরে থেকে এসে স্কিন কেয়ার
বেশ কিছুক্ষণ বাইরে থাকলে চারদিকের ধূলো, ময়লা, রোদ আমাদের ত্বককে একেবারেই নির্জীব করে ফেলে। ত্বকের সজীবতা ফিরিয়ে আনতে বাহির থেকে আসার সাথেই ত্বক পরিষ্কার করতে হবে।
যারা মেকআপ করে বাইরে বের হন তাদের অবশ্যই মেকআপ রিমুভার বা অলিভ অয়েল দিয়ে মিকআপ রিমুভ করে ফলতে হবে৷

মেকআপ রিমুভ করার পর রেগুলার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফলতে হবে। সবথেকে বেশি ভালো হয় একটা শাওয়ার নিয়ে ফেলতে পারলে৷
যেহেতু প্রচুর রোদে ত্বকে কিছুটা কালচে ভাব চলে আসে তাই ত্বক ক্লিন করে যে কোনো রেগুলার ফেস প্যাক লাগিয়ে নিলে ভালো হয়।
এতে করে ত্বকের যে ইনস্ট্যান্ট ড্যামেজ বা কালচে ভাব হয় তা রিমুভ হয়ে যাবে এবং ত্বক প্রানবন্ত লাগবে।
ফেসপ্যাক লাগিয়ে খুব বেশি গরম ওয়েদার থাকলে শরবত এবং শীতের মৌসুম হলে নরমাল পানি পান করে নিতে হবে।
বাহির থেকে ফিরলে আমাদের শরীর অনেকটা হাইড্রেট হয়ে যায়, ফলে ত্বক নির্জীব হয়ে পড়ে। তাই ত্বকের উজ্জ্বলতা ও সুস্থতা ধরে রাখতে পানি পান করার বিকল্প কিছু নেই।
বাইরে থেকে এসে ফ্রেশ না হয়ে কখনোই শুয়ে পড়া উচিত না বা ঘুমিয়ে যাওয়া উচিত না। মুখে একগাদা পলিউশন ও ধুলোবালি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে এগুলো আমাদের ত্বকের সাথে মিশে ব্রন থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্কিন ডিজিস সৃষ্টি করতে পারে।
৩. ডেইলি ফেসপ্যাক
ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এবং ত্বককে আরও বেশি গ্লোয়িং করতে ফেসপ্যাক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দিনে অন্তত একবার সময় করে মুখে ফেসপ্যাক ব্যবহার করা উচিত।
বাইরে থেকে আসলে ত্বকের অবস্থা যখন একদমই নির্জীব হয়ে পড়ে তখন ফেসপ্যাক ত্বককে করে তুলবে প্রানবন্ত ও হেলদি। তাছাড়া দিনের যে কোনো সময়ই ফেসপ্যাক এপ্লাই করা যেতে পারে।

বিশেষ করে রাতের স্কিন কেয়ার রুটিনে ফেসপ্যাক এর অপশন রাখলে ভালো হয়।
বাজারে বেশ কিছু ব্রান্ডের ফেসপ্যাক পাওয়া যায়। পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো ব্রান্ড এর ফেসপ্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে সবথেকে ভালো ব্রান্ডের পণ্যটিই বেছে নেয়া উচিত।চাইলে বাড়িতেও তৈরি করে নেয়া যাবে পছন্দের ফেসপ্যাক।
প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘরে তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না এবং খরচও তুলনামূলক কম হয়।
ঘরোয়া কয়েকটি হোম মেড ফেসপ্যাক তৈরির পদ্ধতি
চালের গুড়ো, একটু হলুদ গুড়ো, মধু, লেবু ও গোলাপজল একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর মুখে ও গলায় এপ্লাই করে ২০/৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে ১মাসের মধ্যেই ত্বকে গ্লোয়িং ভাব চলে আসবে এবং ত্বক সুস্থ থাকবে।
যে কোনো ত্বকের জন্য এই ফেসপ্যাকটি কার্যকরী। তবে অনেকেরই লেবুতে এলার্জি আছে, তাদের ক্ষেত্রে লেবুর রস স্কিপ করা যেতে পারে।
ত্বকের অতিরিক্ত অয়েল দূর করতে বেসন,মসুর ডালের গুড়ো, শসার রস, লেবু, গোলাপজল একসাথে মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বকের তেলতেলে ভাব চলে যাবে। ফলে মুখ দেখতে লাগবে একদম ফ্রেশ ও উজ্জ্বল।
তৈলাক্ত মুখে ব্রন ও ফুসকুড়ি বেশি আক্রমণ করে তাই তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে একটু বেশিই গুরুত্ব দেয়া দরকার।
প্রয়োজনে দিনে দু বার এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন।
এতোকিছু ঝামেলা না করতে চাইলে শুধু মুলতানি মাটির সাথে একচিমটি হলুদ গুড়ো ও গোলাপজল মিশিয়ে গোসলের আগে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেও মুখের অয়েল কনট্রোল হয়।
যাদের ত্বক একেবারে ড্রাই এবং খসখসে তাদের জন্য মোক্ষম অস্ত্র হলো দুধ।
দুধের সর দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ড্রাই স্কিন এর জন্য অনেক কার্যকরী।
দুধের সর, মধু, সামান্য হলুদ গুড়ো বা কস্তুরি হলুদ একসাথে মিশিয়ে নিয়ে মুখে ও গলায় এপ্লাই করতে হবে।

২০/৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেললেই হবে।
নিয়মিত এই প্যাক ব্যবহারে ত্বকের রুক্ষতা অনেকটা কনট্রোলে চলে আসবে।
টিপস:
ফেসপ্যাক লাগানোর আগে অবশ্যই ফেসওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে।
নয়তো মুখের উপরিভাগের জার্মস ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করবে।
সবথেকে বেশি ভালো হয় আগে টোনার ব্যবহার করে নিলে। বাজারে বিভিন্ন ব্রান্ডের টোনার পাওয়া যায়।
অথবা চাইলে শশা, আলু বা টমেটো জুস দিয়ে ঘরেও টোনার তৈরি করে নেয়া যেতে পারে।
মুখের সাথে সাথে গলায় ও হাতে ফেসপ্যাক এপ্লাই করলে ফেস এর ও বডির ব্যালেন্স ঠিক থাকবে।
৪. রাতের স্কিন কেয়ার রুটিন
আমাদের ত্বকের ড্যামেজ ঠেকাতে সবথেকে বেশি কার্যকরী সময় রাত। আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের ত্বকের ড্যামেজ ও সারাদিনের ক্লান্তির ফলে যে ঘাটতি সৃষ্টি হয় তা আস্তে আস্তে ঠিক হতে থাকে।
তাই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই ত্বকের যত্নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রথম কাজ হবে মুখ ভালোভাবে ক্লিন করে নেয়া। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে চাইলে ফেসপ্যাক লাগাতে পারেন।
পরিষ্কার ত্বকে নাইট ক্রিম এপ্লাই করে ঘুমিয়ে পড়লে, সারারাত এটি ত্বকের উপরে কাজ করতে থাকবে। তবে অবশ্যই স্কিন এর জন্য ক্ষতিকর কোনো নাইট ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়।
নিজেকে একটু বেশি সুন্দর ও পরিপাটি রাখতে রেগুলার স্কিন কেয়ার এর কোনো বিকল্প নেই।
তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের সবারই একটা নিজস্ব রেগুলার স্কিন কেয়ার রুটিন থাকা জরুরি।
নিজে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন থাকলে তবেই না পৃথিবীটা সুন্দর লাগবে।



